Maintance

ফেইসবুক শুধু সময়ই নষ্ট করছে : সহপ্রতিষ্ঠাতা পার্কার

প্রকাশঃ ৫:১৭ অপরাহ্ন, নভেম্বর ১১, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:০৫ পূর্বাহ্ন, নভেম্বর ১২, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মার্ক জাকারবার্গকে সবাই চিনলেও প্রতিষ্ঠানটির শুরুর দিকে প্রেসিডেন্টের পদে ছিলেন শন পার্কার।

তিনি এখন পার্কার ইন্সটিটিউট অব ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপির প্রধান। তিনি ফেইসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তার বিরোধিতার কথা জানিয়েছেন।

শন পার্কার বলেন, প্রতিটি সোশ্যাল মিডিয়াই ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ সময় ও মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করে। সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি বলেন, এমন সব কথাবার্তার পর তাকে হয়ত জাকারবার্গ আর ফেইসবুকের বন্ধু তালিকাতেই রাখবেন না।

ফেইসবুকের এ সহ-প্রতিষ্ঠাতা বলেন, প্রতিটি মানুষের বড় দুর্বলতা, তিনি তার সৃষ্টির জন্য প্রশংসা চান। ব্যবহারকারীর প্রতিটি পোস্ট, ফটো ও ভিডিওতে পড়া লাইক, রিয়্যাক্ট ও কমেন্ট মস্তিষ্কে আনন্দের এক ‌’কেমিক্যাল ডোপামিন’ তৈরি করে। এর ফলে একটি নির্ভরতা সৃষ্টি হয়। বলা যেতে পারে অন্যান্য ড্রাগসের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কম কিছু নয়।

শন পার্কার এর সঙ্গে যুক্ত করেন, ফেইসবুকের মার্ক (জাকারবার্গ) বা ইন্সটাগ্রামের কেভিন এ সিনড্রমের ব্যাপারে জানতেন। এ নির্ভরতাকে পুঁজি করেই তারা তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো সৃষ্টি করেছেন।

প্রতিনিয়ত ব্যবহারকারীরা যে বিশাল পরিমাণ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় করেন, তা নিয়ে পার্কার ভুল কিছু বলেননি।

বিগত ২০১৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় রয়্যাল মেলবর্ন ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি বা আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির ৪ গবেষক প্রমাণ করেন, ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের অনেকেই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইটটি ব্যবহার করতে থাকেন।

ব্যবহারকারীদের ওপর করা সার্ভেতে উঠে আসে, দুঃখ বা কষ্ট দূর করার জন্য বা দৈনন্দিন জীবন ভুলে থাকার জন্য অনেকেই ফেইসবুক বেছে নেন। তাদের দেওয়া উত্তরে দেখা গেছে বেশীরভাগ ব্যবহারকারীই পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা অন্যদের মতের সঙ্গে নিজের মতামত মেলানোর জন্য ফেইসবুকে সময় কাটান।

অল্প কিছু ব্যবহারকারী ফেইসবুক বা টুইটার ছেড়ে দেওয়ার পর অসুস্থ বা ডিপ্রেশনে পরে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন।

ওপরের সবগুলো পরিস্থিতিই কোকেন বা অ্যামফেটামিন সেবীদের মানসিক অবস্থার সঙ্গে মিলে যায়। এ থেকে ধরে নেওয়া যেতে পারে, সোশ্যাল মিডিয়াগুলো ব্যবহারকারীদেরকে নির্ভরশীল করার মাধ্যমেই টিকে রয়েছে।

আর শন পার্কারের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মাতারা সেটি বুঝেশুনেই সোশ্যাল মিডিয়াগুলো সৃষ্টি করেছেন।

নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন ও জার্নাল অব বিহেভিয়রিয়াল অ্যাডিশকনস অবলম্বনে এস এম তাহমিদ

*

*

Related posts/