Maintance

বছরের আলোচিত ১০ স্মার্টফোন

প্রকাশঃ ১:১৭ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:১৮ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৭

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কন্টেন্ট কাউন্সিলর :  চলতি বছর  স্মার্টফোনের ডিসপ্লের আকৃতি বড় হয়েছে, এসেছে বেজেলহীন ফোন।

ক্যামেরার ট্রেন্ডে পাকাপোক্ত আসন গেড়েছে ডুয়েল ক্যামেরা সেটআপ। এমনসব সুবিধা দিলেও বৃদ্ধি পেয়েছে ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের দাম। আর চলতি বছরে বেশ কয়েকটি ডিভাইস বিশ্ববাজার মাতিয়েছে।

বছরের আলোচিত স্মার্টফোনের মধ্যে ১০টি ডিভাইস সম্পর্কে তুলে ধরা হলো প্রতিবেদনে।

আইফোন টেন

প্রতি বছরের মত এবারও আলোচনায় অ্যাপলের আইফোন। চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে উন্মোচন হয় আইফোনের বিশেষ সংস্করণ ‘আইফোন টেন’। এতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর বাদ দিয়ে উন্নতমানের ফেইস রিকগনিশন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। যা রাতের অন্ধকারেরও ব্যবহারকারীকে সনাক্ত করতে পারবে।

সামনে পুরোটা পর্দা রাখায় আইফোন টেন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে হোম বাটন। ফলে পর্দার নীচের অংশ থেকে ওপরের দিকে সোয়াইপ করে হোমে ফেরত আসতে হবে ব্যবহারকারীকে। আর মাল্টিটাস্ক খুলতে হলে ব্যবহারকারীকে নিচ থেকে সোয়াইপ করে কিছুক্ষণ ধরে রাখতে হবে।

আইফোনের এই সংস্করণে ব্যবহার করা হয়েছে এ১১ বায়োনিক প্রসেসর। প্রতিষ্ঠানটি একে বলছে সবচেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত চিপ, যা আগের চেয়ে ৭০ শতাংশ দ্রুতগতিতে কাজ করতে সক্ষম।

৫ দশমিক ৮ ইঞ্চি মাপের সুপার রেটিনা ডিসপ্লে ব্যবহৃত হয়েছে এতে। ৩ জিবি র‍্যামের পাশাপাশি ৬৪ ও ২৫৬ জিবি ইন্টারনাল মেমোরি সংস্করণ রয়েছে ডিভাইসটিতে।

ছবি তোলার জন্য পিছনে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সের ডুয়েল ক্যামেরা ও সামনে রয়েছে ৭ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ফোনটিতে নেই ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাক। ফোনটি মূল্য একা হাজার মার্কিন ডলার।

গ্যালাক্সি নোট ৮

গত বছর গ্যালাক্সি নোট ৭-এর ব্যাটারি বিস্ফোরণ নিয়ে বিপাকে পড়েছিল স্যামসাং। তাই এবার নোট সিরিজের নতুন ফোন নিয়ে গ্রাহকদের আস্থা ফিরে পেতে চেষ্টা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া জায়ান্টটি।

গ্যালাক্সি নোট ৮ ডিভাইসটি এনে সে চেষ্টায় সফলও হয়েছে। চলতি বছর আগস্টে গ্যালাক্সি নোট ৮ উন্মোচন করা হয়।

ডিভাইসটিতে প্রথমবারের মতো ডুয়াল ক্যামেরা যোগ করেছে স্যামসাং। আর নোট সিরিজের সিগনেচার ফিচার ‘এস পেন স্টাইলাস’ও রয়েছে এতে। নোট ৮ স্টাইলাইসের জন্য নতুন কিছু ফিচারও আনা হয়েছে।

গ্যালাক্সি এস৮-এর পর্দাকে ইনফিনিটি ডিসপ্লে দাবি করেছে স্যামসাং। নোট ৮-এও একই ধরনের পর্দা ব্যবহার করা হয়েছে। এটির পর্দার আকার ৬.৩ ইঞ্চি, যেখানে গ্যালাক্সি এস৮ প্লাস-এর পর্দা ৬.২ ইঞ্চি। গ্যালাক্সি এস৮-এর চেয়ে নোট ৮ কিছুটা লম্বা ও চওড়া। আর এস৮ এর গোলাকার কোণাগুলোর চেয়ে এটির পর্দা কিছুটা চার কোণাকৃিতর।

নতুন এই ডিভাইসটিতে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসরের সঙ্গে ৬ জিবি র‍্যাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে, এবার ব্যাটারি নিয়ে বাড়তি সতর্কতার জন্য ব্যাটারির আকার করা হয়েছে ছোট।৩৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি রাখা হলেও তা ব্যাকআপ পাওয়া যাবে যথেষ্ট বলেও দাবি করেছে স্যামসাং।

গ্যালাক্সি নোট ৮-এ স্যামসাংয়ের ভয়েস অ্যাসিস্টেন্ট বিক্সবির জন্য আলাদা বাটন রাখা হয়েছে। দেশের বাজারে ডিভাইসটির মূল্য ৯৪ হাজার ৯০০ টাকা

গ্যালাক্সি এস৮

অনেকটা দুঃসময়ে, চলতি বছর এপ্রিলে গ্যালাক্সি এস৮ নিয়ে হাজির হয়েছে স্যামসাং। এছাড়া উন্মোচন হয় বড় আকৃতির এস৮ প্লাস সংস্করণ।

গ্যালাক্সি এস৮ ও এস৮ প্লাসে যথাক্রমে রয়েছে ৫.৮ ও ৬.২ ইঞ্চি ডিসপ্লে। এটির উপরের দিকে ফ্রন্ট ক্যামেরা ও আইরিশ স্ক্যানার সেন্সর রয়েছে। তবে দুই পাশে ও নিচে নেই অতিরিক্ত কোনো বর্ডার।  প্রায় প্রতিটি ফোনে চিরচেনা একটি হোম বাটন থাকে। এ বাটন অনেক স্যামসাং ভক্তদের কাছেও অপছন্দ ছিল।

ফিজিক্যাল হোম বাটনের বদলে টাচ ক্যাপাসিটির বাটন সংযুক্ত করা হয়েছে নতুন ডিভাইসে। প্রথমবারের মত ফোনটিতে চাইলে ডেক্সটপ মুডে ব্যবহার করা যাবে। এ সুবিধা নিয়ে প্রথমবারের মতো হাজির হয়েছে স্যামসাং।

‘স্যামসাং ডেক্স’ নামের সুবিধাটি ব্যবহারকারীদের অ্যান্ড্রয়েড ডেক্সটপ পিসি ব্যবহারের অভিজ্ঞা দেবে। এটি অনেকটা মাইক্রোসফটের কন্টিয়াম ফিচারের মতই। ডিভাইসটিতে মাত্র ১০ ন্যানোমিটার প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ চিপসেট দেয়া হবে এতে।

গ্যালাক্সি এস৮ ও এস৮ প্লাস ডিভাইসে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৩ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি রয়েছে। ডিভাইস দুইটির মূল্য যথাক্রমে ৭৭ হাজার ৯০০ এবং ৮৩ হাজার ৯০০ টাকা।

ওয়ানপ্লাস ফাইভটি

চলতি বছর নভেম্বর মাসে ওয়ানপ্লাস ফাইভটি বাজারে উন্মোচন করা হয়। ডিভাইসটির সবচেয়ে বড় রদবদল ১৮:৯ অনুপাতের ৬ দশমিক শূন্য এক ইঞ্চি ডিসপ্লে। ফোনটির উপরে ও নিচে বেজেল কমিয়ে ডিসপ্লে সাইজ বাড়ানো হয়েছে; যা ব্যবহারযোগ্যতায় তেমন পার্থক্যের জন্য নয়, বরং ২০১৭ সালের ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মেলাতেই করা হয়েছে।

ডিসপ্লেটি আগের মত ওলেড প্রযুক্তির, তবে রেজ্যুলেশন কিছুটা বাড়িয়ে ২১৬০ x ১০৮০ পিক্সেল করা হয়েছে। তবে অন্যান্য ফিচার, যেমন রিডিং মোড বা ডিসিআই পি৩ কালার প্রোফাইলে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

ক্যামেরায় পরিবর্তন আনা হয়েছে অল্প। ওয়ানপ্লাস ৫-এ পেছনের দুটি ক্যামেরার মাঝে একটিতে ২এক্স অপ্টিক্যাল জুম সমৃদ্ধ লেন্স ব্যবহার করা হয়েছিল, এবার তার বদলে দুটি ক্যামেরাতেই সাধারণ এফ ১.৭ অ্যাপারচার লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে।

ফেইসআইডির মত আলাদা সেন্সর না থাকলেও ওয়ানপ্লাস ফাইভটিতে যুক্ত করা হয়েছে ফেইস রিককগনিশন। সামনের ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর চেহারার ১০০টি পয়েন্ট স্ক্যান করে ফোনটি আনলক করা হবে।

অন্যান্য দিক থেকে ওয়ানপ্লাস ফাইভটি রাখা হয়েছে অপরিবর্তিত। ফলে মূল্যে তেমন প্রভাব পড়েনি, ওয়ানপ্লাস ৫ এর চেয়ে ২০ ডলার বাড়িয়ে ৬৪ জিবি সংস্করণে দাম রাখা হয়েছে ৪৯৯ ডলার।

নকিয়া ৮

এক সময় ক্যামেরা ফোন মানেই নকিয়া–এমনটিই প্রতিষ্ঠিত সত্য ছিল। মাঝে কিছু দিন এ ব্র্যান্ড হারিয়ে গেলেও ৮০৮ পিউরভিউ বা লুমিয়া ১০২০ ফোনগুলোর সঙ্গে অন্য সব ফোনের ক্যামেরার তুলনা করা হতো।

বেশিরভাগ সময়ই দেখা গেছে, কোনো ফোনই এ দুটি ডিভাইসের সঙ্গে ঠিক পেরে ওঠেনি। সেই ধারাবাহিকায় চলতি বছর নকিয়া ৮ উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ক্যামেরা নির্ভর ফোনটির পিছনে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল দুটি ক্যামেরা। স্বল্প আলোতেও এ ফোন খুবই কম নয়েজওয়ালা ছবি তুলতে সক্ষম। উচ্চমানের ২১৬০পি, অপ্টিক্যাল স্টাবিলাইজেশন সমৃদ্ধ ভিডিওর সঙ্গে হাই-ফাই অডিও থাকার ফলে ফোনটি ভিডিও ক্যামেরা হিসেবে দারুন কাজ করবে।

সামনে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ফোনটিতে ডুয়াল ফটো তোলার বিশেষ মোড রয়েছে। ফলে একই ফ্রেমে সামনের ও পেছনের ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও ও চিত্রধারণ দুটোই করা যাবে।

কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫, ২.৫ গিগাহার্জ গতিসম্পন্ন ক্রাইয়ো কোর সমৃদ্ধ অক্টাকোর প্রসেসর। গ্রাফিক্স সুবিধা দিতে রয়েছে অ্যাড্রিনো ৫৪০ জিপিউ এবং ৪ জিবি র‌্যাম। স্টোরেজ সুবিধা দিতে রয়েছে ৬৪ জিবি মেমোরি।

৫.৩ ইঞ্চি, ১৪৪০ x ২৫৬০ রেজুলেশনের কোয়াড-এইচডি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে সমৃদ্ধি ডিভাইসটিতে রয়েছে ৩ হাজার ৯০ এমএএইচ ব্যাটারি। এছাড়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও কোয়ালকম কুইক চার্জ ৩ সাপোর্ট সুবিধা রয়েছে এতে। দেশের বাজরে এটির মূল্য ৪৫ হাজার টাকা।

এলজি ভি৩০

এতে নেই বেজেলহীন ডিসপ্লে, নেই অগমেন্টেড রিয়েলিটি, তবে রয়েছে এ বছরের সেরা ভিডিও ধারণের ক্যামেরা ও সঙ্গীত প্রেমীদের জন্য কোয়াড ড্যাক চালিত হেডফোন জ্যাক।

হাই ডাইনামিক রেঞ্জ ওলেড ডিসপ্লে সমৃদ্ধ এলজি ভি৩০ তৈরি করা হয়েছে সর্বোচ্চ মানের ভিডিও দেখতে, সর্বোচ্চমানের সঙ্গীত শুনতে ও ডিএসএলআর মানের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে। যারা ফোনের স্থলে মাল্টিমিডিয়া পাওয়ার হাউজ কেনার কথা ভাবছেন, এলজি ভি৩০ তাদের জন্য আদর্শ ফোন।

প্রথমবারের মত সকল রিভিউআরদের মন্তব্য এই যে, হাই-ফাই অডিও, আল্ট্রা হাই ডেফিনেশন ভিডিও ও সিনেমা মানের ক্যামেরা সমৃদ্ধ ফোন এটিই প্রথম। তবে এলজির ইন্টারফেস অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে, তবে মূল্যে তা পুষিয়ে যাবে। কেননা এটির মূল্য আইফোন ৮ এর চাইতেও কম।

শাওমি এমএইমিক্সি ২

নানা গুঞ্জনের পর চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে উন্মোচন হয়েছে শাওমির ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস এমআই মিক্স ২। আগের সংস্করণ ও ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মেলাতে এতে রয়েছে বেজেলহীন ডিসপ্লে।

এতে রয়েছে ৫.৫ ইঞ্চি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে। যা ১০৮০*২১৬০ রেজুলেশন সমৃদ্ধ। কোয়ালকম এমএসএম৮৯৯৮ স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ চিপসেটের ডিভাইসটি ৬ ও ৮ জিবি র‍্যামের সংস্করণে বাজারে পাওয়া যাবে।

স্টোরেজের উপর নির্ভর করে ৬৪ জিবি, ১২৮  জিবি ও ২৫৬ জিবির তিনটি সংস্করণে ফোনটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাফিক্স সুবিধা দিতে এতে রয়েছে অ্যান্ড্রেন ৫৪০।

আগে ধারণা করা হয়েছিলো, এতে থাকতে পারে ডুয়েল ক্যামেরা সেটআপ। তবে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ছবি তোলার জন্য ডিভাইসটির পিছনে রয়েছে ফ্ল্যাশ যুক্ত ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। সেলফি ও ভিডিও চ্যাটের জন্য সামনে রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।

অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকছে অ্যান্ড্রয়েড ৭.১ নোগাটের কাস্টমাইজ এমআইইউআই ৯। এতে রয়েছে ৩ হাজার ৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ও কুইক চার্জিং ৩.০ প্রযুক্তি। এছাড়াও আছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ এনএফসি ইত্যাদি সুবিধা। সাদা ও কালো রংয়ে ডিভাইসটি বাজারে পাওয়া যাবে।

ডিভাইসটির সিরামিক বডি যুক্ত বিশেষ সংস্করণের দাম ৪ হাজার ৬৯৯ ইয়েন। ৬ জিবি র‍্যাম ও ৬৪ জিবি স্টোরেজের সংস্করণের মূল্য ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৯৯ চাইনিজ ইয়ান।

রেজার ফোন

বছরের শেষ দিকে, মানে নভেম্বর মাসে নিজেদের প্রথম স্মার্টফোন  উন্মোচন করেছে গেইমিং পণ‍্য ও যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেজার। উন্নত ডিসপ্লে ও কনফিগারেশনের ফোনটি মূলত গেইমারদের লক্ষ‍্য করে আনা হয়েছে ।

ফোনটিতে আছে ৫.৭ ইঞ্চি কোয়াড এইচডি ১২০ হার্টজ রেটের ডিসপ্লে। পুরো অ্যালুমিনিয়াম বডির ফোনটিতে রয়েছে কোয়ালকম স্ন‍্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসর এবং ৮ জিবি র‍্যাম। স্টোরেজ সুবিধার দিতে এতে রয়েছে ৬৪ জিবি ইন্টারনাল মেমোরি। এছাড়া রয়েছে মাইক্রো এসডি কার্ড ব‍্যবহারের সুবিধা।

ছবি তোলার জন‍্য পিছনে রয়েছে ডুয়েল ১২ মেগাপিক্সেল ক‍্যামেরা। যার মধ‍্যে একটি ক‍্যামেরায় ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ল‍েন্স এবং আরেকটিতে রয়েছে জুম লেন্স। সেলফি ও ভিডিও চ‍্যাটের জন‍্য সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেল ক‍্যামেরা। এতে রয়েছে ডুয়েল অ্যাম্পলিফায়ার স্টেরিও স্পিকার। ফলে ডিভাইসটি থেকে প্রিমিয়াম সাউন্ড পাওয়া যাবে।

অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে নোগাট ৭.১.১। ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এতে নেই ৩.৫ এমএম হেডফোন জ‍্যাক। তবে ফোনের সঙ্গে দেওয়া থাকবে ৩.৫ এমএম হেডফোন কনভার্টার। ৪ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব‍্যাটারির ফোনটিতে রয়েছে কুইক চার্জ ৪ প্রযুক্তি।

ডিভাইসটির মূল‍্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০০ মার্কিন ডলার।

প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, বর্তমান বাজারে থাকা ফ্ল‍্যাগশিপ ডিভাইসগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে। তবে স‍্যামসাং, আইফোন ও এলজিসহ অন্যান্যদের সঙ্গে কতটুকু প্রতিযোগিতা করতে পারবে তা সময় বলে দেবে।

গুগলের পিক্সেল ২ ও পিক্সেল এক্সএল

গুগল তাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের ফোন পিক্সেল২ ও পিক্সেল২ এক্সএল উন্মোচন করেছে। ফোন দুটির বিশেষত্ব হলো দুটি ফোনেরই ফ্রন্ট ও ব্যাক ক্যামেরা দিয়ে পোর্ট্রেট মোডে ছবি তোলা যাবে।

পিক্সেল২ ফোনে আছে ৫ ইঞ্চির ডিসপ্লে। ফ্রন্ট ক্যামেরায় আছে ৮ মেগাপিক্সেল আর রিয়ার ক্যামেরায় আছে  ১২ দশমিক ২ মেগাপিক্সেল। সঙ্গে রয়েছে ২৭০০ এমএএইচ ব্যাটারি।

এতে অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ ভার্সন ওরিও ৮.০ ব্যবহার করা হয়েছে। সঙ্গে ১.৯ গিগাহার্টজ অক্টাকোর  প্রসেসর। রেজুলেশন ১০৮০*১৯২০ পিক্সেল। ইর্ন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে আছে ৩২ জিবি।

পিক্সেল২ এক্সএল রয়েছে ৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে। ক্যামেরা, প্রসেসর ও অপারেটিং সিস্টেমে  পিক্সেল২ এর ফিচারগুলোই ব্যবহার করা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে ৩৫২০ এমএএইচ ব্যাটারি। রেজুলেশন ১৪৪০*২৮৮০ পিক্সেল। দুটি ফোনেই থাকছে ৪ জিবি র‍্যাম।

ফোন দুটি পাওয়া যাবে ৬৪ জিবি ও ১২৮ জিবি সংস্করণে। উভয় ফোনেই আছে অক্টাকোর কোয়ালকম স্ন‍্যাপড্রাগনের  ৮৩৬ প্রসেসর ও ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি।

পিক্সেল ২ এর দাম ধরা হয়েছে ৬৪৯ ডলার আর পিক্সেল২ এক্সএলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪৯ ডলার।

তবে দুটি ফোনের একটিতেও কোনো হেডফোন জ্যাক নেই। তাই ব্যবহারকারীদেরকে তারবিহীন হেডফোন ব্যবহার করতে হবে। এর জন্য গুগল আলাদাভাবে বিক্রি করছে পিক্সেল বাডস বা ইউএস বি সি চার্জিং সকেট।

হুয়াওয়ে পি১০

হুয়াওয়ে পি সিরিজের ফোনগুলো সবসময়ই ক্যামেরায় সেরা পারফরমেন্স দেখানোর চেষ্টা করে থাকে। ডুয়াল ক্যামেরার পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত ক্যামেরা নির্মাতা লাইকার ব্র্যান্ডিং থাকায় কারও মনে এ নিয়ে সন্দেহ থাকে না। সেই ধারাবাহিকায় চলতি বছর উন্মোচন করা হয় হুয়াওয়ে পি১০।

ফোনটিতে রয়েছে ৫.১ ইঞ্চি, ১৯২০x ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের আইপিএস–নিও এলসিডি ডিসপ্লে। এতে আছে হাই–সিলিকন কিরিন ৯৬০, ২.৪ গিগাহার্জ গতির ৪টি কর্টেক্স এ৭৩ ও ১.৮ গিগাগার্জ গতির ৪টি কর্টেক্স এ৫৩ কোর সম্বলিত অক্টাকোর প্রসেসের। ৪ জিবি র‌্যাম ও ৩২ অথবা ৬৪ জিবি স্টোরেজ রয়েছে ফোনটিতে।

ডুয়াল ২০ ও ১২ মেগাপিক্সেল লাইকা লেন্সসমৃদ্ধ ব্যাক ক্যামেরা রয়েছে এতে। সেলফির জন্য সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ৩ হাজার ২০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি ও ফাস্ট চার্জিং সুবিধা রয়েছে এতে। দেশের বাজারে ডিভাইসটি পাওয়া যাচ্ছে ৫৬ হাজার ৯০০ টাকায়।

*

*

Related posts/