Maintance

মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠালেই মিলবে রক্ত

প্রকাশঃ ১২:১৭ অপরাহ্ন, এপ্রিল ২, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:১৭ অপরাহ্ন, এপ্রিল ২, ২০১৭

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর  :  অনিরুদ্ধ চক্রবর্তীর এক আত্মীয়ের বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন ছিল। তখন ফেইসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে রক্তের জন্য পোস্ট করেও রক্ত পাওয়া যায়নি। পরে নানা ঝামেলা করে  চড়া দাম দিয়ে ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত কিনতে হয়েছে।

ঘটনার কয়েকদিন পরে অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী দেখলেন একজন ডোনার ফেইসবুকে পোস্ট করে রক্ত দেওয়ার জন্য রোগী খুঁজছেন। ডোনার চার মাস পর পর রক্ত দিয়ে থাকেন। কিন্তু রোগী না পাওয়ায় তখন দিতে পারছিলেন না। 

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী ভেবে দেখলেন সঠিক যোগাযোগের অভাবে রোগীরা রক্তদাতাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এই সমস্যা সমাধানে তিনি তৈরি করলেন ‘ব্লাড বট’।

bloodbot-techshohor

এই ব্লাড বট উন্মুক্তের কয়েক সপ্তাহের মাঝে ৭ হাজারের অধিক রাক্তাদাতা ব্লাড বটের সাথে যুক্ত হয়েছেন। ৭০০ জনের অধিক মানুষ রক্ত চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।

ব্লাড বট কি?
ব্লাড বট ফেইসবুকের মেসেঞ্জার ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন। রক্তদাতা এবং গ্রহীতাদের মধ্যে যোগাযোগের একটি প্লাটফর্ম।  যারা রক্ত দিতে ইচ্ছুক তারা বটকে রক্তের গ্রুপ, লোকেশন দিয়ে বার্তা পাঠালেই হবে। যখন কেউ রক্ত চেয়ে বটকে বার্তা পাঠাবে তখন বট স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্তদাতাকে তা জানিয়ে দেবে। 

সহজ বলা যায়, জরুরী প্রয়োজনে রক্ত দরকার হলে আমরা যেভাবে ফেইসবুক বন্ধুদের নক করে রক্ত চাই। ঠিক একই ভাবে বটের সাহায্যে রক্ত চাওয়া ও দেওয়া যাবে।

যেভাবে বট কাজ করে :
যখন কেউ এই ঠিকানায় গিয়ে রক্ত চেয়ে বার্তা দেন  তখন ‘ব্লাড বট’ রক্তের গ্রুপ, যে নম্বরটিতে রক্তের জন্য যোগাযোগ করবেন সে নম্বরটি, যে হাসপাতালে রক্ত লাগবে তার লোকেশন জানাতে বলে। নম্বরটিতে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হয়। কোডটি বটকে জানিয়ে নম্বর ভেরিফাই করে নেওয়ার পর বট হাসপাতালের লোকেশনের আশেপাশে ২ কিলোমিটার রেডিয়াসের কাঙ্ক্ষিত রক্তের গ্রুপের ডোনারদের মেসেঞ্জারে নোটিফিকেশন পাঠিয়ে দেয়।

ডোনারকে ‘details, can not go, already donated’ বাটন পাঠায় বট। রক্ত দিতে যেতে চাইলে ‘details’ চাপলে লোকেশন, ফোন নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য দেখাবে। রক্ত ইতোমধ্যে দিয়ে থাকলে ‘already donated’  বাটন চাপলে কোন মাসে রক্ত দিয়েছেন বট তা জানতে চায়। জেনে নিয়ে পরবর্তী চার মাস আর কোনো নোটিফিকেশন দেবে না ওই রাক্তদাতাকে।

bloodbot--facebook-techshohor

ব্লাড বটের পিছনে যারা আছেন
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিয়ের কম্পিউটার বিভাগের পঞ্চম সেমিস্টারে পড়ুয়া অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী ছাড়াও ব্লাড বট তৈরি কাজ করেছেন ওমরান  জামাল, নওফেল মাশনূর, সুমনা চক্রবর্তী , জেরিন তাসনিম সাকিসহ আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী।

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তীর ভবিষৎ পরিকল্পনা ৫০ লক্ষ রাক্তাদার একটি ডাটাবেইজ সমৃদ্ধ করা। যেন ব্লাড বটে কেউ রক্ত চাইলে দ্রুত সময়ে পেতে পারেন এবং রক্ত নিয়ে স্বজনদের দুশ্চিন্তা কমানো যায়।

*

*

Related posts/