সিটি আইটি মেলায় বিক্রি নিয়ে হতাশা

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অন্য সময়ের চেয়ে মেলা চলাকালীন অবস্থায় দর্শণার্থী কমেছে বিসিএস কম্পিউটার সিটির প্রযুক্তি পণ্য বাজারে। তাই মেলা নিয়ে খুশি নয় এখানকার বেশিরভাগ বিক্রেতারা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে দেশের তথ্যপ্রযুক্তির প্রধান এ স্থায়ী মার্কেট এখন ‘সিটি আইটি মেলা -২০১৪’ এর ভেন্যু।

গত কয়েক দিন মেলা ঘুরেও বিক্রেতাদের এমন তথ্যের প্রমাণ মিলেছে। দেখা গেছে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ক্রেতা দর্শকের এক প্রকার খরা চলছে। বহুতল ভবন কম্পিউটার সিটির বেশিরভাগ ফ্লোরের দোকানগুলোতে অলস বসে রয়েছেন বিক্রেতারা।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলা চলাকালীন সময়ে বিশেষ কিছু পণ্যের বিক্রি বাড়লেও বেশিরভাগ পণ্যের বিক্রি নেই বললেই চলে। এতে অন্য দোকানীরা বেকায়দায় পড়েছেন। মেলায় মূলত ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট জাতী মোবাইল ডিভাইসের বিক্রি বাড়ছে।

bcs ict fair_techshohor

বিক্রেতারা জানান, এতে বড় প্রতিষ্ঠান ও দোকানগুলো লাভবান হলেও অন্যরা হতাশ। কেননা কম্পিউটারসহ তথ্যপ্রযুক্তির অন্য যন্ত্রাংশ বা পণ্যের বিক্রি নেই বললেই চলে।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেলার সময় হলেও মূলত ভীড় বাড়ে বিকালের দিকে। ওই সময় বেশ কিছু আয়োজন থাকায় সেগুলোকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীরা মেলায় আসেন।

কম্পিউটার সলিউশনের বিক্রয় কর্মকর্তা নিজাম হোসেইন টেকশহরডটকমকে বলেন, মেলা শুরুর পর তাদের বিক্রি কমে গেছে। নিয়মিত এবং সাধারণ ক্রেতারা আসছন না। যারা সবসময়ই এখানে কেনাকাটা করেন তারা টিকেট কেটে মার্কেটে ঢুকতে অনাগ্রহী।

রাইয়ানস কম্পিউটারের কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, প্রতিদিন কিছু শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থী আসছে এখানে নাচ গানের অনুষ্ঠান দেখতে কিংবা আড্ডা দিতে। তারা টিকেট কাটেন এবং অনুষ্ঠান দেখেন আর র‌্যাফেল ড্রয়ে অংশগ্রহণ করে চলে যান। ক্রেতারা পণ্যের প্রতি বিমুখ বললেই চলে হতাশ রেজার মন্তব্য।

কনফিডেন্স কম্পিউটার কর্ণারের ম্যানেজার নেসারুল ইসলাম টুনু বলেন, মেলাতে যে ক্রেতা-বিক্রেতার পণ্য প্রদর্শণ ও কেনাবেচার ধুম থাকে তা এবারে নেই। কিছু দর্শনার্থী আছে যারা অনুষ্ঠান দেখছে।

শ্যামলী থেকে মেলায় আসা দর্শনার্থী সুমিতা ইসলাম ও আমজাদ হোসেন বলেন, অনুষ্ঠান দেখার জন্যই মূলত তারা এসেছেন। অনুষ্ঠান শেষে তারা টিকেটের র‌্যাফেল ড্রয়ের জন্য অপক্ষা করছিলেন। জানতে চাইলে তাদের খোলা মেলা মন্তব্য, সময় কাটাতেই তারা মেলায় এসেছিলেন।

এ পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রেতারা জানান, মেলার সময় নির্ধারণ ঠিক হয়নি। এখন এশিয়া কাপ খেলা চলছে। প্রায় প্রতিদিনি আইডিবির রাস্তায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকছে। বাস চলছে না ঠিকমতো। এ ছাড়া একটি সুপরিচিত মার্কেটে মেলা আয়োজন করে টিকেটের ব্যবস্থা রাখা ঠিক হয়নি।

সোমবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে বিসিএস সিটি ঘুরে দেখা যায়, মেলার অধিকাংশ স্টল প্যাভিলয়নেই ক্রেতা দর্শনার্থীদের কোন ভিড় নেই। অনেক স্টল প্যাভিলিয়নে দর্শণার্থীই নেই। বিক্রেতারা গোমরা মুখে বসে আছেন। তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানের দোকানে। সেখানে ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইস জাতীয় পণ্য দেখায় ব্যস্ত অনেকে। এ ধরনের পণ্যের বিক্রিও ভালো বলে তারা জানান।

এবার মেলার আহবায়ক ও বিসিএস কম্পিউটার সিটির সাধারণ সম্পাদক এ.এন.এম কামরুজ্জামান টেকশহরডটকমকে বলেন, এশিয়া কাপ, টি-২০ বিশ্বকাপসহ কিছু কারণে এ সময়টাতে মার্কেটের খারাপ সময় যাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। সেই তুলনায় মেলা উপলক্ষে কিছু প্রচার প্রচারণাতো হচ্ছে। এতে অনেকেই আসছেন মার্কেটে। এটাকে মেলার উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একই সময়ে বিসিএসের দুটি মেলা আয়োজনের বিষয়ে কামরুজ্জামান বলেন, এতে কিছুটা সমস্যাতো হয়েছে। কোনটি বিসিএসের আসল মেলা সেটি নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

বিক্রেতাদের অসন্তুষ্টির ব্যাপারে তিনি বলেন, মেলার শেষদিকে ভাল কেনাবেচা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথমদিকে তথ্য সংগ্রহ করে। শেষ দিকে কিনতে আসে।

মেলার সার্বিক বিষয়ে তিনি জানান, এখন যুগ বদলেছে। মেলা মানেই যে হুলূস্থুল কেনাবেচা ভীড়, সেই দিন আর নেই। তবে মার্কেটের ১৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেকগুলো হয়ত ঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেননি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত ২৬ ফ্রেব্রুয়ারি শুরু মেলা শেষ হবে ৮ মার্চ। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।

Related posts

*

*

Top