নির্বাচনী প্রচারণায় শহর থেকে শহরে বিসিএস প্রার্থীরা

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টায় প্রচারণার ব্যপ্তি বাড়িয়েছেন প্রার্থীরা। রাজধানী ছাড়িয়ে এখন তারা ছুটে চলেছেন শহর থেকে শহরে। ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে।

প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সবাই কোথাও না কোথাও নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত। বিভাগীয় শহরগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক কমিটিগুলোর সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে বিভিন্ন শহরে যাচ্ছেন।

ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি দেখা সাক্ষাতের পাশাপাশি অনেকে মোবাইল ফোনে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, এসএমএস পাঠাচ্ছেন।

BCS Election-TechShohor

এবার সমিতির কার্যনিবার্হী পরিষদ নির্বাচনে সাত পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ১৩ জন। এর মধ্যে ‘বেটার বিজনেস অ্যান্ড বিসিএস’ প্যানেল থেকে সাত জন এবং স্বতন্ত্র হিসাবে ছয় জন অংশ নিচ্ছেন। আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনের মোট ভোটার ৭৩৩  জন।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসাবে চট্টগ্রামে গেছেন একমাত্র প্যানেলটির প্রার্থীরা। প্যানেল কম্পিউটার সোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম মাহফুজুল আরিফ রোববার টেকশহরডটকমকে বলেন, ভোটাররা প্যানেলের প্রতি আস্থা রাখছেন। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বিসিএসে নুতন নেতৃত্ব দেখতে চান বলে জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামে অবস্থান করা এ প্যানেলের আরেক নেতৃস্থানীয় প্রার্থী আরএম সিস্টেমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আশফাক টেকশহরডটকমকে জানান, প্রচারণার কাজ বেশ জোরোশোরে চলছে। পর্যায়ক্রমে রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, যশোর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন শহরে যাচ্ছি। ব্যবসায়ীদের সুবিধা অসুবিধার কথা শুনছি।

আশফাক জানান, আমাদের প্যানেলের সব সদস্যই বিভিন্নভাবে বিভিন্নস্থানে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের ও এ খাতের উন্নয়নে বিসিএসকে কার্যকর করার স্বার্থে কাজ করার প্রতিশ্রুতির কথা বলেছি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সিএনসি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সিইও ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার টেকশহরডটকমকে বলেন, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ ৮টি শহরে তিনি ইতোমধ্যে প্রচারণা চালিয়েছন। প্রচারণার কাজে রোববারও রাজধানীল বনানীতে গিয়েছিলেন। সোমবার আবার সিলেট যাবেন তিনি।

ভোটাররা ভাল সাড়া দিচ্ছেন জানিয়ে সুব্রত বলেন, ‘ভোটাররা তাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়ার কথা বলছেন। নির্বাচিত হলে ভোটারদের স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেব বলে তাদের আশ্বস্থ করেছি।’

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইক্রো সান সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ওয়াহিদুজ্জামানও এখন চট্টগ্রামে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি টেকশহরডটকমকে বলেন, ভোটারা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। ঢাকায় ফিরে তিনি ময়মনসিংহ যাবেন। এরপর সিলেট ও রাজশাহী যাবেন এ প্রার্থী।

এবারের নির্বাচনে ‘বেটার বিজনেস অ্যান্ড বিসিএস’ প্যানেল গঠন করে কম্পিউটার সোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম মাহফুজুল আরিফের নেতৃত্বে প্রার্থী হয়েছেন মুজিবুর রহমান স্বপন (হাইটেক প্রফেশনালস), এটি শফিক উদ্দীন আহমেদ (ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার ভিশন), ইউসুফ আলী শামীম (কম্পিউটার পয়েন্ট), নজরুল ইসলাম মিলন (পিসি মার্ট), কাজী শামসুদ্দীন আহমেদ লাভলু (এবিসি কম্পিউটার কর্ণার) ও আলী আশফাক (আরএম সিস্টেমস লিমিটেড)।

স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন, মঈনুল ইসলাম (টেকভ্যালি), আব্দুল মোমেন খান (ডাটা সল্যুশন), সঞ্জয় কুমার সাহা (জেএএএন কম্পিউটার), ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার (সিএনসি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল), এস এম ওয়াহেদুজ্জামান (মাইক্রোসান সিস্টেম) ও নাজমুল আলম ভূঁইয়া (সাইবার কমিউনিকেশন)।

এদিকে নির্বাচনে আটটি শাখা কমিটির মধ্যে সাতটির প্রার্থীরা ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। শাখাগুলো হলো- খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা এবং চট্টগ্রাম। এসব শাখায় সাতটি পদের বিপরীতে অন্য কোনো প্রার্থী ছিলেন না।

অন্যদিকে যশোর শাখায় প্রার্থী হয়েছেন ১১ জন। এ শাখার নির্বাচনও প্রার্থীদের জনসংযোগে প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে বলে জানা গেছে।

Related posts

*

*

Top