Maintance

দেশে নতুন শিল্প বিপ্লবের সুযোগ করেছে তথ্যপ্রযুক্তি : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশঃ ৫:১৩ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৫:১৯ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ৬, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের ফলে নতুন শিল্প বিপ্লবের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই ভবিষ্যত উন্নত বাংলাদেশের জন্য তরুণ প্রজন্মকে তৈরি হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিকে ছেলেমেয়েদের কাছে একেবারে তুলে দিয়েছি। দেশের ছেলেমেয়েদের একটু সুযোগ দিলেই তারা ভাল কাজ করতে পারে, খুব দ্রুত শিখতে পারে। আমাদের নতুন প্রজন্ম বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করার মতো যোগ্যতাও অর্জন করে ফেলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ৪৬ বছরের ৩০টি বছর হেলায় হারিয়ে গেছে। সময় অনেক চলে গেছে। আর কালক্ষেপণ করতে চাই না। শুধু বর্তমান না, ভবিষ্যতকে দেখতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, সফটওয়্যার খাতে রপ্তানি আয় চলতি অর্থবছরেই ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা। ২০২১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলার করতে পারবো। আইসিটিকে আরও সুযোগ দিলে এখান হতেই রপ্তানি আরও ব্যাপক হারে আসবে। আমাদের অন্য কোনোদিকে তাকাতে হবে না। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহবান-রেডি ফর টুমোরো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন আমি সরকার গঠন করলাম তখন আমার কাছে যত ফাইল আসতো কোনো ফাইল কম্পিউটারে আসতো না। সাধারণ টাইপ রাইটারে টাইপ হয়ে আসতো। আমি জিজ্ঞেস করলাম এটা কেন ? পৃথিবী তো এগিয়ে যাচ্ছে আমরা এত পিছিয়ে কেন?

‘দেখতাম কম্পিউটার একটা টেবিলের ওপর থাকতো ডেকোরেশন পিসের মতো। অনেকে ওটা ব্যবহার করতেই সাহস পেত না।’

ছেলে জয়ের কাছ থেকে নিজের কম্পিউটার শেখার কথা জনিয়ে তিনি বলেন, আমাদের পার্টি ৯১ সাল হতেই কম্পিউটার ব্যবহার করতে শুরু করে। যদিও তখন অত্যন্ত দাম দিয়ে কিনতে হয়েছিল। আমাদের কিছু বন্ধুবান্ধব সাহায্য করেছিলেন।

‘এরপর আমরা কম্পিউটারের ওপর সমস্ত ট্যাক্স তুলে দিয়ে কীভাবে কম্পিউটার শিক্ষাটা আরও সর্বজনীন করা যায় তার কিছু পদক্ষেপ আমরা নিয়েছিলাম। তখন মোবইল ফোন কোম্পানি একটা। একটা মোবাইল ফোনের দাম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কল ধরলে ১০ করলে ১০ টাকা, এটা প্রতি মিনিটের হিসাব। ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকটি ছাড়া সারা বাংলাদেশে ডিজিটাল ফোনের কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। এমনকি লালবাগ হতে শুরু করে ঢাকার অনেক অংশেই তা ছিল না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ফোন এনালগ হতে ডিজিটাল করবো। আর মোবাইল ফোন ব্যবসা বেসরকারি খাতে উম্মুক্ত করে দিলাম। উদ্দেশ্য ছিল এটা সর্বজনীন হোক, মানুষের কাছে যাক।’

আট বছরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশে ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি একেবারে তৃণমূল হতে। প্রথমেই আমরা করেছি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। এখান হতে মানুষ প্রায় ২০০ প্রকার নাগরিক সেবা পাচ্ছে। মোবাইল ফোনে এখন ১৩ কোটি সিম ব্যবহার হয়। আজকে মোবাইল ফোনে বিল পেইমেন্ট হতে শুরু করে ইনকাম ট্যাক্সও দিতে পারেন।’

থ্রিজি চালু করে দিয়েছি ফোরজিও চালু হয়ে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তি বিভেদ হতে দূরে রাখতে ইন্টারনেটের দাম কমানো ও ডিজিটাল যন্ত্রকে হাতের নাগালের মধ্যে এনেছি। হাতের মুঠোয় সব সরকারি সেবা যেন মানুষ পায় সেই ব্যবস্থা করেছি।

‘প্রথম প্রথম যখন ডিজিটাল কার্যক্রম করা হতো তখন ঠাট্টা করা হতো যে কি করবে, কি হবে এতে। অথচ আমাদের দেশের মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহারে যথেষ্ট পারদর্শী। কৃষক-শ্রমিক সব সাধারণ মানুষ এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাপানের ১০ হাজার অ্যাপার্টমেন্টকে স্মার্ট করার কাজ এখন বাংলাদেশের তরুণরা করছে।

দুটি সাবমেরিন ক্যাবল আনার কথা উল্লেখে তিনি বলেন, এখন আশেপাশের দেশে ব্যন্ডউইথ রপ্তানিও করছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করছি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে ১৭টি কম্পিউটার ল্যাবের গাড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ৫০ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষিত করে তোলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গড়ে তোলা হচ্ছে রোবোটিক্স, বিগডেটা, ইন্টারনেট অব থিংস, ডেটা এনালিটিক্স ল্যাব।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, দেশে তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নের কারণে তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবকরা নতুন নতুন উদ্ভবন করবেন। তখন পথে যানজটে পড়লে ড্রোনে উড়ে চলে যাবো।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ, বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার ও  তথ্যপ্রযুক্তি সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/