Maintance

ইন্টারনেটে কর কমানাের ইঙ্গিত মুহিতের

প্রকাশঃ ৯:০৬ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ৯, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:৪৪ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ১০, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আগামী বাজেটে ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মুহিত বলেন,  তরুণরা এখন ইন্টারনেটে অনেক কাজ করছে। মোস্তাফা জব্বার আমারে ইন্টারনেটের উপর থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স তুলে নিতে নানা সময় দাবি জানিয়ে এসেছে। আমি এ ব্যাপারে কখনো মন্তব্য করিনি। ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট নিয়ে এবার প্রথম মন্তব্য করছি। আগামী বাজেট হবে আমার শেষ বাজেট। সেখানে ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট নিয়ে কিছু একটা ইতিবাচক সংবাদ দেবো এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

এছাড়াও তিনি তরুণদের কাছে আগামী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে নিজেদের তৈরি সোশ্যাল রোবট ‘সোফিয়া’কে দেখার প্রত্যাশা করেন।

শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের সামপণী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ইঙ্গিত দেন তিনি।

দুঁদে রাজনৈতিক আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমরা দীর্ঘ চার বছর ধরে কাজ করে ২০০৮ সালে একটা নির্বাচনী ইশতেহার করেছিলাম। যেখানে মোস্তাফা জব্বারও ছিল। তখন সেটি আমরা তুলে দিই প্রধানমন্ত্রীর হাতে।সেটা ছিল ১২ ডিসেম্বর। এখন সেই দিনকেই এখন তথ্যপ্রযুক্তি দিবস ঘোষণা করা হল।

তিনি বলেন, তবে এই ইশতেহারের মূলে ছিল তরুণরা। তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়েই ইশতেহারটি করতে পেরেছিলাম বলেই এখন ডিজিটাল দুনিয়ার প্রবেশ করতে পেরেছি। আসলে ইন্টারনেট দুনিয়ায় তরুণরা এখন অনেক কাজ করছে।

সমাপণী অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য দেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী। তিনি বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড কতটা সফল। সেই শুরুর দিন থেকে আজ সমাপনী দিনেও তিল ঠাঁই নেই। এখানে সবধরনের মানুষ এসেছে, জেনেছে, জ্ঞান নিযেছে এবং সেটাকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।

সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে বলেছিলেন এবারের  কথা দিয়েছিলেন এবারের আয়োজনে দেশে তৈরি ডিভাইস নিয়ে আসা হবে। সেই কথা রেখে প্রযুক্তি পণ‍্যের শুল্ক কমিয়ে আনায় ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য এসেছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের তৈরি ল‍্যাপটপ ও স্মার্টফোন ব্যবহার করেন।

তিনি আরো বলেন, আগামীতে প্রযুক্তি শিক্ষা যেন শিশু পর্যায়ে থেকে শুরু করা যায় সেজন‍্য শিশুদের প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ বলেন, আমি চেষ্টা করি সংসদীয় কমিটির সভাগুলোতে নিয়মিত অংশ নেওয়ার। সেখানেই আমি দেখতে পাই দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হচ্ছে। আমরা এখন যে অবস্থায আছি তাতে করে অল্প দিনে অনেক দেশে নিজেদের আধিপত্য জানান দিতে পারবো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভুটানের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন মন্ত্রী দিনা নাথ ডঙ্গায়েল বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে আমার নজরে এসেছে তিন বছর ধরে। এরপর থেকে আমি বাংলাদেশের এই কার্যক্রমে নিয়মিত দেখছি এবং এই খাতে বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে। যাকে আমরা অনুসরণ করছি। এমনকি এখন জনবহুল ঢাকা স্মার্টসিটি হিসেবে অল্প দিনেই আত্মপ্রকাশ করবে।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী এবং সমাপণী অনুষ্ঠানের সভাপতি জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ঢাকা শহরে অসংখ্য গাড়ি। এজন্য জ্যাম হয়। এটাকে বলে ‘ডেভেলপমেন্ট পেইন’। তবে বিদেশিরা যখন আসেন তখন এর মধ্যেই সম্ভাবনা খুঁজেন। এগুলোকে একটা অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যেতে যে ট্রান্সফরমেশন তারও ফল।

তিনি বলেন, এসব ট্রান্সফরমেশনই ইঙ্গিত দেয় চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের। এসব পরিবর্তনই হবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। যা আমাদের দেশকে বদলে দেবে।বদলে দেবে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও প্রযুক্তিকে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমরা এবার সোফিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তার কথা শুনেছি। তাই বলে কি আমরা নিজেরা সোফিয়ার মতো এমন রোবট তৈরি করবো না? ইতোমধ্যে আমি ইনোভেশন জোনে বন্ধু নামের এক রোবটের সঙ্গে কথা বলেছি।তার বয়স মাত্র দুই সপ্তাহ। তাই ভালো করে কথা শেখেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, সামনের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে নিজেদের তৈরি সোশ্যাল রোবট থাকবে। ইনশাল্লাহ আমরা সেটা পারবো।

তিনি জানান, প্রতিবছর এখন দেশে সাড়ে তিন কোটি মোবাইল, ৫ লাখ ল্যাপটপ আমদানী করতে হয়। এগুলো এখন দেশে তৈরি করা শুরু হয়েছে। আমরা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অন্তত বছরে দুই বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারবো।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের শেষ দিনে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ১১ বিভাগে প্রায় ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধীনে আইডিয়া প্রকল্পের আওতায় ৩৭ স্টার্টআপকে ফান্ড প্রদান করা হয়। তাদের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের আইডিয়া ল্যাব থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে।

পঞ্চমবারের আয়োজনে ৬৪ বৈশ্বিক মিডিয়ায় ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড নিয়ে খবর ছাপা হয়েছে।এবারের প্রদর্শনীতে ৫০২টি স্টল ছিল। যেখানে ৩০২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। চারদিনের আয়োজনে ৪৭টি সেমিনায় হয়েছে। যেখানে মোট  বক্তা ছিলেন ২৮৯ জন।যার মধ্যে বিদেশী স্পিকার ছিলেন ৭৫।অনলাইনে এক লাখ ৬৫ হাজার নিবন্ধন ছাড়াও সবমিলে পাঁচ লাখের বেশি দর্শনার্থী ছিল বলে জানান তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড আয়োজন করে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

Related posts/