Maintance

উদোর পিণ্ডি বেসিসের ঘাড়ে, ঘর ছাড়ার দশা সংগঠনটির

প্রকাশঃ ৮:৪৪ অপরাহ্ন, এপ্রিল ২, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৪৪ অপরাহ্ন, এপ্রিল ২, ২০১৭

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের কাছে ব্যাংকের ১০ কোটি টাকা ভাড়া বকেয়ার দায় চেপেছে বেসিসের ঘাড়ে।

পার্কটিতে ২৪ কোম্পানির কাছে স্পেস ভাড়া হিসেবে এই বড় অংকের পাওনা বেসিসের কাছে দাবি করেছে ভবনটির মালিক বিডিবিএল ব্যাংক। পাওনা আদায়ে সংগঠনটিকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে ব্যাংকটি। চলতি মাসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে বেসিসকে এসব জায়গা খালি করে দিতে বলা হয়েছে।

অন্যের বকেয়ার দায় নিয়ে এখন নিজের ঠিকানা রক্ষা করতেই ভাবতে হচ্ছে দেশের সফটওয়্যার সেবা খাতের শীর্ষ সংগঠনটিকে । অথচ সংগঠনটি নিজ কার্যালয়ের ভাড়া পরিশোধ করেছে নিয়মিতই। সফটওয়্যার খাতের সংগঠন হিসেবে পার্কে অবস্থিত কোম্পানিগুলোকে নানা সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে দেখভাল করে থাকে বেসিস। আর সেই কোম্পানিগুলোই সংগঠনটিকে এবার বিপাকে ফেলেছে।

বিডিবিএলের সঙ্গে বেসিস, হাইটেক পার্ক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুয়ায়ী সফটওয়্যার পার্কটিতে অবস্থিত কোম্পাটিগুলোর ভাড়া বেসিস হয়ে পরিশোধ করা হতো। ব্যাংক কোম্পানিগুলোর ভাড়া বেসিস হতে নিত আর কোম্পানিগুলো বেসিসকে ভাড়া পরিশোধ করতো।

বিডিবিএলের লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখিত পাওনার মধ্যে রয়েছে, ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল ভাড়া, ইউটিলিটি বিল ৮১লাখ ৫৩ হাজার, আরোপিত সুদ ৩ কোটি ৪ লাখ এবং ভ্যাট ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

basis-techshohor

বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে বলেন, সংগঠনটির দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি নিজে জোর উদ্যোগে কয়েকবার ভাড়া আদায় করে বিডিবিএলকে পরিশোধ করেছেন।

‘এখন বিষয়টি পরিষ্কার। যারা ভাড়া পরিশোধ করবে না তারা থাকবে না আর থাকলে সে দায়িত্ব বেসিস নেবে না। নিয়মের বাইরে এখানে কিছুই হবে না। অনিয়মকারীদের উচ্ছেদে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’

যেসব কোম্পানির কাছে অনেক টাকা পাওনা তাদের উচ্ছেদের করা হলেও বকেয়া কীভাবে আদায় হবে সে বিষয়ে এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ বলেন, বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিডিবিএল ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সমস্যাগুলো চুক্তিতে অংশীদারদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হবে।

ভবনটিতে ভাড়াসহ সার্বিক বিষয়ের দায়িত্বে থাকা বিডিবিএল ব্যাংকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ১০ কোটি টাকার মতো বকেয়া রয়েছে। ভাড়া আদায়ে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং নোটিশ অনুয়ায়ী ভাড়া পরিশোধ না করলে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। পরবর্তীতে নিয়মানুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বকেয়া থাকা ২৪টি কোম্পানির মধ্যে ৩ কোটি টাকার বেশি পাওনা শুধু ৫-৬টি কোম্পানির কাছে। কোটি টাকার বেশি পাওনা ডেভেলপমেন্ট প্লানার্স অ্যান্ড কনসালটেন্ট (ডিপিসি) নামের কোম্পানির কাছে। দি ডিকোড ও ইস্ক্যানের কাছে বাকী ৭০ লাখ টাকা। কোম্পানি দুটির মালিক বেসিসের সাবেক সভাপতি সরওয়ার ই আলম।

এছাড়া সিনেসিস আইটির কাছে ৫০ লাখ, ইএটিএলের কাছে ৩৫ লাখ পাওনা। অন্যদিকে বকেয়া নিয়ে লাইট হাউস গ্রুপসহ তিনটি কোম্পানির মামলাও চলছে। তারা বেসিসকে ভাড়া দেন না।

এই বড় অংকের পাওনায় কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া বাকীগুলোর কাছে দুই হতে ছয় মাস পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে।

বেসিস বলছে, অল্প অংকের বকেয়া থাকা অধিকাংশ কোম্পানিই পাওনা পরিশোধ করে দেয়ার কথা বেসিস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। কিন্তু এই ৫-৬টি কোম্পানি যাদের কাছে ৩ কোটি টাকারও বেশি পাওনা, এদের নিয়ে জটিলতা আছে।

*

*

Related posts/