Maintance

নিরাপত্তা চান ইথিক্যাল হ্যাকাররা

প্রকাশঃ ৬:৪৪ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৬:৪৪ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ৭, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে তরুণ হ্যাকার যখন আইনি উপায়ে হ্যাকিং ইস্যুতে কাজ শুরু করেছে, তখন তথ্যপ্রযুক্তি আইনের নানা ধারার মারপ্যাঁচে সরকার তাদের জেলে পুরছে বলে ক্ষোভ জানিয়েছে তরুণ তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা।

তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক অন্যতম আয়োজন ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’ এর ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইথিকাল হ্যাকিং’ শিরোনামের সেমিনারে এসে তরুণ উদ্যোক্তারা হ্যাকিংয়ের নানা কলাকৌশল নিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তার ইস্যুতে আমরা যখন কাজ করছি, তখন সরকার কেন আমাদের জেলে পুরবে?


বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ইওয়াই ল্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারজানা রহমানের সঞ্চালনায় ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইথিকাল হ্যাকিং’ সেমিনারে কি নোট স্পিকার হিসেবে এসেছিলেন ভারতের প্রিস্টন ইনফো সলিউশনের প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা রিজওয়ান শেখ।

এতে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিষয়ের শিক্ষক কে এম সালাউদ্দিন, ঢাকা ব্যাংকের সিইও এ এম এম মঈনুদ্দিন, ম্যাশ টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজালাল সোহানি, সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার।

 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক রিজওয়ান শেখ শুরুতে বলেন, ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে জানতে হবে হ্যাকিং কী? আমরা হ্যাকিং-হ্যাকিং বলে চিৎকার করি ঠিক, কিন্তু কত জনে সঠিকভাবে জানি ব্যাপারটা? তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে এই হ্যাকিংয়ে। তারাই নিরাপদ রাখবে ইন্টারনেট।

সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক জরিপের ফলাফল থেকে তিনি জানান, প্রতি ৭৫ জন হ্যাকারদের মধ্যে মাত্র এক জন ‘ইথিক্যাল ওয়েতে’ হ্যাক করে।

তিনি বলেন, এই যদি হয় হ্যাকারদের অবস্থা, তাহলে সামনে কিন্তু ভয়াবহ দিন। তরুণদের বলব, তোমরা নিজেদের নিরাপদ রাখতেই হ্যাকিংটা শেখ। এতে নিজেদের জন্য কাজ করা হবে, দেশের সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে কাজ করার সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করো না তোমরা।

সাইবার নিরাপত্তায় আইনগুলো সঠিকভাবে জানা-বোঝার দরকার রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

পরে তিনি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে দেখান, বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে কতটা সহজে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো হ্যাক করা যায়। পাসওয়ার্ড চুরি করার নানা প্রক্রিয়া তিনি যখন দেখাচ্ছিলেন তরুণদের, তখন একের পর এক প্রশ্ন আসে দর্শক সারি থেকে।

হ্যাকিং টুলস, সফটওয়্যারের কথা বলতে গিয়ে ভারতের এই তরুণ প্রযুক্তিবিদ তরুণদের বলেন, নিজেদের পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত করতে হবে। কমপক্ষে ১৬ ডিজিটের আলফা-নিউমেরিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে, আর তা প্রতি মাসে একবার করে পরিবর্তন করতে হবে।

মূল প্রবন্ধ শেষ হতেই অভিযোগ তুলতে শুরু করে তরুণরা। তখন শিক্ষক কে এম সালাউদ্দিন তাদের কথায় সায় দিয়ে বলেন, তরুণরা যখন হ্যাকিং নিয়ে কাজ করা শুরু করছে, তখন সরকারকে এই তরুণদের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসতে হবে। সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, হাইটেক পার্ক সহ তথ্যপ্রযুক্তির নানা প্রকল্পে কিন্তু সরকার এই তরুণদের নিয়োগ দিতে পারে।

একইসঙ্গে অনার্স, মাস্টার্স পর্যায়ে হ্যাকিং শেখাতে হবে তরুণদের। তরুণদের উচিত, ইথিক্যাল ওয়েতে হ্যাকিং করা। অন্যের ক্ষতি নয়, দেশের কল্যাণেই তাদের মনোনিবেশ করা উচিত।

বক্তারা তখন সাইবার ক্রাইম ইউনিট কিভাবে আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে হ্যাকারদের সনাক্ত করে, কিভাবে তাদের শাস্তি দেয়, শাস্তির বিধানগুলো কি, এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।

সভায় উঠে আসে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনা সুইফট অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার ঘটনা নিয়েও আলোকপাত করেন বক্তারা।

ঢাকা ব্যাংকের সিইও এ এম এম মঈনুদ্দীন জানানগ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করতে গেলেও ‘টাইম শিডিউলিং’ ইস্যুতে তারা সমস্যায় পড়ছেন।

এখন যদি আরো বেশি সিকিউরড করতে যাই, তবে টাইম শিডিউল আরো বাড়বে। সেক্ষেত্রে গ্রাহকরা বিরক্ত হয়ে আমাদের ব্যাংকিং সেবা নিতে চাইবে না। দুটি বিষয় মাথায় রেখে, আমরা আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজাচ্ছি। আমরা মনে করি, বাইরের হ্যাকাররা যত না করছে, ভেতরের হ্যাকাররা কিন্তু করছে। ব্যাংকের নিজস্ব কর্মকর্তাদের অনেকে এই হ্যাকিং ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি জানান, সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে কাজ করা টিমগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

একপক্ষ ডাটাবেস ম্যানেজমেন্টের কাজ করছে, আরেকপক্ষ ইউজার কিভাবে অ্যাপ্লিকেশন ইউজ করছে তা পরীক্ষা করছে, আরেকপক্ষ ডাটা অ্যানালাইসিস করছে। কারও কাজের সঙ্গে কারও মিল নেই। আলাদা টিম, আলাদা এমপ্লয়ি। গ্রাহকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

*

*

Related posts/