Maintance

সরকারি সেবার ৮০ শতাংশ মিলবে অনলাইনে : জয়

প্রকাশঃ ৩:২৩ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:২৫ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ৮, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আগামীতে দেশের বেশিরভাগ সরকারি সেবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

ভবিষ্যতে ৮০ শতাংশ সরকারি সেবা স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হওয়ার পর বর্তমানে দেশের ৪০ শতাংশ সরকারি সেবা ডিজিটালাইজড হয়েছে।

পঞ্চমবারের মতো দেশের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭ আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ দেশের মন্ত্রীসহ সাত দেশের প্রতিনিধি নিয়ে অনুষ্ঠিত মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে এসব কথা বলেন।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিাইসিসি) চার দিনব্যাপী এই আয়োজনে দিনের  শুরুতে এই কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ বলেন, বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ থেকে দেওয়া হচ্ছে, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে আইটি শিক্ষা প্রাইমারি লেবেল থেকে শুরু করার।

Sajib-Wazed-Techshohor

সজীব ওয়াজেদ বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণীর চেয়ে প্রাথমিকে আইটি শিক্ষা শুরু করা কঠিন হবে না, এ লেবেলে শুধুমাত্র লেখা শেখানো বা তাদের হোমওয়ার্ক ট্যাবের মাধ্যমে সম্পন্ন ইত্যাদি করা যেতে পারে। শিশুরা এগুলো খুব দ্রুত শেখে। তবে এখানে আমাদের রিসোর্স একটি চ্যালেঞ্জ, স্বল্পমূল্যে ট্যাবলেট ও কম্পিউটার দেশে তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক থেকে এ শিক্ষা শুরু করা যাবে।

তিনি মূল প্রবন্ধ শেষে বক্তব্যে সজীব ওয়াজেদ বলন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন মানে শুধু এই খাত সংশ্লিষ্টদের উন্নয়ন নয়, বরং এর মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নতি আমাদের লক্ষ্য।

মূল প্রবন্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত ভবিষ্যতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। এজন্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে এখন কথা বলার সময় এসেছে। কারণ, দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনছে। ফলে, অর্থনীতির বিকাশ ও শিল্পায়নও দ্রুত ঘটছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যেই ন্যানোম্যাটেরিয়ালের বাণিজ্যিক ব্যবহার দেখা যাবে। এসব ন্যানোম্যাটেরিয়াল স্টিলের চেয়েও ২০০ গুণ শক্ত, কিন্তু চুলের চেয়েও পাতলা। থ্রিডি প্রিন্টেড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হবে। ১০ শতাংশের বেশি গাড়ি হবে চালকহীন।

প্রবন্ধে তিনি বলেন, এসব পরিবর্তনের প্রভাব সরকার, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনেও দেখা যাবে। আগামীর বাংলাদেশ পৃথিবীর এসব উন্নত প্রযুক্তিগুলোকে গ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে।

সজীব ওয়াজেদ বলেন, সরকার বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করেছে। জনগণ তথ্যপ্রযুক্তির সুফলও ভোগ করছে। ফলে, বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডেই আপনারা দেখেছেন ড্রোন, বিশ্বের উন্নত রোবট সোফিয়াকে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে মোবাইল সুপারকম্পিউটিং, চালকহীন গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমান রোবট, নিউরো প্রযুক্তির ব্রেন, জেনেটিক এডিটিং দেখতে পাবে। প্রযুক্তির এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য আমাদেরকে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে।

মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।এ সময় তিনি বলেন, গত ৯ বছরে বাংলাদেশ দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা দ্রুত এগিয়েছি। ভবিষতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছি। তরুণদের উদ্যোক্তা হতে পথ দেখাচ্ছি। ৫ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি।

এতে অংশ নেন কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য উপদেষ্টা ডায়োডোনি কালোম্বো কোলি বাডিবাং, কম্বোডিয়ার ডাক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী কান চানমেটা, ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী দিনা নাথ ডঙ্গায়েল, মালদ্বীপের সশস্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তা উপমন্ত্রী থরিক আলী লুথুফি, ফিলিপাইনের আইসিটি অধিদপ্তরের পরিচালক নেস্টর এস বোঙ্গাটা, সৌদি আরবের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান ও মন্ত্রীর উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাহাদ আলীআরাল্লাহ।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

Related posts/