Maintance

শীর্ণকায় এক সিংহ ঘুরছে ফেইসবুকে

প্রকাশঃ ৫:৩৭ অপরাহ্ন, অক্টোবর ৩১, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৫:৪৬ অপরাহ্ন, অক্টোবর ৩১, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বনের রাজা সিংহ। কথাটি আমাদের সবারই জানা। কিন্তু বন থেকে বন্দি অবস্থায় এসে সেই রাজা এখন মৃতপ্রায়!

গত এক-দুুদিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি ছবি নিয়ে অনেকটাই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ছবিটিতে সিংহের খাঁচায় একটি বিড়াল শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।  তবে  সিংহটির কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। কারণ কঙ্কালসার সিংহটির যেনো একটু মাথা তুলে সেটি দেখারও শক্তি নেই।

ছবিটি কুমিল্লা চিড়িয়াখানার। আর এই ছবিটি নিয়েই অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন চিড়িয়াখানাটির কর্তা ব্যক্তিদের দিকে। তারাই সিংহটির এমন দুর্দশার জন্য দায়ী বলে বলছেন তারা।

ফেইসবুকে একটি পোস্টে হিমেল মাহমুদ নামের একজন বিষয়টি নজরে এনে লিখেছেন, একটা সিংহ কতটা নিরীহ হওয়ার পরে একই খাঁচায় বিড়ালের অবাধ যাতায়াত থাকতে পারে। এটা কুমিল্লা চিড়িয়াখানার চিত্র,এদেরকে খাঁচায় ভরে শুধু কষ্ট দেয়া না, না খাইয়ে কঙ্কালসার বানানো হয়েছে। এই চিড়িয়াখানাগুলার চোর বাটপার কর্মচারীগুলাকে টাইট দেয়ার কি কেউ নাই?

একইভাবে নিজের রাগ ক্ষোভ প্রকাশ করে, চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রতি অভিযোগ তুলে মাহবুব রায়হান লিখেছেন, সিংহের জন্য বরাদ্দ করা খাবারের টাকা যদি কর্তাদের পকেটে যায় তাহলে সিংহতো এভাবেই মরবে।

তানজীর মোস্তাক নামের একজন লিখেছেন, লাইক না দিয়ে, সবাই শেয়ার করলে কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ হবে হয়তো। ’’সময় খারাপ হলে, সবাই মজা লয়’’ চোখের সামনে তার প্রমাণ। অনেক শেখার আছে। বিড়াল তুই এমন দুঃসাহস না দেখালেও পারতি? এতো বড় কুমিল্লা জেলা একটা সিংহ পালবার মুরদ নাই। আবার জেলাকে বিভাগ চায়। হা হা হা।

সম্রাট শরিফ নামের এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, সিংহের এই দশা দেখলে, মানুষ হিসেবে নিজেরই খারাপ লাগে। আমরা কতটা অমানুষ!

আমাদের চিড়িয়াখানার দূর্নীতি পরায়ণ ব্যক্তিরা অসম্ভব কে সম্ভব করে তুলেছেন। তাদের রাজত্বে এখন বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল খায়, সিংহ আর বিড়াল এক খাঁচায় শেয়ার করে থাকে। ছবিতে খেতে না পেরে অসহায় এক সিংহ মৃত্যুর অপেক্ষায়.. তার জন্য বরাদ্দ খাদ্য আজ কর্তৃপক্ষের পকেট ভারী করায় ব্যস্ত, লিখেছেন এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী।

গত বছর থেকেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কুমিল্লা চিড়িয়াখানার প্রাণীদের দুর্দশনা নিয়ে খবর প্রকাশ-প্রচার হতে থাকে। তবে ২০০৮ সালের পর থেকে ওই চিড়িয়াখানায় কোনো প্রাণী নিযে আসা হয়নি।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

Related posts/