বিসিএস নিয়ে পরিকল্পনার বাস্তব রুপ দিতে চান মঈনুল

আল আমীন দেওয়ান : দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বিসিএসের ২৯ মার্চের নির্বাচনকে সামনে রেখে টেকশহরডটকমের সিরিজ প্রতিবেদনের সঙ্গে থাকছে বর্তমান ও সাবেক নেতা, প্রার্থী ও ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতা।

নির্বাচনকে ঘিরে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সদস্যরা এখন বেশ আলোচনায় আছেন। ভোটের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা ভোটার-সদস্যদের সঙ্গে সংগঠনের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতের বিষয়-আশয় নিয়ে আলাপচারিতায় ব্যস্ত।

নির্বাচনের এ ডামাডোলের মধ্যে টেকশহরডটকমও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বৃহত্তম এ সংগঠনের বর্তমান হালচাল, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি, ভোটারদের চাওয়া পাওয়ার বিষয়ে জানতে কথা বলেছে অনেকের সঙ্গে। এ প্রতিবেদনে থাকছে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মঈনুল ইসলামের সঙ্গে আলাপচারিতার চুম্বক অংশ।

moinul islam_techshohor

বর্তমান কমিটিতে কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন মঈনুল ইসলাম। টেক ভ্যালি কম্পিউটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ব্যবসায়ী সংগঠক বর্তমান কমিটির আগেও পাঁচবার কার্যনির্বাহী কমিটিতে ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স থেকে মাস্টার্স করা এ ব্যবসায়ী এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

মঈনুল বলেন, ভোটাররা এখন আর আগের মতো নেই। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সব খবর তারা রাখেন। এ খাতের উন্নয়নে কারা কাজ করছে, কারা কাজ করতে সক্ষম সেগুলোর খোঁজখবর ভালোভাবেই রাখেন। বিসিএসর নেতৃত্বে তারা সবসময়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবারও তারা ঠিক যোগ্য ব্যক্তিকেই ভোট দেবে বলে তার বিশ্বাস বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘আমার সম্পর্কে সবাই বেশ ভালভাবেই জানে। নেতৃত্বে ছিলাম, কাজ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কোনো আশ্বাস বা প্রলোভনে বিশ্বাস করি না। নিজের যোগ্যতা এবং ক্ষমতা সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন আছে।’

মঈনুল বলেন, এমন উদাহরণ আছে ব্যবসায় পড়াশুনা করে অনেকে নামের আগে প্রযুক্তিবিদ বসায়। এমনটা শুনতে হয়তো অনেকের ভালো লাগে। কিন্তু আমি মেকি এই তোশামোদী ও প্রশংসার সঙ্গে থাকতে চাই না’।

নিজেকে স্পষ্টভাষী দাবি করে এ সংগঠক তিনি বলেন, ‘আমি কাজ করতে চাই। বর্তমান বিসিএসের নীতি নির্ধারণে আমার ভূমিকা রয়েছে। বিদেশি বিভিন্ন সভা সেমিনারে আমাকেই বক্তব্য রাখতে হয়, প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমিতির পক্ষ থেকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হয়েছে। ভোটার-সদস্যরা তা ভুলে যাননি মনে হয়।’

BCS Election-TechShohor

ব্যবসায়ী ও আইসিটি খাতের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান সহ-সভাপতি বলেন, সমিতিকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়নে নিরন্তর চেষ্টা থাকবে। অনেক কিছু হবে, আবার কিছু কাজ বাকি থাকবে। এই বাস্তবতা মানতে হবে। ঠিক এখানেই আমি স্পষ্টভাষী। দেশের রাজনীতির কিছুটা আবহ হয়তো সমিতির নির্বাচনে ভূমিকা রাখে, কিন্তু সেটা কতটুকু ভালো কিছু দেয় তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিএসের কার্যক্রম আর ঘরোয়া নেই উল্লেখ করে মঈনুল বলেন, সরকারের পলিসি লেভেলে সম্পর্ক, ইন্ডাস্ট্রিয়াল লেবেলে সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যোগাযোগ ও সম্পর্কের ভিত্তিতে কাজ করতে হয়। এটা বিসিএস নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ। তাই এ কাজগুলো যিনি দক্ষতার সঙ্গে করতে পারবেন তাকেই সংগঠনের নেতৃত্বে রাখা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Related posts

*

*

Top