নতুন ব্যবসার খোঁজে অ্যাপল, মূল লক্ষ্য গাড়ি ও স্বাস্থ্য সেবা

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মরো না হয় মারো- এ নীতিতেই চলে সিলিকন ভ্যালির বেশিরভাগ কোম্পানি। হয় প্রযুক্তি বিশ্বে শক্ত অবস্থান দখল করো, নইলে প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হেরে বিক্রি হয়ে যাও।

গুগল ও অ্যামাজন এ নীতির প্রয়োগে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বলা যায়। বিভিন্ন কোম্পানি অধিগ্রহণ করেই চলেছে তারা। নিজেদের ব্যবসার ঘাঁটি আরও শক্ত করতে তৈরি করছে স্বনিয়ন্ত্রিত গাড়ি। ড্রোন (চালকবিহীন প্লেন) দিয়ে চালু করছে পার্সেল সার্ভিস।

এ দুই টেক জায়ান্টের সঙ্গে তুলনা করলে সিলিকন ভ্যালির আরেক জায়ান্ট কিছুটা স্থবিরই বলতে হয়—অ্যাপল। অবশ্য স্মার্টফোনের জনক এবং মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি আমূল বদলে দেওয়ার কৃতিত্ব অ্যাপলেরই।

apple iwatch_techshohor

তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ইলেকট্রনিক্সের বাইরে ওষুধ বা গাড়ি শিল্পের দিকেও ঝুঁকছে স্টিভ জবসের স্বপ্নের কোম্পানিটি।

অ্যাপল সাধারণত যে কোনো গবেষণা বা উদ্ভাবন নিজেরা করতেই ভালোবাসে। অ্যাপলের নিজস্ব ব্যতিক্রম সংস্কৃতিতে অন্য কোম্পানিকে যুক্ত করতে চাইতেন না জবস। তাই খুব ছোট দুয়েকটা কোম্পানি ছাড়া তেমন অধিগ্রহণ করেনি অ্যাপল। কিন্তু জবস না থাকয় কোম্পানিটি এ নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ জবসহীন অ্যাপল আগের মতো উদ্ভাবনী নয় বলে এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

অ্যাপলের অধিগ্রহণ বিভাগের প্রধান আদ্রিয়ান পেরিকা গত ১৮ মাস ধরে বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মার্কিন এক পত্রিকার সূত্র মতে, অ্যাপল চাইছে কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্সের বাইরে তাদের ব্যবসা ছড়িয়ে দিতে।

এ জন্য বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। পছন্দের কোম্পানির তালিকায় বিখ্যাত ইলেকট্রিক কোম্পানি টেসলাও আছে। যারা গাড়ির নানা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

iso in car_techshohor

এ ছাড়া অ্যাপলের আগ্রহ চিকিৎসা খাতেও। তারা এমন এক সেন্সর তৈরি করতে চাইছে, যা হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কে আগে থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারবে। অধিগ্রহণ সম্পর্কিত এসব কার্যক্রমের জন্য অ্যাপল সর্বশেষ প্রান্তিকে ৫২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যা গত বছরের এ খাতের পুরো ব্যয়ের চেয়ে বেশি।

ইয়াহুর অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জেফ ম্যাকি এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমার ভয় হলো, অ্যাপল আবার মাঝারি মানের পণ্য তৈরি করতে শুরু করে কিনা। আমি মনে করি তারা গুগলের মতো হলেই ভালো। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, তারা সনির মতোও হতে পারে এবং একগাদা পণ্য এনে বাজার সয়লাব করতে পারে।’

আগামী এপ্রিলের আগে যদি অ্যাপল নতুন কোনো আকর্ষণীয় পণ্য আনতে না পারে, তাহলে তাদের শেয়ার ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে জানান ম্যাকি।

– ইয়াহু অবলম্বনে

Related posts

*

*

Top