Maintance

আমরা সঠিক কাজই করছি : জাকারবার্গ

প্রকাশঃ ৬:২৭ অপরাহ্ন, জুন ২৪, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:১২ অপরাহ্ন, জুন ২৫, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মার্ক জাকারবার্গ গত এক যুগ ধরে সময় ব্যয় করছেন যে কাজটি করে সেটি হলো, আপনার বন্ধুর বাচ্চাটা কী দেখতে পছন্দ করে এবং আপনার সেই স্কুল বন্ধুটি রাজনীতি নিয়ে কী ভাবে সেটি বের করতে।

এবং অবশ্যই এর সঙ্গে মতামত ও খবর যেভাবে গণমাধ্যম এবং রাজনীতিকে পরিবর্তিত করছে… সত্য এবং ভুয়া…বিশ্বের শত কোটি মানুষকে সংযুক্ত করছে সেগুলো নিয়ে।

শিকাগোতে গত বুধবার সিএনএন টেলিভিশনকে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেন ফেইসবুকের প্রধান নির্বাহী জাকারবার্গ। ২০১২ সালের পর প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এতো গভীর বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন জাকারবার্গ।

অনেকটা আলোচনাধর্মী সাক্ষাৎকারে ফেইসবুকের মিশন এবং নতুন করে ফেইসবুক গ্রুপের বিষয়ে বেশকিছু কথা বলেন তিনি। সেই সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত কিছু অংশ তুলে ধরা হচ্ছে টেকশহর ডটকমের পাঠকের জন্য।

Zukerburg-facebook-Techshohor

ফেইসবুক প্রধান নির্বাহী স্বীকার করে নেন যে, অনলাইনের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়।

জাকারবার্গ বলেন, আমরা এমন একটি ধারণা অনুভব করতাম, যদি সেইসব কাজ করতে পারি, তাহলে পৃথিবীতে অনেকগুলি জিনিস নিজেরাই ভালো করে তুলতে পারবো।

কিন্তু এখন অনুভব করছি, এর চেয়ে আরও বেশি কিছু করার প্রয়োজন রয়েছে আমাদের।

মানুষের কণ্ঠস্বরকে সোচ্চার করা গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে তাদের মতামতগুলির বৈচিত্র্যতা দিতে হবে। কিন্তু এর উপরে, আপনাকে একটি সবার জন্য সাধারণ প্লাটফর্ম গড়তে হবে। যার মধ্য দিয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।

প্রতিষ্ঠানটির একটি নতুন মিশন রয়েছে যা হচ্ছে, মানুষকে একটি কমিউনিটি তৈরির ক্ষমতা দেওয়া এবং এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীটাকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা।

এবারই প্রথমবারের মতো মার্ক প্রতিষ্ঠানটির মিশন সম্পর্কে এমন খোলামেলা আলোচনা করেছেন। এর আগে অবশ্য তিনি বলেছিলেন, মানুষকে তথ্য শেয়ারের ক্ষমতা দেওয়া এবং বিশ্বটাতে আরও উন্মুক্ত কিন্তু সংযুক্ত করার কথা।

জাকারবার্গ বিশ্বাস করেন যে, তার কাজের জন্য শুধু কিছু সরঞ্জাম রয়েছে। এটা হলো ফেইসবুক গ্রুপ, যেটি বিশ্বের একশো কোটি মানুষ ব্যবহার করে থাকে।

জাকারবার্গ বলেন, আমরা অনেক কিছু তৈরি করতে পারি যেগুলো খুব বড় সমস্যাগুলোকে ফলপ্রসূ আলোচনা ও বিতর্কে ফেলে ভালো কিছু বয়ে আনতে সক্ষম।

শিকাগোতে অনুষ্ঠিত প্রথম ‘কমিউনিটি সামিটে’ ফেইসবুক গ্রুপের জন্য নতুন কিছু ফিচার নিয়ে আসার কথা জানান জাকারবার্গ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তের ৩০০ গ্রুপ অ্যাডমিন দুই দিনের ওই সম্মেলনে অংশ নেন। যেখানে জাকারবার্গ এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের সহযোগীরা বক্তব্য রাখেন। একই সঙ্গে সেখানে কিছু প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ফেইসবুকে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন রকমের গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব করা অ্যাডমিনরা কথা বলেন সামিটে। এসবের মধ্যে রয়েছে সমকামী শিশুদের সমর্থন জানানো মরমন মায়েরা, বিভিন্ন অজানা দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করার মতো গ্রুপের অ্যাডমিন।

‘আমি মনে করি আমরা সঠিক কাজ করছি’

নতুন করে গ্রুপে জোর দিয়েছে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ। এটাতে জোর দেওয়া মানে জনসাধারণকে আরও সম্পৃক্ত করা, এর মাধ্যমেই কমিউনিটিকে গুরুত্ব দেওয়া বলে জানাচ্ছেন জাকারবার্গ।

তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দুজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার সঙ্গে নিয়ে। এরই মধ্যে তিনি হার্ভাডে বক্তব্যও দিয়েছেন। যেখানে উপর থেকে নিচে সব পর্যায়ে কথা বলেছেন। বিষয় ছিল ইমিগ্রেশন ও মানুষের মধ্যে অসমতা নিয়ে।

ঘটনাগুলির সঙ্গে রাজনীতি জড়িত সত্ত্বেও জাকারবার্গ বলেছেন যে, তিনি অফিসের জন্য দৌড়ানো পছন্দ করেন না। বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি ব্যবহারকারীর সামাজিক মাধ্যমের যে প্রভার রয়েছে সেটি তিনি উল্লেখ করেছেন।

জাকারবার্গের লক্ষ্য মানবতার জন্য কাজ করা। যেটা ফেইসবুকের মাধ্যমে করছে। এটাকে শুধু একটি আগাগোড়া বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি।

ফেইসবুকের যেখানে বাজারমূল্য ৪৪০ বিলিয়ন ডলার, এটার অবশ্যই ব্যবহারকারীদের প্রতি দায়িত্ববোধ রয়েছে। ইতিবাচক চিন্তা করার অনেক বিষয় রয়েছে। তিনি বলেন, একারণে এর মূল্য স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাচ্ছে।

জাকারবার্গ বলেন, এজন্য কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ খুব কাজে দেয়। (জাকারবার্গ ফেইসবুকে সবসময় সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতকে প্রাধান্য দেন।

জাকারবার্গ বলেন, ফেইসবুকের এখন মাসে ১৯০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। সর্বশেষ প্রন্তিকে এটি ৮০০ কোটি ডলার রাজস্ব করেছে। যেটি শুধু এর বিজ্ঞাপন থেকে। এর থেকে আমি বলতে পারি আমরা ঠিক কাজটিই করছি।

কিন্তু গত বছর থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে যুদ্ধ করে যেতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রোফাইল কপি করা, ভুয়া সংবাদ ছড়ানো, হত্যার সরাসরি দৃশ্য প্রচারের মতো বিষয়।

তবে গত ফেব্রুয়ারিতে জাকারবার্গ ‘বৈশ্বিক কমিউনিটি তৈরির’ বিষয়টি নিয়ে ৫৭২৬ শব্দের একটি পোস্ট করে তার মিশন শুরুর ইঙ্গিত দেন। সেই পোস্ট দিয়ে তিনি বুঝতে চেয়েছেন এটি সম্পর্কে কে কি ভাবছেন।

২০১০ সালে যখন ফেইসবুক গ্রুপ চালু হয় তখন এটি ছিল ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত মানুষদের সাথে শেয়ারের জায়গা। যেখানে একটি বাচ্চা কিংবা পরিবারের সদস্যরা বা বাচ্চাদের সফ্টবল দলের মতো।

আর এখন এটি প্রত্যেকটি বিষয়ে এমনকি কল্পনাজাত বিষয় নিয়েও খোলা হয়ে থাকে। যেখানে মাত্র কয়েকজন, কোথাও শত বা হাজার লোক থাকে। যেকেউ এখন গ্রুপ খুলতে পারেন। যেটা হতে পারে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, একেবারে নিজেদের, গোপনীয় অথবা নির্দিষ্ট কয়েকজন মিলে। যেখানে এর অ্যাডমিন নির্দিষ্ট করতে পারেন যে, কে গ্রুপে থাকবে, সংযুক্ত হতে পারবে বা পারবে না।

জাকারবার্গ বর্ণনা করেন, গ্রুপে কোনো রাজনৈতিক দলও সক্রিয় থাকতে পারে। আবার তৃণমূল থেকে বৈশ্বিক সবই হতে পারে।

ফেইসবুক গ্রুপ হয়তো কখনো বিশ্বের উষ্ণতা কমাতে পারবে না। তবে এটার সহায়তায় স্বাস্থ্যকর জীবন ও আবহাওয়া পেতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারবে বলে জানান জাকারবার্গ।

মিয়ামির স্থানীয় একটি ফেইসবুক গ্রুপ, ‘ক্লিন আপ মিয়ামি বিচ’ কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। কিন্তু সেখানে ১০জন থেকে এখন ৪ হাজার ৫০০শর বেশি মানুষ যুক্ত। যারা অনেকেই মিয়ামি সমুদ্র সৈকত পরিষ্কার রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।

গ্রুপটির অ্যাডমিন মিশেল ডি ফিলিপ্পি। তিনি মিয়ামির একজন রাজনৈতিক কর্মী। আর সেই গ্রুপে রয়েছেন মিয়ামির মেয়র, কাউন্সিলরসহ অনেক ব্যক্তি। যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত। এই গ্রুপ থেকেই সোচ্চার হয়ে মিয়ামি সমুদ্র সৈকতকে পরিষ্কার রাখতে আইন প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান।

জাকারবার্গ বলেন, কথা বলার স্বাধীনতা মানি বিদ্বেষমূলক কিছু ছড়ানো নয়। কথা বলার স্বাধীনতা মানে আপনি কতোটা অন্যকে সহযোগিতামূলক আচারণে কাছে আনতে পারেন সেটারও একটা পরীক্ষা।

ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যগুলোকে রুখাও একটি কর্তব্য আমাদের। ফেইসবুক মানবতার অন্ধকার যে দিকগুলো রয়েছে সেগুলো মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এটা মোকাবিলার মধ্য দিয়েই পৃথিবীকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে বলেন জাকারবার্গ।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

Related posts/