Maintance

টেক জায়ান্টরা নিরপেক্ষতার প্রতি হুমকি

প্রকাশঃ ৩:০৯ অপরাহ্ন, অক্টোবর ১৫, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৭:৫৯ অপরাহ্ন, অক্টোবর ১৫, ২০১৭

টেক শহর কন্টেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেটের বড় কোম্পানিগুলোকে এই দশকের প্রথম দিকেও বড় মাপের আশীর্বাদ হিসেবেই দেখা হতো। অথচ সময় বদলেছে, নতুন দুশ্চিন্তাও তৈরি হয়েছে।

সবার জন্য উন্মুক্ত মঞ্চ, জ্ঞানের অবাধ প্রবাহ এবং সহজেই সবার মাঝে নেটওয়ার্ক তৈরির সুবিধা এসবই ছিল স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার উপযুক্ত ক্ষেত্র।  টেক জায়ান্টগুলো পুরো মানবজাতিকেই উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছিল।

তবে ইতোমধ্যে এই স্বপ্ন ভেঙ্গে যেতে শুরু করেছে। টেক জায়ান্টগুলো কিভাবে নিরপেক্ষতার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করেছে জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। এতে ইন্টারনেটের বিশাল ভুবনে নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়িয়ে রাশিয়ার কারসাজির মতো ঘটনা আলোড়ন তুলেছে। ফেইসবুকের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোকে জনগণের মাঝে অসন্তোষ বাড়ানো ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে কৌশলে জনমত বদলে দেওয়ার জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকেও দায়ী করা যায় না। কেননা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এতো নিপুণভাবে তথ্যের বিকৃতি ঘটানো হয়েছে যে টেক জায়ান্টের তকমা পাওয়া কিছু প্রতিষ্ঠানও এসব কারসাজি ধরতে পারেনি।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সবার জীবনেই এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে তা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নেই। আমাজন ঠিক করে কোন পণ্যটি জনপ্রিয় হবে, গুগলই নির্ধারণ করে কোন তথ্যটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ফেইসবুক নির্ধারণ করে কাকে আমরা বেশি প্রাধান্য দেবো। এর ফলে এসব জায়ান্টদের হাতে দেবতুল্য ক্ষমতা রয়েছে।

এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগের মূলে রয়েছে ব্যবসা। যেহেতু দিনশেষে তাদের মূল লক্ষ্য বিনিয়োগকারীদেরকে লাভবান করা, অতএব এই বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে তারা ব্যবসা শুরু করেছে। যার মূলে রয়েছে নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী ব্যবহারকারীদের কাছে বিজ্ঞাপন ও সংবাদ পৌঁছানো।

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই ফাঁস হয়েছে, প্রথম সারির প্রায় প্রতিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নাৎসিবাদীদের লক্ষ্য করে এযুগেও বিজ্ঞাপন দেওয়া সম্ভব। যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখপাত্ররা সবখানেই সাফাই গেয়ে বেড়াচ্ছেন।

বেশিরভাগ সময় এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদেরকে মাধ্যম হিসেবে নয় বরং প্লাটফর্ম হিসেবে দাবি করে। এ কারণে তাদেরকে সেন্সরবোর্ডের দারস্থ হতে হয় না।

ফলে শুধু ব্যবসায়িক টুলগুলো ব্যবহার করেই ক্ষতিকারক কর্মকাণ্ডেও তাদেরকে ব্যবহার করা সম্ভব। সব মিলিয়ে সামনের দিনগুলোতে টেক জায়ান্টদের নিরপেক্ষতা আর নাও থাকতে পারে।

সরকারি সেন্সরশিপ, জনমতের চাপে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতবাদ প্রচার, বা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এক একেক রকম নীতিমালা থাকার কারণে অদূর ভবিষ্যতে প্রায় প্রতিটি টেক জায়ান্টই একপেশে হয়ে যেতে পারে। ইন্টারনেটের দুনিয়ায় তাই নিরপেক্ষ বিষয়বস্তু খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে এস এম তাহমিদ

*

*

Related posts/