স্মার্টওয়াচ আনলো অ্যাডিডাস

টেক শহর ডেস্ক : আপনি যদি দৌড়বিদ কিংবা ব্যায়ামবিদ হয়ে থাকেন, তাহলে ঘড়িটি আপনার জন্যই তৈরি। এর হার্ট মনিটর আপনার নাড়ির গতি পরিমাপ করবে। হিসাব-নিকাশের জন্য আছে জিপিএস। আকারে কিছুটা বড় হলেও এটি দেখতে যথেষ্ট আকর্ষণীয়। অবশ্য এটি কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপিল্গকেশন সাপোর্ট করবে না।

এমন বর্ণনাই দেওয়া হয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারক অ্যাডিডাসের তৈরি স্মার্টরান সম্পর্কে। টাচস্ক্রিন ও বিল্ট-ইন হার্ট মনিটর সম্বলিত নতুন ধরনের ঘড়ি কাম রিস্টব্যান্ড তৈরি করেছে তারা। সম্প্রতি সানফ্রান্সিসকোতে এটি উন্মোচন করা হয়। মাইকোচ স্মার্টরান নামের এ ডিভাইসের মাধ্যমে কোম্পানিটি স্মার্টওয়াচ ব্যবসায় পা রাখল।

চলতি মাসেই অ্যাডিডাসের প্রতিদ্বন্দ্বী নাইকি ট্র্যাকিং ডিভাইস ফুয়েলব্যান্ডের নতুন সংস্করণ বাজারে ছেড়েছিল।

অ্যাডিডাস ও নাইকি মূলত ক্রীড়া ও জুতা তৈরির জন্য বিখ্যাত হলেও সম্প্রতি তারা প্রযুক্তির সঙ্গে স্পোর্টসকে মিশিয়ে নতুন নতুন ফ্ল্যাগশিপ পণ্য বাজারে ছাড়ছে।

adidas smart run, techshohor

মাইকোচ স্মার্টরান ঘড়িটির দাম ৪০০ ডলার, যেখানে নাইকির ফুয়েলব্যান্ডের দাম মাত্র দেড়শ। তারপরও অতিরিক্ত সেন্সর, এমপি থ্রি পেল্গয়ার, ওয়্যারলেস হেডফোন ইত্যাদি সংযোগের ব্যবস্থা রয়েছে স্মার্টরানে। যে কারণে এটি স্মার্টওয়াচ বাজারে জায়গা করে নিতে পারে বলে মনে করছে বিশেম্লষকরা।

এ ছাড়া অ্যাডিডাসের ঘড়ির অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড্রয়েডসহ প্রতিটি মোবাইল প্ল্যাটফর্মেই রয়েছে, কিন্তু নাইকির ফুয়েলব্যান্ড অ্যাপ কেবল আইফোন সাপোর্ট করে। অ্যাডিডাস জানিয়েছে, এতে সাধারণ মোডে ১৪ দিন পর্যন্ত চার্জ থাকে। আর সব সেন্সর চালু করে পুরোদমে ব্যবহার করলে চার্জ থাকে চার ঘণ্টা।

তবে সনির স্মার্টওয়াচ টু ও স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি গিয়ারের তুলনায় স্মার্টরানের স্ক্রিন বেশ ছোট (১.৪৫ ইঞ্চি)। তারপরও স্মার্টফোন নির্ভর না হওয়ায় এটি সনি ও স্যামসাংয়ের ডিভাইসগুলোর তুলনায় স্বতন্ত্র বলা যেতে পারে।

অ্যাডিডাস জানিয়েছে, আগামীতে নতুন ফিচারের অত্যাধুনিক স্মার্টওয়াচ বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। অ্যাপল, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানি নিজ নিজ ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও স্মার্টওয়াচের বাজার ধরার সুযোগ অন্য কোম্পানিরও রয়েছে। নিজেদের এ ক্ষেত্রে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে তারা।

সম্প্রতি জুনিপার রিসার্চ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, পরিধানযোগ্য গ্যাজেটের বাজার ১০৪ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০১৮ সাল নাগাদ ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে।

– বিবিসি প্রতিবেদন থেকে শাহরিয়ার হৃদয়

Related posts

*

*

Top