Maintance

আবারও ‘বাতিল’ বেসিস নির্বাচন, ইজিএম স্থগিত

প্রকাশঃ ২:১৪ অপরাহ্ন, নভেম্বর ২০, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, নভেম্বর ২১, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বেসিসের নির্বাচন এবার বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটি। ফলে এই ‘সিদ্ধান্ত’ বিবেচনায় ২৮ ডিসেম্বরের নির্বাচন হচ্ছে না ।

যদিও বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এস. এম কামাল  টেকশহরডটকমকে জানিয়েছেন, ‘এ বিষয়ে এখনও ইসির লিখিত কোনো সিদ্ধান্ত তিনি পাননি। তবে মৌখিকভাবে বেসিস সেক্রেটারিয়েট হতে জানানো হয়েছে যে ইসি নির্বাচন বাতিলের একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর কার্যনির্বাহী কমিটির রোববারের ওই সভায় স্থগিত করা হয়েছে কনস্টিটিউশন অ্যামেন্ডমেন্ড নিয়ে ডাকা বুধবারের বিশেষ সাধারণ সভা।

নির্বাচন বাতিলের কারণ জানতে চাইলে বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, ‘গত ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইজিএমে বেসিস কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ দুই বছর, পরিষদের মেয়াদ শেষে সকল পদে নির্বাচন, পদের কিছু পরিবর্তন ও বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালার সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো পাশ হয়।’

‘তাই নিয়মানুয়ায়ী নির্বাচন হতে হবে সংশোধিত নতুন গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী। সে হিসেবে তফসিলও আসতে হবে নতুন গঠনতন্ত্রের আলোকেই।’-বলেন মোস্তাফা জব্বার।

ইজিএম স্থগিতের বিষয়ে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক নেতা টেকশহরডটকমকে জানান, ‘৩১ অক্টোবরের ইজিএমে গঠনতন্ত্র নিয়ে সদস্যরা আরও কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করেন। এসব সংশোধনী যাচাই-বাছাই করে তা ২২ নভেম্বরে ইজিএমে উত্থাপনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল প্রেসিডেন্স ফোরামকে। কিন্তু প্রেসিডেন্স ফোরাম তাতে অপারগতা জানায়। তাই এই ইজিএম স্থগিত করা হয়।’

নতুন করে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি করে দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কমিটি প্রতিবেদন দিলেই ইজিএম করা হবে। আর এই ইজিএমের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

সংশোধনী গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান কমিটির মেয়াদ থাকছে ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত। তাহলে নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে এমন প্রশ্নে বেসিস সভাপতি জানান, ‘নতুন নির্বাচন বোর্ড গঠন করা হচ্ছে না। ফলে বোর্ড গঠনের পর তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত যে ৯০ দিনের সময় ছিল তা আর লাগছে না। আর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার ৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে।’

‘কার্যনির্বাহী তাদের সিদ্ধান্তের কথা নির্বাচন বোর্ডকে জানিয়েছে। এখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নির্বাচন বোর্ডের।’-বলেন তিনি।

এদিকে নির্বাচন নিয়ে এত জটিলতা ও তা বারবার পেছানো বিরক্তি প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির অনেক নেতা। অনেক সাধারণ সদস্যরাও মনে করছেন এবারের নির্বাচন নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি সংগঠনের সুনাম নষ্ট করছে।

বেসিসের সাবেক সভাপতি ও প্রেসিডেন্স ফোরামের সদস্য ফাহিম মাশরুর টেকশহরডটকমকে বলেন, নির্বাচন ঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। এবার নির্বাচন পেছানোর কারণ পরিষ্কার নয়। বর্তমান তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন হওয়া উচিত। এছাড়া বারবার নির্বাচন পেছানোয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

basis-techshohor

বছরজুড়ে বেসিসের যত নির্বাচন কাণ্ড :

নির্বাচন নিয়ে উদ্ভুত নানা পরিস্থিতি নিয়ে বছরজুড়ে আলোচিত-সমালোচনার পর অবশেষে চলতি বছরের ২৮ ডিসেম্বর এ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল।

এর আগে  নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে নেতাদের মতদ্বৈততার জেরে মে মাসের শুরুতে নির্বাচন আয়োজনের কার্যক্রম ভণ্ডুল হয়ে যায়। তখনকার তফসিল অনুযায়ী ৮ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল।

আপিল-অভিযোগে শেষ পর্যন্ত সংগঠনটির গঠনতন্ত্রই সংশোধন করতে বলে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও।

এরপর গঠনতন্ত্রে এসব সংশোধন আনে বেসিস। আর তা করতে গিয়ে দেখা যায় বেসিসের গঠনতন্ত্রে নিজের নামই ভুল। শুধু নাম নয় বেসিসকে একটি কোম্পানি হিসেবেও বলা হয়েছে এই গঠনতন্ত্রের একটি জায়গায়।

কনস্টিটিউশন অ্যামেন্ডমেন্ড প্রপোজালে ১৯ পৃষ্ঠা জুড়ে বর্তমান গঠনতন্ত্রের অসংখ্য ভুল সংশোধন ও বিষয়, শব্দ, বাক্য প্রতিস্থাপনের বিষয়ে বলা হয়। সংগঠনটির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য,তথ্য, সদস্যপদ, কার্যনির্বাহী কমিটি, নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে সংশোধন ও পরিবর্তনের উল্লেখ করা হয়। যার সংশোধনী পাশ হয় ৩১ অক্টোবরের ইজিএমে।

এর আগে সংগঠনটির গঠনতন্ত্রে বলা ছিল ৩ বছরের সেশন সময়ে প্রতি টার্মে(প্রতি বছর) কার্যনির্বাহী কমিটি হতে ৩ জন পদত্যাগ করবেন। পদত্যাগ করে শূন্য হওয়া ৩ পদে হবে নির্বাচন।

নতুন নির্বাচিত এবং পুরোনো মিলে ৯ পরিচালক নতুন করে কার্যনির্বাহী কমিটির পদের দায়িত্ব নেওয়ার নির্বাচন করবেন।

কিন্তু মে মাসে তখন পদত্যাগ নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় এবার ‘পদে থাকার জ্যেষ্ঠতা’র ভিত্তিতে কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট এম রাশিদুল হাসান ও পরিচালক উত্তম কুমার পালকে পদত্যাগ করতে চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন বোর্ড।

নির্বাচন বোর্ডের ওই সিদ্ধান্তে ‘আপত্তি’ করে আপিল বোর্ডে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন তারা।

পরে নির্বাচন বোর্ড আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে চিঠি দিয়ে জানায়, জ্যেষ্ঠতা নয় পদত্যাগ হবে লটারি করে।

অনুষ্ঠিত হয় লটারি। পদত্যাগের ওই লটারিতে নাম ওঠে বেসিস কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি মোস্তাফা জব্বার,  সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা এ রহমানের।

বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন পরিচালকের কাছে আবেদন করেন।

যার প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও শাখা এক চিঠিতে সংগঠনটির সংঘস্মারক ও সংঘবিধি সংশোধনের পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেয়া হয়। ফলে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব কার্যক্রম আটকে যায়।

এবং এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বেসিস নির্বাচন নিয়ে ডিটিও’র শুনানি করে।  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডিটিও) আবদুল মান্নান এই শুনানিতে বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এস.এম কামাল, আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এ তৌহিদ, বেসিস কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট এম রাশিদুল হাসান, পরিচালক উত্তম কুমার পাল এবং সভাপতি মোস্তাফা জব্বার উপস্থিত থাকেন।

শুনানি শেষে ডিটিওর নির্দেশনায় বলা হয়, সংগঠনটির বর্তমান গঠনতন্ত্র সংশোধনের পর হবে নতুন নির্বাচন, যা অনুষ্ঠিত হবে সবগুলো কার্যনির্বাহী পদে। এছাড়া নতুন নির্বাচনে কমিটির মেয়াদ হবে ২ বছর।

এর ফলে বেসিসের ২০১৭-১৮ টার্মের তিনটি পদে নির্বাচনের সকল কার্যক্রম বাতিল হয়ে যায়।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/