Maintance

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কে শুরু চাকরি মেলা

প্রকাশঃ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, অক্টোবর ৫, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:৪৬ অপরাহ্ন, অক্টোবর ৫, ২০১৭

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে চাকরি মেলা।

পার্কের এম্ফিথিয়েটার ভবনের তৃতীয় তলার মিলনায়তনে মেলার উদ্বোধন করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে আইসিটি খাতে ইকোসিস্টেম তৈরির জন্য নানা প্রকল্প শুরু করেছে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় স্কুল-কলেজে আইসিটি বিষয়ক পড়াশুনা বাধ‍্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারছে।

এছাড়াও তিনি জানান, দক্ষ জনবল তৈরি করতে সারা বাংলাদেশে ৩ লাখ তরুণ-তরুণীকে ট্রেনিং দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দক্ষ জনবল ২৮টি আইটিসি হাইটেক পার্কে কর্মসংস্থান পাবেন। আগামী ২০২১ সালের মধ‍্যে আইসিটি খাতে ২০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান হবে।

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো ২০১৫ সালে। মাত্র দুই বছরের মধ‍্যেই ২ লাখ ৩২ হাজার ওয়াকিং স্পেস তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া এই পার্কে রয়েছে ১৩ তলা বিশিষ্ট ৮০ রুমের ডরমিটরি।

চাকরি প্রার্থীদের উদ্দেশ‍ে জুনাইদ আহমেদ পলক আরও বলেন, চাকরি মেলায় হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছেন, সবারই লক্ষ‍্য চাকরি পাওয়া। তবে যারা দক্ষ তারাই চাকরি পাবে। যারা চাকরি পাবেন না মন খারাপ না করে দক্ষ হয়ে পুনরায় চাকরিতে আবেদন করতে পারেন। আগামী বছরের শুরুতে এই পার্কে আরেকটি চাকরি মেলার আয়োজন করা হবে।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম  বলেন, সবাইকে যেন চাকরি দেওয়ার জন্যই এই আয়োজন। চাকরি পেতে হলে দুটি শর্তের একটি হলো সবাইকে আইসিটি বিষয়ে দক্ষ হতে হবে এবং ট্রেনিং নিয়ে সেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। প্রতিটি কোম্পানির অনেক দক্ষ জনবল প্রয়োজন। তাই স্কিল থাকলে চাকরি হবে।

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে সেখানে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং একটি প্রতিষ্ঠান কাজও শুরু করেছে। এই সকল প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান এই মেলা থেকে তাদের কর্মী নিয়োগ দেবে। তাই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশ এখন তথ‍্য-প্রযুক্তির পথে বিকশিত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি দেশকে এগিয়ে নিতে মানব সম্পদ তৈরি করতে হবে। এই ধরনের আয়োজনে তরুণরা দেশের প্রযুক্তি খাতের বাজার সম্পর্কে জানতে পারবে।

দিনব‍্যাপী এই মেলায় প্রায় ৩০টি আইটি প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ স্টলে দর্শনার্থীদের বিভিন্ন তথ্য প্রদান করবে এবং আইসিটি সেক্টরে নিয়োগের ব্যাপারে উৎসাহ দেবে । এ ছাড়া মেলায় বর্তমান ও আগামী দিনের তথ্যপ্রযুক্তির কর্মবাজার সম্পর্কে একাধিক সেমিনার এবং চাকরি প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত তৈরি ও সাক্ষাতকারের প্রস্তুতি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

speech-palak-techshohor

মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে রয়েছে অগ্নি সিস্টেমস লিমিটেড, দোহাটেক নিউ মিডিয়া, অগমেডিক্স বাংলাদেশ লিমিটেড, এমসিসি, অন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, কাজি আইটি সেন্টার, ফিফোটেক, ই-জেনারেশন লিমিটেড, বাক্য, ডিজিকন টেকনোলজিস, ওয়ালটন কম্পিউটার্স, ব্রিলিয়ান্ট আইডিয়াস লিমিটেড, যশোর আইটি, প্রিনিয়র ল্যাব, এনআরবি জবস, ওয়াটার স্পীড, উৎসব টেকনোলজিস লিমিটেড, সাজ টেলিকম, স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স কনসোর্টিয়াম লিমিটেড, স্টেলার ডিজিটাল লিমিটেড, এম্বার আইটি লিমিটেড প্রভৃতি।

বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বাক্যর সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ, প্রাক্তন সভাপতি আহমাদুল হক, বিডি ভেঞ্চারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত হোসেন, অন এয়ার ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী শাহিন আজাদ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়ান ইনস্টিটিউটের পরিচালক দিলারা এ খান, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, বাক্য মহাসচিব তৌহিদ হোসেন প্রমুখ।

২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরে আন্তর্জাতিক মানের একটি আইটি পার্ক স্থাপনের ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়।

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কম্পিউটারের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ফ্রিল্যান্সিং, কল সেন্টার ও রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এ চারটি ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) শিল্প উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে।

*

*

Related posts/