Maintance

ঢাকায় পাবলিক টয়লেট কোথায়, জানাচ্ছে অ্যাপ

প্রকাশঃ ১২:০৪ অপরাহ্ন, জুলাই ৩০, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:১১ অপরাহ্ন, জুলাই ৩১, ২০১৭

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ‘ছোট্টবন্ধু পায়খানা ব্যবহার করো’ কানে হয়তো এমন কথা এখনো লেগে আছে মিনা কার্টুনের বদৌলতে! সেই মীনা, প্রদীপের দৈত্য আর তার তিনটি ইচ্ছে।

মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারে আগ্রহী করে তুলতে মীনারা যেমন কাজ করেছে, তেমনি এখন সেই আগ্রহী করে তোলার কাজ করে মোবাইল অ্যাপ।

জনবহুল ঢাকায় অপর্যপ্ত পাবলিক টয়লেট সমস্যা  সমাধানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরে বেশকিছু অত্যাধুনিক ‘পাবলিক টয়লেট’ নির্মাণ করা হয়েছে।

ঢাকায় এমন পাবলিক টয়লেট খুঁজে দিতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান প্রেনিউর ল্যাব ও ওয়াটার এইড উদ্ভাবন ‘ঢাকা পাবলিক টয়লেট অ্যাপ’। অ্যাপটির সাহায্যে যেকোনো ব্যক্তি তার আশেপাশে থাকা টয়লেটের সন্ধান পাবেন।

Public toilet-WSA-Techshohor

অ্যাপটির সাহায্যে একজন ব্যবহারকারী পাবলিক টয়লেটের অবস্থান, অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। সেখানে পরিচ্ছন্নতার অবস্থা, নারীদের উপযোগী কিনা, কয়টি রুম আছে, লাগেজ রাখার ব্যবস্থা আছে কিনা, খাবার পানি ব্যবস্থা, ব্যবহারের চার্জসহ প্রতিটি টয়লেটের প্রায় ১৯ ধরনের তথ্য জানতে পারবেন।

‘পাবলিক টয়লেট’ নিয়ে অ্যাপ তৈরির ধারণাটা কিভাবে আসলো? জানতে চেয়েছিলাম প্রেনিউর ল্যাবের প্রধান নির্বাহী আরিফ নিজামীর কাছে।

তিনি বলেন, পাবলিক টয়লেট একটা সাধারণ বিষয় মনে হলেও সময় মত টয়লেট না ব্যবহার করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে। বেশি দিন সময়মত টয়লেট ব্যবহার না করলে কিডনি রোগ ও অন্ত্রে নানান রোগ হবার আশঙ্কা থাকে। একইসঙ্গে রাস্তা-ঘাটে মলমূত্র ত্যাগ পরিবেশে বিপর্যয় ডেকে আনে। এসব বিবেচনা করেই ওয়াটার এইডের সঙ্গে প্রেনিউর ল্যাব এমন একটি অ্যাপ তৈরিতে হাত দেয়।

আরিফ নিজামী জানান, তাদের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে কত সহজে গণশৌচাগারের তথ্য জানানো যায়। আর সেটা যদি স্মার্টফোনে হয় তবেতো সবশ্রেণীর মানুষের পক্ষেই এটি খুঁজে পাওয়া ও ব্যবহার  খুব সহজ হয়।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা পাবলিক টয়লেট ম্যাপ অ্যাপ’ সমৃদ্ধ করতে একটি কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে এখন ১০০টি গুগল ম্যাপে সংযুক্ত করে এই অ্যাপের মাধ্যমে জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষকে জানাতে এখন ওয়াটার এইডের সঙ্গে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

যেসব তথ্য আছে
জিপিএস লোকেশন, অবস্থান, ল্যাটিচুড এবং লঙ্গিচুড; টয়লেট খোলা এবং বন্ধ হওয়ার সময়, নারী এবং পুরুষের জন্য সুযোগ-সুবিধা, ছবি এবং দরদাম।

এছাড়াও অ্যাপটিতে রয়েছে একটি ক্যাটাগরি যেখানে দেখা যাবে টয়লেটটি কোন প্রতিষ্ঠানের। সেটি পাবলিক, মসজিদ, মন্দিরের নাকি ব্যক্তিগত টয়লেট।

দেওয়া যাবে তথ্যের ইনপুট
অ্যাপটিকে সমৃদ্ধ করতে প্রথমে ঢাকা শহরকে ৮২টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ঢাকা শহরের টয়লেটগুলোকে গুগল ম্যাপের আওতায় আনার লক্ষ্যে ‘টয়লেট ফর বাংলাদেশ’ নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়। এখানে গিয়ে যে কেউ তার আশেপাশের পাবলিক টয়লেটের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

এ ছাড়াও ‘পাবলিক টয়লেট ডেটা কালেকশন অ্যাপ’ নামে একটি অ্যাপও তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে যে কেউ চাইলে স্মার্টফোনে পাবলিক টয়লেটের প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করতে পারবেন। প্রাপ্ত ডাটা অ্যাপে ইন্টিগ্রেট করা হবে।

পেয়েছে পুরস্কার
কাজ শুরুর আগেই ২০১৬ সালে আইডিয়া দিয়ে প্রেনিউর ল্যাব দেশে ‘ব্র্যাক মন্থন ডিজিটাল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড’ পায়। একই বছর জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাওয়ার্ডে ‘স্মার্ট সেটেলমেন্ট এবং আরবানাইজেশন’ বিভাগে সেরা অ্যাপ নির্বাচিত হয়। এছাড়াও অ্যাপটি সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিযোগিতায় জিতেছে। উদ্যোক্তাদের পুরস্কারটি দেওয়া হবে ৪ আগস্ট।

যেসব গণশৌচাগার অ্যাপটিতে নিবন্ধন করা হয়েছে সবগুলোর পরিবেশ খুব ভালো। ফলে মানুষ সহজেই এবং কোনো ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানান আরিফ নিজামী।

এই ঠিকানা থেকে যে কেউ অ্যাপটি সহজেই অ্যান্ড্রয়েড ফোনর জন্য ডাউনলোড করতে পারবেন।

*

*

Related posts/