Maintance

স্বাভাবিক যৌনতা কমিয়েছে পর্নোগ্রাফি, অ্যাপ, সামাজিক মাধ্যম

প্রকাশঃ ১:১১ অপরাহ্ন, মে ১৩, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:১১ অপরাহ্ন, মে ১৩, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাভাবিক যৌন জীবনে ব্যঘাত সৃষ্টি করেছে ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি, বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপ এবং সামাজিক মাধ্যমগুলো।

এর ফলে গত শতকের শেষ দশকের চেয়ে চলতি শতকের প্রথম ও দ্বিতীয় দশকে কমে গেছে মানুষের গড় যৌনতার পরিমাণ। যাকে যৌনতার জন্য প্রযুক্তির ‘অভিশাপ’ হিসেবে বলছেন গবেষকরা।

গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক জেন তুয়েনগে, রেন শেরম্যান এবং ব্রুক ওয়েলস ‘মানুষের যৌন আচারণ’ নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের বাৎসরিক গড় যৌনতার পরিমাণ গড়ে ৬২ বার থেকে কমে এখন ৫৩তে নেমে এসেছে বলে বলা হয়েছে। আর এই কমে যাওয়ার পরিমাণ ১৫ শতাংশ।

Socialmedia-dameg-sexlife-Techshohor

গবেষকরা বলছেন, আমরা এখন যে সমাজে বাস করছি এটা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে যৌন জীবনের হিসেবে অনেকটাই স্বাধীন। আর গত ৪০ বছরে প্রযুক্তির যে পরিমাণ অগ্রগতি হয়েছে তাতে এই যৌন জীবনে এসেছে আমূল পরিবর্তন।

তৈরি হয়েছে জন্মনিয়ন্ত্রণের ঔষধ, ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারের মতো প্রযুক্তি। আর তাতেই অনেকটা ব্যঘাত ঘটে চলেছে মানুষের স্বাভাবিক যৌন জীবনে।

১৯৯০ দশকের চেয়ে ২০১০ এর দশকে এসে মানুষের যৌন জীবনে অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। এই সময়ে ৯০ দশকের চেয়ে গড়ে ১৫ শতাংশ কমে গেছে মানুষের যৌনতার পরিমাণ। এটা বাৎসরিক হিসাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রে বছরে গড়ে নয়বার যৌন সংসর্গ পরিত্যাগ করা হয়েছে।

আর এসবরে অন্যতম প্রধান দুটি কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বুঁদ হয়ে থাকা।

এই কমে যাওয়ার মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিবাহিত ব্যক্তিদের মধ্যে।

Sextual lifi-App-Techshohor

জাতীয় যৌন আচারণ এবং জীবন যাপন ইন্সটিটিউটের করা ওই জরিপে যুক্তরাজ্যের কিছু মানুষের উপর ২০১৩ সালে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে বলছে, ১৬ থেকে ৪৪ বছর বয়স্কদের ক্ষেত্রে বর্তমানে যৌন মিলনের পরিমাণ মাসে পাঁচবারের কম। যা ২০০০ সালের জরিপের চেয়ে গড়ে পুরষের ক্ষেত্রে ৬.২ শতাংশ এবং নারীদের ক্ষেত্রে গড়ে ৬.৩ শতাংশ কমে গেছে।

আরেক দেশ অস্ট্রেলিয়াতে ২০১৪ সালের হিসাবে সপ্তাহে যৌন মিলনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১.৪। যা ১০ বছর আগেও ছিল ১.৮।

গবেষকরা দেশে দেশে এই যৌনতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রযুক্তিকেই ‘অভিশাপ’ হিসেবে দেখিয়েছেন।

তারা ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতার ফলে সেদিকে ঝুঁকে যাওয়া এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোতে স্বামী-স্ত্রীর বুঁদ হয়ে থাকাকে প্রধান দুটি কারণ বলছেন।

এর বাইরেও বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপকেও তারা মানুষের যৌনক্ষুধা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গবেষণা প্রতিবেদনটিতে তারা বলেছেন, ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি দেখে অনেকেই ‘ভার্চুয়াল যৌনতায়’ ঝুঁকে পড়ছেন। ফলে তারা ইন্টারনেটের যে ফ্যান্টাসি সেটার সঙ্গে বাস্তবের যৌনতাকে মেলাতে পারছেন না। ফলে তারা বাস্তবে যৌনমিলনে জড়াচ্ছেন কম।

অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর বেশি বেশি প্রবেশ, গ্রিন্ড এবং টিন্ডারের মতো ডেটিং অ্যাপ মানুষেকে বাস্তবের যৌন জীবন থেকে সরিয়ে দিচ্ছে ভার্চুয়ালের দিকে।

গবেষকরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমগুলো এখন একে অন্যকে কাছে থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। এতে করে অনেকের যৌনক্ষুধা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এমনকী বাস্তবের চেয়ে তারা তখন ভার্চুয়াল যৌনতার দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন।
অবশ্য গবেষণা প্রতিবেদনটির শেষে গবেষকরা চূড়ান্ত কোনো রায় দেননি। তবে তারা এটাকে মানুষের শারিরিক ও মানসিক অবসাদের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়ে এর জন্য সচেতন হওয়ার পরার্মশ দিয়েছে।

বিবিসি অবলম্বনে ইমরান হোসেন মিলন

*

*

Related posts/