Maintance

রোহিঙ্গা নিয়ে পোস্টে ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড!

প্রকাশঃ ৯:০০ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:২৭ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ‘জাতিগত নিধন’ নিয়ে যেসব পোস্ট করা হচ্ছে সেগুলো মুছে দিচ্ছে ফেইসবুক।

একই সঙ্গে যারা এসব পোস্ট করছেন এবাং রোহিঙ্গাদের দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন তাদের অ্যাকাউন্টও ‘সাসপেন্ড’ করে দিচ্ছে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ।

দ্যা গার্ডিয়ান, দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্টসহ অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ফেইসবুকের এই পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তবে নিউইয়র্কের দ্যা ডেইলি বিস্ট নামের পত্রিকার প্রতিবেদনে প্রথম বিষয়টি জানানো হয়।

আর এ নিয়ে বুধবার ফেইসবুকের মুখপাত্র রুচিকা বুদ্রজা এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা চাই ফেইসবুক এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে তাদের মতামত শেয়ার করুক। আমরাও একটি নিরাপদ এবং সম্মানজনক অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য এবং সেসব অভিব্যক্তির সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে কঠোর পরিশ্রম করছি।

এদিকে এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা বলছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট প্রত্যাহার আবার কখনো ডাউন করে দিচ্ছে ফেইসবুক। তবে তাদের প্রত্যাশা, ফেইসবুক অন্ততপক্ষে সত্যটি প্রকাশ করতে বাধা দেবে না।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের দাবি করছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

মিয়ানমার সরকার ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করে না এবং এসব জনগণকে তাদের কোনো জাতিগোষ্ঠী হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি এবং তাদের এখন দেশ থেকেই বিতাড়িত করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ‘নিধন’ নিয়ে ফেইসবুকে আসা কনটেন্টগুলো ‘কমিউনিটি স্টান্ডার্ড’ বিবেচনা করেই রিভিউ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রহিম নামের এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী বলছেন, তিনি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন। এরপরই ফেইসবুক তার পোস্টটি মুছে দিয়েছে।

রহিম যখন পোস্টটি করেন তার পরই একটি বার্তা আসে ফেইসবুকের তরফ থেকে। তাকে জানানো হয় ‘ফেইসবুক কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড না মানায় পোস্টটি মুছে দেওয়া হলো’।

মিয়ানমার জুড়ে এমন অসংখ্য ঘটনার উদাহরণ পাওয়া যাচ্ছে বলে বিস্ট জানিয়েছে।

গত আগস্টে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনির উপর ‘সন্ত্রাসী’ হামলার জের ধরে দেশটিতে ‘রোহিঙ্গা নিধন’ শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশ। রোহিঙ্গাদের বেশ কিছু গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়, হত্যা করে শত শত মানুষকে।

এরপর প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ বলছে, এই সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াতে পারে।

এতো কিছুর পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে এমন পোস্ট সরিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

দ্যা গার্ডিয়ান, দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও আইএএনএস অবলম্বনে

Comments are closed.

Related posts/