Maintance

চলতি বছর ফোরজি চালু ঝুলে থাকার আশংকা

প্রকাশঃ ২:২০ পূর্বাহ্ন, নভেম্বর ১, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:৩৮ অপরাহ্ন, নভেম্বর ২, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নানান জটিলতায় বহুল আলোচিত চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল সেবা ফোরজি চালুর প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে । এখনও নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় নিলামের দিনক্ষণও ঠিক হয়নি। আর নিলামের পরও নতুন এ সেবা চালু করতে বেশ কিছুদিন সময় প্রয়োজন।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফোরজি নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আভাসও মিলছে না। এর ফলে সরকারের চাওয়া অনুযায়ী চলতি বছর গ্রাহকদের হাতে ফোরজি সেবা পৌঁছে দিতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে মনে করছেন অপারেটরগুলোর কর্মকর্তারা।

তাদের মতে, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পরও অন্তত ৪৫ দিন লাগবে তরঙ্গের নিলাম করাসহ এ প্রক্রিয়া শেষ হতে। এর আগে নীতিমালা চূড়ান্ত করতে হবে। সেটিও খুব দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

 

4g-techshohor

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি গত সোমবার মোবাইল অপারেটরগুলোর সঙ্গে ফোরজি নিয়ে এক বৈঠক করে। এতে নীতিমালার বিষয়ে কিছু আলোচনা নতুন করে শুরু করে কমিশন। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন অপারেটরগুলোর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ফোরজির নীতিমালা নিয়ে বিদ্যমান বিভিন্ন জটিলতা নিরসন করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বেশি কিছু নির্দেশনা দেন। ওই বৈঠকে তিনি দ্রুত এ নীতিমালা চূড়ান্ত করতে বিটিআরসির সঙ্গে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর মধ্যেকার বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধান করে দেন। নীতিমালা সংশোধনের জন্য প্রয়ােজনীয় দিক-নির্দেশনাও দেন তিনি।

সেই নির্দেশনা কার্যকর করে নীতিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই গত সোমবারের বৈঠেকে বিটিআরসি নতুন বিষয় উপস্থাপন করে। এতে করে চলতি বছরের মধ্যে দ্রুত ফোরজি চালুর ক্ষেত্রে আশার আলো দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি অপারেটরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা।

সূত্র জানায়, মোবাইল ফোন অপারেটর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে সঙ্গে নীতিমালা বিষয়ে উপদেষ্টা জয়ের বৈঠকের কার্যবিবরণী এখনও হাতে সংশ্লিষ্টদের হাতে যায়নি।

বিটিআরসির কর্মকর্তারা বলছেন, বৈঠকের কার্যবিবরণী তাদের হাতে না আসলে নীতিমালায় সংশোধন আনার প্রক্রিয়া শুরু সম্ভব নয়।

তাছাড়া টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও বর্তমানে দেশে নেই। তিনি স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপন কোথা থেকে হবে সেটি দেখতে বর্তমানে আমেরিকা সফর করছেন। ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তার সেখানে থাকার কথা।

প্রতিমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বিটিআরসি কয়েকদিনের মধ্যে বৈঠকের কার্যবিবরণী পেয়ে নীতিমালা সংশোধনের খসড়া তৈরি করলেও তা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের কাজ আটকে থাকবে।

কারণ নীতিমালাটি পরিবর্তণ করতে হলে তারানা হালিমের মাধ্যমে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘুরে অনুমোদনের জন্য তা অর্থ মন্ত্রনালয়ে যেতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এরপর নীতিমালা চূড়ান্ত হলে নিলাম আয়োজনের জন্যও সময় প্রয়োজন। ফলে আগামী দুই মাসের মধ্যে ফোরজির প্রক্রিয়াগত বিষয় শেষ হবে বলে মনে করেন না অপারেটরগুলোর কর্মকর্তারা।

এর আগে অপারেটরগুলো চূড়ান্ত হওয়া নীতিমালা নিয়ে ২৩টি আপত্তি জানায়। আর সেগুলো নিয়েই বৈঠক করে সবকিছু চূড়ান্ত করে দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা।

জয় মূলত প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি ছেড়ে দেন বিটিআরসির ওপরে। কিন্ত সোমবারের বৈঠকে এ ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত হয়নি।

অপারেটরগুলো প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার ফি ২০ লাখ ডলারের বেশি দিতে আগ্রহী নয়। কিন্তু কমিশন এটি ৫০ লাখ ডলারের নিচে নামাতে রাজি নয়। বর্তমানে তা ৭৫ লাখ ডলার ধরা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে টাকার অংক কমছে বলে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এর আগে সজীব ওয়াজেদ জয় ফোরজির গ্রাহক তথ্য এক যুগ রাখার বিপক্ষে মত দেন। পরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তা দুই বছরে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ওই বৈঠকে অপারেটরগুলোর কর্পোরেট সোসাল রেস্পন্সিবিলিটির খরচের ক্ষেত্রে বিটিআরসির অনুমোদনের বিষয়টিও সুরাহা করে দেন জয়। এ বিষয়ে অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিদের বক্তব্য ছিল এতে বড় রকমের দুর্নীতির  সুযোগ তৈরি হবে।

ফোরজি নীতিমালার কারণে মোবাইল অপারেটরের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রেও বড় রকমের পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছিলেন অপারেটরগুলোর কর্মকর্তারা। বৈঠকে এটিরও সমাধান হয়।

এ ছাড়া নীতিমালায় গ্রাহকের অব্যবহৃত অর্থ বিটিআরসির কাছে ফেরত দেওয়ার একটি ধারা ছিল। সেটিও তুলে দিয়েছেন জয়।

তা ছাড়া সময় সময় চাইলে রাজস্ব ভাগাভাগির জায়গায় সরকার তাদের অংশ বাড়াতে পারবে এমন ধারা থাকলেও সেটিও বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয় ওই বৈঠকে।

এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর  প্রধানমন্ত্রী ফোরজি নীতিমালা অনুমোদন করেন। এটি হাতে পাওয়ার পর অপারেটরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩টি আপত্তি দেয়।

– অনন্য ইসলাম

*

*

Related posts/