বিসিএসে পদ ভাগাভাগির গুঞ্জণ অস্বীকার বিবিঅ্যান্ডবি প্যানেলের

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সিমিতির (বিসিএস) পরবর্তী কমিটির শীর্ষ পদে বছরওয়ারী ভাগাভাগির গুঞ্জণ শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে। একমাত্র প্যানেল হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বেটার বিজনেস অ্যান্ড বিসিএসের(বিবিঅ্যান্ডবি) দিকেই এ অভিযোগের তীর সবচেয়ে বেশি।

সম্প্রতি টেকশহরডটকমে ‘বিসিএসে ভাগাভাগির নেতৃত্ব চান না সদস্যরা’ শীর্ষক প্রচার শুরু হলে এ বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারণার সামনে চলে আসে। বর্তমান কমিটির মতো আগামীতেও সভাপতি পদে ভাগাভাগি হতে পারে বলে আলোচনা শুনেছেন বলে সদস্যদের অনেকেই উল্লেখ করেন।

ভোটাররা নির্বাচনে অংশ নেওয়া একটি অংশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে গুজবের কথাও জানান। এদের অনেকে বিবিঅ্যান্ডবি প্যানেলের নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করেন।

bb&b-bcs-TechShohor

গত মেয়াদে প্যানেলে নির্বাচন করে পদ ভাগাভাগির সংস্কৃতি চালু হওয়ায় এবারও ভোটাররা সেই আশংকাই করেছেন বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন।

তবে নির্বাচনে জয়ী হতে পদ ভাগাভাগির কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিবিঅ্যান্ডবি প্যানেলের নেতারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্যানেল প্রধান ও কম্পিউটার সোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম মাহফুজুল আরিফ সদস্যদের এ অভিযোগ ও গুঞ্জণকে নাচক করে দিয়ে টেকশহরডটকমকে বলেন, নির্ধিদ্বায় বলতে পারি আমদের পদ ভাগাভাগির কোনো পরিকল্পনা নেই। সময় ও বাস্তবতার প্রয়োজনে সমিতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্যানেলের মাধ্যমে আমরা ঐক্যবদ্ধ পথচলা শুরু করেছি।

আরিফ বলেন, বিবিঅ্যান্ডবি প্যানেলের পক্ষ থেকে যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা গেলে সমিতি অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এ খাতের উন্নয়ন ও সংগঠনকে নতুন রূপ দিতে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত রূপরেখা ও পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের জন্য অভিজ্ঞ নেতৃত্ব। এককভাবে তা সম্ভব নয় বলেই প্যানেল গঠন করা হয়েছে।

গতবার নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে আগেই এমন সন্ধি করা হয়েছিল বলে অনেক ভোটার টেকশহরডটকমকে জানিয়েছেন। তারা বলেন, ওই সময় এমন গুঞ্জণকে তারা বিশ্বাস করতে চাননি। যদিও পরে এটি বাস্তবে পরিণত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন অনেকে।

চলতি ২০১২-২০১৩ মেয়াদে সভাপতি হয়েছেন তিন জন। ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন মো. ফয়েজউল্লাহ খান। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন সহ-সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম। তিনি পাঁচ মাস সভাপতি থাকেন। এরপর কমিটিতে পরিচালক পদে থাকা মোস্তাফা জব্বারকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। যিনি এখন পর্যন্ত এই পদে রয়েছেন।

এসব প্রসঙ্গে বিবিঅ্যান্ডবি প্যানেল প্রধান বলেন, আমরা প্রফেশনাল ব্যবসায়ী। আসলে এক মেয়াদে দু’বছর অনেক দীর্ঘ সময়। একটি সংগঠনের দায়িত্ব নিলে সেখানে অনেক সময় দেওয়ার বিষয় থাকে। অনেন ক্ষেত্রে পুরো মেয়াদজুড়ে সময় দেওয়ার ধারাবাহিকতা নাও থাকতে পারে। তাই গতিশীল একটি সংগঠনের জন্য অন্য কারও দায়িত্ব নেওয়াকে ভিন্নভাবে দেখা উচিত নয়।

সংগঠনের প্রয়োজনে নিবেদিত প্রাণ দাবি করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠক আরিফ বলেন, একজন ব্যক্তি হয়ত সব সময় পদে থাকবেন না। তবে দায়িত্বে না থাকলেও পেছন থেকে ঠিকই সমিতি ও সদস্যদের প্রয়োজনে কাজ করবে।

বিসিএস এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ১৯৮৭ সাল থেকে প্রায় এক যুগ বিসিএসের নেতৃত্বে থাকা আব্দুল্লাহ এইচ কাফী এ প্রসঙ্গে টেকশহরডটকমকে  বলেন, ‘এটি আমাদের দুর্ভাগ্য। এ কারণে সমিতির প্রতিষ্ঠা হয়নি। এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর যে এখন পদের ভাগাভাগি হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বা মহাসচিব হওয়াটাই যেন মূল উদ্দ্যেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা সংগঠনকে ধীরে ধীরে খারাপ অবস্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

BCS Election-TechShohor

ভাগাভাগির কমিটির বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বর্তমান মেয়াদে সর্বশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফা জাব্বার। তিনি বলেন, বর্তমান মেয়াদে এক পর্যায়ে আমরা দেখলাম সমিতির কাজ ঠিকভাবে হচ্ছে না। পরে কমিটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাকে সভাপতির দায়িত্ব দিল।

বিবিএন্ডবি প্যানেলের আরেক নেতৃস্থানীয় সদস্য আরএম সিস্টেমস লিমিটেডের সত্ত্বাধিকারী আলী আশফাক টেকশহরডটকমকে বলেন, সংগঠনের উন্নতি ও কাজই যদি মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়- তাহলে কে কখন পদে থাকল তা নিয়ে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

বিবিঅ্যান্ডবি প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন, মুজিবুর রহমান স্বপন (হাইটেক প্রফেশনালস), এটি শফিক উদ্দীন আহমেদ (ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার ভিশন), ইউসুফ আলী শামীম (কম্পিউটার পয়েন্ট), নজরুল ইসলাম মিলন (পিসি মার্ট) ও কাজী শামসুদ্দীন আহমেদ লাভলু (এবিসি কম্পিউটার কর্ণার)।

অন্যদিকে প্যানেলের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ছয় জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিসিএস কার্যনির্বাহী কমিটির পদ সাতটি। এবার মোট ভোটার ৭৩৩ জন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন, মঈনুল ইসলাম (টেকভ্যালি), আব্দুল মোমেন খান (ডাটা সল্যুশন), সঞ্জয় কুমার সাহা (জান কম্পিউটার), ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার (সিএনসি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল), এস এম ওয়াহেদুজ্জামান (মাইক্রোসান সিস্টেম) ও নাজমুল আলম ভূঁইয়া (সাইবার কমিউনিকেশন)।

Related posts

*

*

Top