Maintance

ই-বর্জ্য নীতিমালার খসড়ায় ব্যবসায়ীদের অসন্তোষ

প্রকাশঃ ৫:৩১ অপরাহ্ন, আগস্ট ৬, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, আগস্ট ৭, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে তথ্যপ্রযুক্তিপণ্য ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), ইলেক্ট্রনিক পণ্য ব্যবসায়ীসহ এসব খাতের বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক সংগঠন ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খসড়া নীতিমালার সমালোচনা করেছে।

তারা বলছে, দেশে হার্ডওয়্যার খাতের সংগঠন হলেও তাদের পরামর্শ ছাড়াই পরিবেশ অধিদপ্তর আইনটির খসড়া প্রণয়ন করেছে। নীতিমালাটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি বাস্তবায়ন হলে হার্ডওয়্যার পণ্য ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

‘ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য হতে সৃষ্ট বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৭’ খসড়া আইনের প্রস্তাবিত ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রস্তুতকারক বা দোকানীরা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য বিক্রির সময় সেই পণ্যের দামের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হারে টাকা সেই গ্রাহকদের কাছ থেকে রেখে দেবে। পণ্যটি যখন ই-বর্জ্যে রূপান্তিরিত হবে তখন সেটি দোকানীর কাছে ফেরত দিয়ে সেই ৫ শতাংশ টাকা ফেরত নেবে।

তবে দেশে এমন নীতিমালা এখনি করা সম্ভব নয় এবং এটি করতে গেলে ব্যবসায়ীরা অনেকটাই ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে বলছেন সংগঠনটির নেতারা।

BCS-TECHSHOHOR

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার টেকশহরডটকমকে বলেন, সাধারণ মানের একটি পণ্য কিনতেই মানুষকে হিমশিম খেতে হয়। সেখানে আরও টাকা দোকানীর কাছে ক্রেতারা গচ্ছিত রাখবে এটা কল্পনাও করা যাবে না। নীতিমালাটি বাস্তবায়ন হলে এই খাতে অনেকটাই স্থবিরতা আসতে পারে।

তিনি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর বিসিএস, ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য বিক্রেতা সংগঠন, মোবাইল ফোন বিক্রেতা সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই এমন একটি নীতিমালা তৈরি করে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে পাঠিয়েছে অনুমোদনের জন্য। কিন্তু এটা কোনোভাবেই তাদের কাম্য ছিল না। এখন ১৫ দিনের মধ্যে এর বিষয়ে মতামত জানাতে বলা হয়েছে।

সুব্রত সরকার বলেন, নীতিমালাটি অনেকটাই অসম্পূর্ণ। কারণ এখানে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পুরো দায়টায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের উপর। সেখানে সিটিকর্পোরেশন বা সরকারের তেমন কোনো দায়ই দেখা যাচ্ছে না। এমনকি এগুলো রিসাইকেল করা হবে কীভাবে, কোথায় সেসম্পর্কেও নীতিমালায় স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের তৈরি করা নীতিমালার খসড়া নিয়ে একটি মতবিনিময় সভাও করেছে খাতটির সংগঠনগুলো।
শনিবার বিসিএসের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য হতে সৃষ্ট বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৭’ প্রসঙ্গে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

E-Waste-Techshohor

বিসিএস সভাপতি আলী আশফাকের সভাপতিত্বে সভায় মূল বিষয় উপস্থাপন করেন বিসিএস মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার।
আলী আশফাক বলেন, কোনো বিধিমালা প্রণয়ন করতে হলে এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে অগ্রসর হতে হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর সেটি করেনি। এমনকি এর জন্য দেশে যথেষ্ট বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন ছিল।

সভায় বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা প্রণয়ন চান কিন্তু সেটি যেনো ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্তরায় না হয় সেদিকে নজর রাখতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি দেওয়ার কথা বলেন।

অ্যাসোসিওর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ্ এইচ কাফি বলেন, ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে কোনো বিধিমালা করা উচিত হবে না। প্রস্তাবিত বিধিমালায় অনেক বিষয় সুস্পষ্ট নয়। এই খসড়া থেকে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়। ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্সের অনেকগুলো সংগঠন এই বিধিমালার সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত। সুতরাং এই খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের উচিৎ সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রতিনিয়িত মতবিনিময় করা।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব গৌরাঙ্গ দে, স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

সভা শেষে নতুন বিধিমালা খসড়া পর্যালোচনার জন্য তিন মাস সময় দরকার এবং সাত দিনের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত আরো তিন মাস সময় বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব পেশ করা হয়

সবার সম্মতিক্রমে বিধিমালার খসড়া নিয়ে পর্যালোচনা করতে ন্যূনতম ৯০ দিন সময় বাড়িয়ে নেয়ার প্রস্তাব গহণ করা হয়েছে।

মত বিনিময় সভায় বাংলাদেশ এয়ার কন্ডিশন ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম. লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ল্যাপটপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুস, ই-ক্যাবের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মাদ আব্দুল হক, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং এর প্রধান কার্যনির্বাহী কর্ণেল (অব.) মাহতাবুল হক, সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার, ওয়ালটন গ্রুপের এজিএম এসএম মিজানুর রহমান, এডিসন গ্রুপের মার্কেটিং ম্যানেজার এসএম শাহরিয়ার হুদাসহ ইলেকট্রনিক্স এবং ইলেকট্রিক্যাল ব্যবসায়ীদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

Related posts/