Maintance

দেশের এক ব্লু হোয়েল গেইমারের কথা…

প্রকাশঃ ৭:৫৩ অপরাহ্ন, অক্টোবর ১০, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:১৩ অপরাহ্ন, অক্টোবর ১১, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে সাম্প্রতিক আতংকের নাম ব্লু হোয়েল। এই গেইম জড়িয়ে এক কিশোরীর ‘আত্মহত্যার’ কথা গণমাধ্যমে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সতর্কবার্তা-ভয় ছড়িয়ে পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে কেউ ব্লু হোয়েল গেইম খেলছে কি না বা এতে আত্মহত্যার কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে দেখতে সোমবার বিটিআরসিকে নির্দেশনাও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মঙ্গলবার সংস্থাটি এ বিষয়ে সচেতনতা ও ক্ষতিকর মোবাইল বা অনলাইন গেমস,লিংক,অ্যাপস হতে সন্তানদের বিরত রাখতে পরামর্শ দেয়। প্রয়োজনে ২৮৭২ নাম্বারে জানাতে বলা হয়।

আরো পড়ুন: ব্লু হোয়েল, বিটিআরসিকে জানান ২৮৭২ নম্বরে

আসলেই কি ব্লু হোয়েল গেইম যেকেউ চাইলেই খেলতে পারে? ডাউনলোড লিংক, গেইম খেলতে যে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় তাও কি সহজে মেলে?

জানা যাক এই গেইম খেলছেন এমন কারও অভিজ্ঞতা।

দু’দিন ধরে গেইমটি খেলে চলেছেন তামজিদ রাহমান লিও। তিনি দেশের আইটি কনসাল্টিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি ই-জেনারেশন লিমিটেডের সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিষ্ট। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষকও।

অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে তিনি টেকশহরডটকমকে জানান, গেইমটির ডাউনলোড লিংক সাধারণ ওয়েবে পাওয়া যায় না। ডার্ক ওয়েবে অনেক খোঁজাখুঁজির পর যদিও বা মেলে তখনও লাভ নেই। কারণ ইনভাইটেশন ছাড়া খেলা যাবে না। গেমটির অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস এবং পিসির অনলাইন ভার্সন রয়েছে।

আমি ডার্ক ওয়েবে অনলাইনে খেলেছি। ইনভাইটেশন পেয়েছিলাম হামজা জেআর নামে কারও কাছ হতে-বলছিলেন লিও।

‘গেইম খেলার শুরুতে রেজিস্ট্রেশনে ইমেইল অ্যাড্রেস, ইউজার নেইম, পাসওয়ার্ড, জন্ম তারিখ, ফেইসবুক আইডি এবং টুইটার আইডি দিতে হয়। এরপর টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনসে এগ্রি করতে হয়।’

‘আমি ফেইক ইনফরমেশন দিয়েছি এবং প্রায় ৭ বার চেষ্টা করার পর ৮ম বার রেজিস্ট্রেশন করতে পেরেছি। এরপর আমার সাথে একজন কিউরেটর বা মডারেটর কানেক্ট হয় যে আমাকে টাস্কগুলো দেয় এবং টাস্ক কমপ্লিট হওয়ার পর ছবি দিলে তা ভেরিফাই করে লেভেল আনলক করে দেয়।’

গেইমের লেভেলগুলো মোটামুটি সবাই জানে, সেইম লেভেলগুলোই আমারও ছিল। প্রতিটি লেভেলই আমি চেষ্টা করেছি ফলস ছবি দিয়ে পার করার। ছবি দেওয়ার পূর্বে আমি ছবিকে ম্যানিপুলেট করে দিয়েছি যেন ধরতে না পারে এবং আমি সফল হয়েছি।’

কিউরেটরের সঙ্গে শুরুর কথাবার্তাগুলো এমন ছিল যে-এই পৃথিবী খারাপ। খারাপ এই পৃথিবীতে আমরা সবসময় নেগ্লেক্টেড হচ্ছি। চল এই জীবনে একটু হেসে নিই।’

গেইমের শুরু থেকেই হেডফোন লাগিয়ে রাখতে হয়। কনভার্সেশনের পাশাপাশি সাইকোলজিক্যাল মিউজিক চলতে থাকে, মেডিটেশন করতে হলে যে টাইপের মিউজিক শুনতে হয় কিছুটা সেরকম।
একেক লেভেলে একেক ধরণের মিউজিক বাজে। প্রথমদিকের লেভেলগুলো সহজ, মাঝের কিছু কিছু লেভেল মজাদার আর শেষের লেভেলগুলো ভয়ানক।

গেইমটিতে ডিপ সাইকোলজিক্যাল মেথড অ্যাপ্লাই করা হয়েছে। সাইকোলজিক্যাল সাউন্ড ট্র্যাক, টাস্ক এবং কিউরেটরের কথাবার্তাগুলো একত্রে প্লেয়ারকে ধীরে ধীরে দূর্বল করে তোলে।
গেইমটি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে কিনা তা জানতেই খেলা। সাইবার নিয়ে দক্ষতার কারণে জানাটাও দরকার ছিল।

সত্যি বলতে কি, অধিকাংশের ক্ষেত্রেই এই গেইম খেলা তো দূরে থাক রেজিস্ট্রেশন করাই বেশ কঠিন।

টাস্ক পূরণের ভুয়া তথ্য দিয়ে যেসব লেভেল লিও পার করেছেন তারমধ্যে আছে-

১. একটি কাগজে ৫০ বার লিখতে দেয়া হয়েছিল-‘I love my life, I will smile in this world’।
২. রাতের বেলা একা রুমে ভূতের মুভি দেখা।
৩. রাতের বেলা ছাদে একা হাঁটাহাঁটি করা।
৪. অপরিচিত ৫ জন মানুষের প্রত্যেকের সঙ্গে কমপক্ষে ৫ মিনিট করে সামনাসামনি কথা বলা।

বিষয় হলো প্রথম দিকের লেভেলগুলো ভেরিফাই এর ব্যাপারে স্ট্রিক্ট থাকেনা ওরা, সহজেই আনলক করে দেয়। সমস্যা শুরু হয় মিড লেভেলের পর হতে।

লিও জানান, এখনও গেইমটির সংযোগে আছেন তিনি। অনুসন্ধান করতে চান, ডিভাইস এক্সেসিং রিলেটেড বা ডাটা স্টিলিং রিলেটেড কিছু আছে কিনা এতে।

গেইমটির দুটি আসল সাউন্ড ট্র্যাক:
এক
দুই

অাল-আমীন দেওয়ান

আরো পড়ুন: 

*

*

Related posts/