Maintance

ক্লাউড ও আইওটিতে দেশে নতুন কিছুর স্বপ্ন টাইগার পার্কের

প্রকাশঃ ১:৫০ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:২৩ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮

মমিনুল ইসলাম মিল্টন। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়েছেন অনেক আগেই।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী সবসময় চেয়েছেন নিজের দেশে বসে প্রযুক্তিতে নতুন কিছু করার। গতানুগতিক পথে না গিয়ে স্বকর্মসংস্থানের বিকল্প পথে হেঁটেছেন। এখন রয়েছেন তার যাত্রাপথের প্রথম ধাপে। এ তরুন উদ্যোক্তার বিপ্লবী হওয়ার আদ্যপান্ত জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন।

দেশে যখন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নির্ভর সেবার পরিমাণ বাড়ছে ঠিক তার বিপরীতে একটা খাত অনেকটা আড়ালেই রয়ে গেছে। বিগ ডেটা, ক্লাউড এবং আইওটি। দেশকে প্রযুক্তি নির্ভর সেবায় এগিয়ে নিতে এসব খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে অবদান রাখতে কাজ শুরু করেছেন মিল্টন।

এ সফটওয়্যার প্রকৌশলী নিজের অভিজ্ঞতার ভান্ডার পরিপূর্ণ করে দেশে ফিরেছেন খুব বেশি দিন হবে না। তবে এরই মধ্যে স্বল্প পরিসরে কাজ শুরু করেছেন, দাঁড় করিয়েছেন বিগ ডেটা, ক্লাউড ও আইওটি নিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠান ‘টাইগার পার্ক’।

সর্ব ডানে মমিনুল ইসলাম মিল্টন
সর্ব ডানে মমিনুল ইসলাম মিল্টন

মিল্টনের ভাষায়, তার ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০০ সালে জাভা ডেভেলপার হিসেবে। জাভা প্রোগ্রামার হিসেবে জার্মান সরকারের একটি প্রকল্পে তখন কাজ করেন তিনি। ২০০১ সাল থেকে ২০০৪ সালের মাঝ বরাবর। তখন তিনি (এসপি ডটনেটে) জয়েন করেন। সেসময় একটি আমেরিকান কোম্পানিতে তিন বছর ছিলেন। সেখানে তিনি বিগ ডেটা নিয়ে কাজ করেন।

বলা যায় পড়ালেখার পাঠ চুকানোর পর সেটাই তার প্রথম কাজ। কিন্তু সেটা কখনোই থেমে থাকেনি। এর পরে ২০০৬ সালে এসনিকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তখন নিজের পরিচয় হয় একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে। পরে আমরা তাদের একটি প্রজেক্ট করি। তিনজন একসঙ্গে। তখন আমি নরওয়ের অসলোতে যাই। তখন সেখানে তাদের অফিস ভিজিট করার আমন্ত্রণ পাই এবং সেখানে একমাস থাকি বলছিলেন মিল্টন।

তখন প্রতিষ্ঠানটি মিল্টনকে বাংলাদেশে তাদের হয়ে একটি অফিস খোলার প্রস্তাব দেয় জানিয়ে বলেন, প্রস্তাব পাওয়ার পর দেশে মাত্র ছয়জন ডেভেলপার নিয়ে একটি কোম্পানি ওপেন করি। সেটা ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে।

ওই নরওয়েজিয়ান কোম্পানিটা ছিল এসেনিক। এরপর আমি সেটা লিড করতে থাকি। ২০০৮ সালের মাঝামাঝি ভিজার্টি এসেনিককে অধিগ্রহণ করে। ২০১০ সালে এসে এর পুরো দায়িত্ব নিয়ে অপারেশন শুরু করে ভিজার্টি।

সেখানে ২০০৯ সালে ডেভেলপার সংখ্যা ছিলো ৩৫ জনের মতো। ২০১০ সাল থেকে ভিজার্টির আরঅ্যান্ডডি করার জন্য ডেভেলপার বাড়তে থাকে। ২০১২ সালে সেই ডেভেলপারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৫ জনে। ২০১১ সালের পর থেকে দেশে ভিজার্টির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মিল্টন।

এরপর মিল্টন চলে যান ভারত হয়ে ব্যাংককে। সেখানে ভিজার্টির এশিয়া প্যাসিফিক অফিসে অনলাইন ডেভেলপমেন্ট বিজনেস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। সেখানে চীন, হংকং, ভারত, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এবং অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড ছিলো তার অধীনে।  যেখানে আমি অনলাইন প্রোডাক্ট বিক্রি করতাম।

২০১৪ সালে ভিয়েতনামে যান রিজিওনাল ম্যানেজার হিসেবে। ২০১৬ সালে দেশে এসে প্রতিষ্ঠান করেন ‘টাইগার পার্ট লিমিটেড’।

তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানান, অনলাইন এবং ক্লাউডেই তিনি অভিজ্ঞ। ক্লাউডে আমি সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসে।

Office-Tiger Park-techshohor

বাংলাদেশে এসে আমি প্রথমে ট্রান্সকমের জন্য কাজ শুরু করেন মিল্টন। তাদের জন্য ই-কমার্স। পর্যায়ক্রমে হোটেল লা মেরিডিয়ানের মালিক কোম্পানি জন্য ইআরপি করেন এবং তাদের ওয়েব সার্ভিসে দেন অ্যামাজনের মাধ্যমে। পরে আরেকটা কোম্পানির জন্য।

এই তিনটা কাজের পরে অ্যামাজন থেকে মিল্টনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পার্টনারশিপের অফার দেয়। কয়েকদিন আগেও তাদের ভারত অংশের টিমের সঙ্গে ফলপ্রসু মিটিং হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর পাশাপাশি তিনি নরওয়েজিয়ান একটি কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছেন। এ কোম্পানি ক্লাউডে হোস্ট করা ‘বিগ ডেটার’ মাধ্যমে ডিভাইসকে কন্ট্রোল করে।

Symphony 2018

যেমন, অনেক সময় দেখা যায় বড় বড় বিল্ডিংগুলোতে পাওয়ার হাইড্রেন্ট থাকে বা স্মোক ডিটেক্টর থাকে। যেগুলা নিয়মিত চেক করতে হয়, সেগুলো কাজ করছে কিনা। এক বা দুসপ্তাহে কমপক্ষে একবার চেক করতেই হয়। এগুলো করা হয় একেবারে ম্যানুয়ালি এবং এর শিডিউলটাও ম্যানুয়াল।

আর এর সাহায্যে দেখা যাবে আদৌ ডিভাইসগুলো কাজ করছে কিনা এবং ডিভাইসগুলোকে কন্ট্রোল করা যাচ্ছে কিনা। এটা সরাসরি সেই সার্ভার বা বিগ ডেটা থেকে কন্ট্রোল করা যাবে।

এটা আইওটির একটি ব্যবহারিক দিক। আরেকটি ব্যবহারিক দিক হলো, দেশে অনেক পোল্ট্রি ফার্ম আছে। সেগুলোতে অনেক ধরনের জীবানু থাকে। যেখানে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেখানে ময়েশ্চার, তাপমাত্রা, এবং সেখানে যে জার্মগুলো আছে তার লিমিট বা আতঙ্কের লিমিট সেন্সরের সাহায্যে চেঞ্জ করা এবং সেটার তথ্য সংগ্রহ করে ক্লাউডে পাঠানো এবং তা থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করা যায়।

আইওটির অন্যতম উপাদান হলো ডেটা। ডেটা ছাড়া আইওটি নিয়ে কাজ করা অসম্ভব। তবে বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা সেটা খুব একটা ভালো না বলে জানান তিনি।

মিল্টন বলেন, দেশে প্রোগ্রামিং কমিউনিটি পুরোটাই মোবাইল অ্যাপ কেন্দ্রেীক। তারা অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করে, কোনো একটা ওয়ার্ডপ্রেস বা কিছিুতে থিম ডেভেলপ করে। এই সমস্ত ডেভেলপারদের একটা সমস্যা হচ্ছে তারা বড় জিনিস বা বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারে না।

অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, প্রথম চাকরিতে একটি কাজ করেন জার্মানদের সঙ্গে। জাভাতে তার অন্যতম কাজ ছিলো সেটা। ওটা ছিলো জার্মান সরকারের জন্য একটা প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার তৈরি করা। যার সাহায্যে দেশটিতে যতোগুলো মনেস্ট্রি, চার্চ, পুরাতন ভবন আছে সেগুলো একটা মিনিস্ট্রির অধীনে কাজ করে সেগুলো নিয়ে।

 

CNG-Station-Techshohor
সিএনজি স্টেশনে অটোমেশনের পরীক্ষা চালাচ্ছে টাইগার পার্ক

তিনি বলেন, সেটা জার্মান সরকারের অন্যতম বড় একটি প্রকল্প ছিলো। যা করতে অনেক জটিল প্রোগ্রামিংও করতে হয়েছে। এরপর তিন বছর কাজ করেন ব্যাংকিং সেক্টরে। আমেরিকান একটা ব্যাংকের কার এবং মর্টগেজ লোন নিয়ে। সেখানে এই ঋণের ডেটাগুলো সেন্ট্রাল ব্যাংকে সাবমিট করতে হয়। ঋণগুলো প্রপারলি নিয়ম মেনে দেওয়া হয়েছে কিনা। তখন ব্যাকং তাদের রিপোর্টিং অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে দেখতো ঋণগুলা ঠিক আছে কিনা।

এগুলো দেখা হতো ক্লাউডে জমা ডাটা থেকে। বিশ্লেষণ করা হতো একেবারে ৫০ লাখ, দেড়কোটি বা তার বেশি ডাটা খুব তাড়াতাড়ি প্রসেস করা হতো।

যেটা নরমাল ডেটাবেইজ দিয়ে হয় না। এটা অ্যানালিটিক্যাল ডেটা এবং এখান থেকে একটা কিউব ফর্ম করা হয়।

এই ধরনের বড় ডেটা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আসলে বাংলাদেশে খুব একটা চোখে পড়ে না। আর এখন যে ট্রেনিং গুলো দেওয়া হয় এই আইডিবিতে বা ড্যাফোডিলে ট্রেনিং দেওয়া হয় এগুলো খুবই সারফেইস লেবেলের জাভা, জাভাস্ক্রিপ্ট বা ওমুক-তমুক এগুলো আসলে খুবই সারফেইস লেবেলের কাজ বলে বলেন তিনি।

রিয়েল কাজ আসলে যদি অ্যানালিটিক্যাল কাজ করতে হয় তাহলে তাদের ডেটাবেইজে কাজ করতে হবে,  মিডলট্রায়ারে কাজ করতে হবে। এগুলো আসলে ট্রেইনিং করার মতো লোক থাকতে হবে। কিন্তু মার্কেটে মনে হয় না এমন লোক আছে। দেশে এসব ডেটা নিযে কাজ করার অনেক খালি জায়গা আছে।

আর এই কারণে তিনি দেশে ফিরেছেন বলেও জানান। কারণ অভিজ্ঞতার হিসাবে অনেক বছর হয়েছে তার। তবে শুধু সফটওয়্যারে কাজ করবেন বলে অনেক অফার থাকলেও যাননি। মিল্টন বলেন, আমার ডেভেলপার হিসেবে শুরু হয়ে পরে ভিজার্টিতে সিওও, পরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কিন্তু এক বছর এমডি থাকার পরে আমার মনে হয়েছে এটাতো পুরো প্রশাসনিক কাজ। লোক হায়ার করা, এই করা, সেই করা, স্থানীয় নীতিমালা এসব ততক্ষণে জেনে গেছি সিওও থাকার সময়েই।

কাজগুলো তার কাছে বাধা মনে হয়েছে জানিয়ে বলেন, আমার মূল যে কাজ আমি সেটাই করে যেতে চাই। এসব কাজের জন্য অন্য লোক আছে দুনিয়াতে।

ক্লাউড, বিগ ডেটা এবং আইওটিতে কাজ করে অন্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশে অনেক বেশি টাকা আয়ের সুযোগ রয়েছে এবং দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে এসব কাজের বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠান সরকারি একটি তেল পাম্পের অটোমোশন কাজ করছে। এটা সম্পন্ন হলে তেল চুরির বিষয়গুলো সহজেই ধরা যাবে। যেটা একেবারেই ডিজিটালি ওই ক্লাউড সার্ভারের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ জানতে পারবেন।

*

*

Related posts/