ইন্টারনেট ব্যবহারে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেট ব্যবহারে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এই দাবি জানায়। এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন আলোচনায় অংশ নেওয়া অধিকাংশরা।

বাক্য তাদের দাবিতে জানায়, ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর ভ্যাট থাকায় তারা কিছুক্ষেত্রে আউটসোর্সিং থেকে মুনাফা করতে পারছেন না। এর ফলে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে খরচ বৃদ্ধি পেলে আউটসোর্সিং খাত থেকে আয়ের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাবে। তাই সংগঠনটির পক্ষ থেকে সামনের বাজারে এই ভ্যাট প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়।

Pre-budget-Techshohor

প্রাক-বাজেট আলোচনায় একটি পেপার উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীন চলমান এলআইসিটি প্রকল্পের কম্পোনেন্ট টিম লিডার সামি আহমেদ।

তিনি তার উপস্থাপনায় বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকারমূলক খাত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখনো বাস্তবে তার বাস্তবায়ন খুব একটা চোখে পড়ছে না। সেই সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী এই খাতে ২০ শতাংশ নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি এখনও দেওয়া হয়নি। অগ্রাধিকার খাত হিসেবে এই খাতে সামনের বাজেটে যেন অবশ্যই ২০ শতাংশ নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয় সেই দাবি জানান।

এছাড়াও সফটওয়্যার আমদানির ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ ট্যাক্স রয়েছে। তবে কিছু কিছু সফটওয়্যারে সেই ট্যাক্স মওকুফের কথা বলেছেন আলোচনায় অংশ নেওয়া অনেকেই।

বিশেষ করে অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার এবং অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার সবাই ব্যবহার করেন। এর উপর আরোপিত ট্যাক্সের কারণে খরচবেড়ে যাওয়ার ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় হিমশিম খাচ্ছেন বলেও জানানো হয়। তাই সামনের বাজেট থেকে নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে ট্যাক্স মওকুফের দাবি করা হয়।

প্রাক-বাজেট মতবিনিময়ে এনটিটিএন লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানের আইএসপিএবির উপর থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ওকে মোবাইলের কর্নধার এবং ইন্ডিগো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জসিমুল ইসলাম বলেন, এখন বাইরের দেশ থেকে মোবাইলের খুচরা যন্ত্রপাতি এনে দেশে প্ল্যান্ট স্থাপন করে মোবাইল তৈরি করতে গেলে সরকারকে ৭৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। অথচ কেউ যদি তৈরি ফোন আমদানি করে তাকে দিতে হচ্ছে মাত্র ২১ শতাংশ ট্যাক্স।

তিনি বলেন, যদি এই অবস্থা চলতে থাকে তবে দেশের এই বিশাল মোবাইল বাজার ধরতে কখনোই দেশে কেনো কারখানা স্থাপন সম্ভব নয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মোবাইল আমদানি এবং এর খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে ট্যাক্সের বিষয়টি যদি এমন হয় তাহলে অবশ্যই বিষয়টি তারা সিরিয়াসলি বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনার বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। এছাড়াও ওই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বারসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন  তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবির কিশোর চৌধুরী।

ইমরান হোসেন মিলন

Related posts

*

*

Top