বিসিএস নিয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে সদস্যরা

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নির্বাচন এলেই যতটুকু তোড়জোড়। এরপর বছরব্যাপী ঝিমিয়ে থাকে সংগঠনের কার্যক্রম। যদিও সদস্য সংখ্যার দিক থেকে অনেক বড় সংগঠন এটি।

নির্বাচনকে সামনে রেখে এক হাজারের বেশি সদস্যের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সদস্যদের মধ্যে আবারও কিছুটা নড়াচড়া দেখা গেছে। যদিও খুব কম সংখ্যক সদস্যদের মধ্যে এর প্রভাব পড়েছে।

BCS Election-TechShohor

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠনটির বিষয়ে সাধারণ সদস্যদের আগ্রহ কম থাকাই এর কারণ বলে মনে করছেন সদস্যরা। তারা মনে করেন, বিসিএস একটি গোষ্ঠীর সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তাই ‘বিসিএস এর সদস্য’ পরিচিতিটুকু ছাড়া এ নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই সাধারণ ব্যবসায়ীদের।

এ অনাগ্রহের প্রমাণ দেখা গেছে গত ডিসেম্বরে বিসিএসের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম)। এতে নেতারাসহ উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১৫২ জন সদস্য। যেখানে বর্তমানে সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ৯৮৭। আর সর্বমোট সদস্য ১ হাজার ২৬৫ জন।

এত বড় একটি খাতের বিশাল এ সংগঠনের এমন অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে ডাটা সলিউশনস লিমিটেডের সিইও ও ইস্টার্ন প্লাস বিসিএস ল্যাপটপবাজারের সভাপতি আব্দুল মোমিন খানও হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘বিসিএস নেতাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এখানে বড় বড় ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো চলেন। আবার তাদের মধ্যেও রয়েছে নানা গ্রুপিং। বিগত বছরগুলোতে ক্ষমতা নিয়ে শুধু টানাহেচড়া হয়েছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে মোমিন বলেন, বর্তমান কমিটিতেও ক্ষমতার ভাগাভাগি হয়েছে। একই মেয়াদে সভাপতি হয়েছেন তিন জন। এমনটা চলতে থাকলে সদস্যরা যে আগ্রহ হারাবে তাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, গত এজিএমে সদস্যদের অনুপস্থিতি আমাদের বিপদে ফেলেছিল। শেষমেশ কোনো মতে কোরাম পূর্ণ করে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আইডিবি ভবনে অবস্থিত বিসিএস কম্পিউটার সিটির একাধিক ব্যবসায়ী হতাশ প্রকাশ করে বলেন, বিসিএস এখন ক্ষমতা ভোগের জায়গা। এক মেয়াদে তিন সভাপতির কি অদ্ভূত ব্যবস্থা! তাদের মতে, ‘আমরা সাধারণ সদস্যরা যেন নামকাওয়াস্তে।’

BCS Computer City-TechShohor

মাল্টিপ্লান কম্পিউটার সিটি এবং ইস্টার্ন প্লাস বিসিএস বাজারের ব্যবসায়ীরাও একই রকম হতাশা প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশ করে কারও বিরাগভাজন হতে চান না জানিয়ে তারা প্রশ্ন রাখেন, নেতারা কি বলতে পারবেন সাধারণ সদস্যদের জন্য তারা কি করেছেন?

সিএন্ডসি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সিইও ও মাল্টিপ্লান কম্পিউটার সিটি সেন্টারের মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, দলাদলিই এর মূল কারণ। নেতারা ক্ষমতা উপভোগে ব্যস্ত থাকলে সাধারণ সদস্যদের অবহেলিত থাকা অস্বাভাবিক কিছু না। এ কারণে স্বাভাবিকভাবে সাধারণ সদস্যরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।

BCS ICT World Meet the press-TechShohor

সুব্রত বলেন, বিসিএসে নতুনত্ব নেই বললেই চলে। যিনি একবার নেতৃত্বে আসেন তিনি এক যুগ পার করে দেন। নতুনরা একদমই সুযোগ পায়না। বরং সংগঠনটিকে ব্যবহার করে অনেকেই বড় বড় জায়গায় সদস্য হয়েছেন, ভাল পজিশনে গিয়েছেন। তারা পরে আর সংগঠন নিয়ে ভাবেননি। আসলে সাধারণ সদস্যদের জন্য কিছুই করা হচ্ছে না বলে এর পরিবর্তন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তা না হলে এ খাতটি লজ্জাজনক অবস্থায় পৌঁছবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সদস্যদের এ অনাগ্রহ ও অভিযোগের বিষয়ে বিসিএসের মহাসচিব শাহিদ উল মুনীর টেকশহরডটকমকে বলেন, এখন ব্যবসার অবস্থা খারাপ বলে সদস্যদের আগ্রহ হয়ত কম। কেননা এ পরিস্থিতিতে অন্যান্য কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়া মুশকিল। সামগ্রিকভাবে বিসিএসের প্রতি সদস্যদের আগ্রহ কম বিষয়টি এমন নয়। এটি সকলের প্রাণের সংগঠন বলে তিনি দাবি করেন।

Related posts

*

*

Top