Maintance

মেধাস্বত্ব : সফটওয়্যার বদলে যায় সাহিত্যকর্মে

প্রকাশঃ ৩:০৯ অপরাহ্ন, আগস্ট ১৯, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:০৬ অপরাহ্ন, আগস্ট ২০, ২০১৭

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে মেধাস্বত্ব নিবন্ধনে কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট কোনো উদ্ভাবনের নিজস্ব স্বীকৃতি নেই। এখনও ডিজিটাল উদ্ভাবন ও সফটওয়্যারের এই মেধাস্বত্ব মেলে সাহিত্যকর্মের পরিচয়ে।

‘কম্পিউটার সৃষ্ট সৃজনশীল কর্মসহ কম্পিউটার প্রোগ্রামও ‘সাহিত্যকর্মের’ অন্তর্ভূক্ত হবে’-এমনটাই বলা রয়েছে কপিরাইট আইন-২০০০ (সংশোধিত ২০০৫) এ। আর এ সংজ্ঞা অনুসারেই নিজস্ব পরিচয় হারিয়ে নিবন্ধন হয়ে আসছে কম্পিউটার ব্যবহার করে তৈরি উদ্ভাবনগুলো।

বর্তমানে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ইতোমধ্যে কপিরাইট আইন দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি আগস্টের শুরুতেই আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে এ সংশ্লিষ্ট কমিটি।

                                              কপিরাইট আইন- ২০১৭ (সংশোধন) কমিটির বৈঠকে খসড়া চূড়ান্ত করা হয়

কপিরাইট আইন-২০১৭ সংশোধন কমিটির সদস্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, নতুন সংশোধনে কম্পিউটারের মাধ্যমে কোনো উদ্ভাবন ডিজিটাল কর্ম হিসেবে স্বতন্ত্র স্বীকৃতিতে নিবন্ধন হবে। এখানে ডিজিটাল অধিকারের বিষয়টি সুস্পষ্ট করা হয়েছে।

গত ১ আগস্ট খসড়াটি ঠিকঠাক করা হয়েছে এবং পরে তা আরও কিছু যাচাই বাছাই শেষে চূড়ান্ত করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের ডেপুটি রেজিস্টার অব কপিরাইট জোহরা বেগম টেকশহরডটকমকে জানান, আইনটি ২০০৫ সালে একবার সংশোধন করা হয়। এবার সংশোধন হলে এ সমস্যাগুলো থাকবে না। এখানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিশেষজ্ঞজনের মতামত নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দেশের সফটওয়্যার খাতের সংগঠন বেসিসের সভাপতি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের এই সদস্য আরও জানান, ২০০৯ সাল থেকে আইনটির সংশোধন চাচ্ছেন তারা। সফটওয়্যারকে এখনও সাহিত্যকর্ম হিসেবে নিবন্ধন করতে হয়-এটি ডিজিটাল বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে লজ্জার। সফটওয়্যার আলাদা পরিচিতিই পায় না।

মোস্তাফা জব্বার জানান, সফটওয়্যার ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এখন আরও জটিল হয়েছে। কারণ যখন আইনটি করা হয়েছে তখন দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার আজকের মতো ছিল না। ফলে ইন্টারনেটে যে পাইরেসিগুলো হয় অথবা ইন্টারনেটে যে কপিরাইট থাকে সেগুলো সম্পর্কে তখন তেমন ধারণা ছিল না।

‘এখন ফেইসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে পাইরেসি হচ্ছে, স্ট্যাটাসও কপি হয়। ইন্টারনেট হতে বিভিন্ন তথ্য কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়া হয়। এই জায়গাগুলো চিহ্নিত করা নেই উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, সরকার তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিপুল অর্থ খরচ করছে। কিন্তু এগুলোর মেধাস্বত্ব ঠিক থাকছে কিনা তা দেখাও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়গুলো এখনই ঠিক করা না হলে ভবিষ্যতে এ খাতে সংকট তৈরি হবে।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ ফোরাম ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের সভায় সফটওয়্যারকে সাহিত্যকর্ম হিসেবে নিবন্ধনের বিষয়ে সমালোচনা করা হয়। ‘বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে’ তাই আইনটি দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটির ওই সভা হতে বেসিস ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ত্ব বিভিন্ন দেশে কীভাবে কপিরাইট আইনে অন্তর্ভূ্ক্ত রয়েছে তা পর্যালোচনা করে দেখতে বলা হয়েছিল।

আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, মেধাস্বত্ত্ব সম্পর্কিত আইন বৃটিশ আমল হতেই আছে। বাংলাদেশ হবার পর সেটি সংশোধন করা না হওয়ায় ট্রেডমার্ক, প্যাটেন্ট ও ডিজাইন আইনের সঙ্গে আগের কপিরাইট আইনই চালু থাকে। আগের আইনের কাঠামো ও ধারাগুলো প্রায় একই থাকে।

দেশের আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০০ সালে এ আইন যুগোপযোগী করে নতুন আইন হয়। পরে সংশোধন করা হয় ২০০৫ সালে। এরপরও আইনে এসব ফাঁকফোঁকর রয়ে যায়।

*

*

Related posts/