এসএমএসে ঘুরপাক খাচ্ছে বিসিএস কার্যক্রম

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ফোনে শুধু এসএমএস দিয়ে সদস্যদের প্রতি দায়িত্ব সারছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। ব্যবসায়িক বিপর্যয়ে বা অনাকাংখিত কোনো পরিস্থিতিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের নিজেদের এ সংগঠন থেকে কোনো সাহায্য সহযোগিতা বা প্রণোদনা মেলে না সদস্যদের। কারও মৃত্যু বা অসুস্থতায় সকল সদস্যদের শুধু এসএমএস দিয়ে সহমর্মিতা ও দোয়া চাওয়ার মধ্যে কার্যক্রম ঘুরপাক খাচ্ছে বলে অভিযোগ সদস্যদের।

প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরেও সংগঠনটি সদস্যবান্ধব হতে পারেনি বলে জানিয়েছেন অনেক সদস্য। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ও এখাতের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কার্যকর নীতি সহায়তা দিতে পারেনি বলে মনে করেন তারা।

এ কারণে সংগঠনের কার্যক্রমে সদস্যদের অংশগ্রহণে আগ্রহ কমছে। সমিতির মোট এক হাজার ২৬৫ সদস্যের মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় আছেন ৯৮৭ জন। সর্বশেষ এজিমে উপস্থিতি ছিল দু’শ জনের কম।

BCS Election-TechShohor

ডাটা সলিউশনস লিমিটেডের সিইও ও ইস্টার্ন প্লাস বিসিএস ল্যাপটপবাজারের সভাপতি আব্দুল মোমিন খান বলেন, সদস্যদের শুধু এসএমএস দেওয়ার মধ্যেই বিসিএসের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ। বিপদে সদস্যদের ব্যবসায়িক প্রণোদনা বা সাহায্য সহযোগিতার কোনো কার্যক্রমে বিসিএসকে দেখা যায়নি। কোনো সদস্য অসুস্থ হলে বা মারা গেলে সবার কাছে একটা এসএমএস পাঠানো হয়। ব্যস খোঁজখবর শুধু এটুকুই- বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রযুক্তিপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ব্র্যান্ডের চেয়ারম্যান এএসএম আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, বিসিএসের বর্তমান ভূমিকা যথেষ্ট নয়। শেষ দুই মেয়াদে কার্যক্রম যতটুকু হওয়া দরকার ছিল তা হয়নি। কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংগঠন হিসাবে আমরা চাঁদা দিচ্ছি এবং মেলাসহ বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা দিচ্ছি। বর্তমানে কম্পিউটার ইন্ডাস্ট্রির খারাপ অবস্থা থেকে উত্তরণে সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ইউনিক ওয়ারেন্টি পলিসির উদ্যোগ নিতে পারেনি সংগঠনটি।

বিসিএসের এ সদস্য বলেন, আমাদের প্রচুর পণ্য স্থানীয়ভাবে মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। এগুলো দেশের বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়াটা এখন পর্যন্ত ঠিক হয়নি। মেরামতের পর শুল্ক ছাড়া সেগুলো ফেরত আসার নিয়মনীতিও হয়নি। বিষয়গুলোর সমাধানে সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও হয়নি।

ফাত্তাহ আরও বলেন, বাজার সম্প্রসারণে কাজ করাও বিসিএসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত ছিল। অথচ সংগঠনটি নিজেই এখন লভ্যাংশ আয়কারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কত বেশি টাকা এফডিআর করা যায়, কত বেশি টাকা আয় করা যায় এটাই এখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিসিএসের সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব এবং সাইবার কমিউনিকেশনস লিমিটেডের সিইও নাজমুল আলম ভূঁইয়া বলেন, সদস্যদের জন্য অনেক কিছু করা থাকলেও সেভাবে কিছু করা হয়নি। সাধারণ ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়লে তাদের পাশে দাঁড়াতে যদিও সম্প্রতি একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়েছে, তবে এটির পরিধি আরও বাড়াতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাইক্রো সান সিস্টেমসের সিইও এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বিসিএস ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একই টাইপের নের্তৃত্ব দেখা গেছে। এখন সময়ের প্রয়োজনে তরুণ নের্তৃত্ব দরকার। যারা আশ্বাস বা কথা না বলে কাজ করবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিএসের মহাসচিব শাহিদ উল মুনীর টেকশহরডটকমকে বলেন, সদস্যদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া বা ব্যবসার বিপদে সাহায্য সহযোগিতা করার কোনো নিয়ম নেই। ব্যবসা প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যাপার। এখন ব্যাবসা পরিস্থিতি খারাপ- তাই হয়ত ব্যবসায়ীরা ভাবছেন সমিতি তাদের জন্য কিছু করবে। আসলে সমিতির প্রধান কাজ সেক্টরের উন্নতি করা, পলিসি লেভেলে কাজ করা।

বিসিএস সভাপতি মোস্তফা জব্বার টেকশহরডটকমকে  বলেন, সংগঠনের নিজস্ব কোনো তহবিল ছিল না। বরং মাইনাস অবস্থা থেকে শুরু করে যখন দায়িত্ব ছেড়ে যাচ্ছি তখন দুই কোটি টাকারও বেশি তহবিল রেখে যাচ্ছি।

প্রবীণ এ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ বলেন, যে যাই বলুক অর্থই ফ্যাক্টর। আমি একটি দূর্বল সমিতি রেখে যাইনি। দেশের সার্বিক অবস্থার জন্য ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। এখানে সমিতির কিছু করার নেই। তবে ব্যবসায়ীদের সার্বিক উন্নয়নে সংগঠন তার সক্ষমতা অনুযায়ী আপ্রাণভাবে কাজ করেছে।  সম্প্রতি একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়েছে। আশা করি ব্যবসায়ীরা এ থেকে উপকার পাবেন।

Related posts

*

*

Top