স্মার্ট প্রযুক্তিতে স্বাস্থ্য সেবায় দিন বদলের আভাস

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্ট প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অন্যসব কিছুর মতো বদলে যাচ্ছে স্বাস্থ্য খাতও। অ্যাপ্রন পরা, গলায় স্টেথোস্কোপ ঝোলানো সত্যিকারের চিকিৎসকের বদলে বাড়ছে ভার্চুয়াল চিকিৎসকের জনপ্রিয়তা। ছোটখাটো ডাক্তারি পরামর্শের জন্য অ্যাপ বা অনলাইন চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।

স্বাস্থ্যখাতকে প্রযুক্তির দিক থেকে আরও সমৃদ্ধ করতে সবার আগে চাই প্রচুর তথ্য। যার যোগান দিচ্ছে নতুন নতুন সব ডিভাইস। পরিধানযোগ্য ফিটনেস ডিভাইস, ইন্টারনেট সম্বলিত বেল্ট, ক্যালোরি পরিমাপক স্মার্টফোন—সবই আছে এসব ডিভাইসের তালিকায়।

পাশাপাশি প্রতিদিন বাজারে আসছে কমদামি অনেক ডায়াগনস্টিকস ডিভাইস। প্রেসার মাপা, ক্যালরির হিসাব-নিকাশ, হৃদপিণ্ডের অবস্থা, মেদ বাড়ছে নাকি কমছে, প্রয়োজন মতো খাবার খাচ্ছেন কিনা—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানার জন্য তাই চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন একেবারে কমে যাচ্ছে।

Health data_techshohor

ডায়াবেটিসের কথা ধরা যাক। বিশ্বের প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে ৫০ শতাংশ হৃদরোগজনিত কারণে স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন। ডায়াবেটিস রোগীদের এই ঝুঁকি কমানোর জন্য নিয়মমাফিক চলাফেরা খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে সানোফি অ্যাভেন্টিসের মতো ডিভাইস।

ব্যায়াম থেকে শুরু করে প্রতিদিনের খাবার-দাবার বিশ্লেষণ করে আপনার পুরো জীবনযাত্রাকে ধারণ করতে পারে এটি। আগে যে পর্যবেক্ষণের জন্য ডাক্তারকে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হতো, সেই পর্যন্ত কয়েক মুহূর্তে পেয়ে যাচ্ছেন তারা এই ডিভাইস থেকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ রোগী, হাসপাতালসহ সব ক্ষেত্র থেকে রোগের তথ্য একত্রিত করা গেলে গোটা পৃথিবীর স্বাস্থ্যসেবার ধরনই বদলে যাবে। কিন্তু এই একত্রিত করার কাজ এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

techshohor

ব্রিটিশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ক্লিফ মরগ্যান এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা রোগীদের সব তথ্য ডিজিটালভাবে রাখতে শুরু করেছি। এসব তথ্যের বেশিরভাগ চারশর’রও বেশি হাসপাতালে বিচ্ছিন্নভাবে আছে। এখন পর্যন্ত ৬০ ভাগ তথ্য জোগাড় করে একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যসম্ভার গড়ে তোলা হয়েছে’।

এর ফলে হাসপাতালগুলো আগের চেয়ে অনেক সূক্ষ্মভাবে চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছে। উপযুক্ত পরিসংখ্যান ও তথ্য হাতে থাকায় রোগের সঠিক কারণ বের করতেও সুবিধা হবে।

এ ছাড়া সবকিছুর সাথে বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবার মূল্যও বাড়ছে। ২০১৫ সালে স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস(এনএইচএস)। প্রযুক্তির সহায়তায় এ উচ্চমূল্য কমিয়ে আনা সম্ভব।

সাধারণ অনেক রোগের জন্য বারবার চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে একটি সার্বজনীন সমাধান দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া বর্তমানের স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে কি ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে তা বের করার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে। এর ফলে পূর্ব সতর্কতা নিয়ে বড় অঙ্কের ব্যয় কমানো সম্ভব।

Genomic medicine

আর এতসব আধুনিক প্রযুক্তি ও অগণিত তথ্যের সবচেয়ে বড় সুফলটি আসতে পারে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধী প্রতিরোধে। যেমন- ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হিউম্যান জিনোম প্রজেক্টের প্রথম ১৩ বছরে ৩০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছিল।

গত কয়েক বছরে এর চেয়ে অনেক কম খরচে প্রজেক্টের কাজ কয়েকগুণ এগিয়েছে। ইলুমিনা নামে একটি বিশেষ কম্পিউটারকে জিন ম্যাপিং এর কাজে গ্লাগানোয় এটি সম্ভব হয়েছে।

– বিবিসি অবলম্বনে

Related posts

*

*

Top