সঙ্গী যখন জিপিএস

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পথেঘাটে এখন আর রাস্তা হারানোর ভয় নেই। নতুন জায়গায় গিয়ে গন্তব্য খুঁজে না পাওয়ার ঝামেলা নেই। প্রযুক্তির হাজারো সুবিধারি মধ্যে এটি একটি। তবে এজন্য ফোনটিতে থাকতে হবে জিপিএস (গ্লোবাল পজিসিনং সিস্টেম)। এটির ব্যবহারে ঠিক ঠিক গন্তব্যে যেতে আর বিন্দুমাত্র বেগ পেতে হয় না।

জিপিএসের শুরুটা অবশ্য হয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীতে। পরে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের উদ্যোগে ১৯৮৯ সালে সাধারণ মানুষের জন্য জিপিএস ব্যবস্থা চালু করা হয়। এরপর গত পঁচিশ বছরে অনেক পথ পাড়ি দিয়েছে এ প্রযুক্তি।

GPS_techshohor

নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে এর ব্যবহারে। দৈনন্দিন জীবনে যেমন এটির ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছেন সকলে তেমনি আইন শৃংখলা বাহিনীর কাজকেও সহজ করেছে জিপিএস।

জিপিএসের এখনকার ব্যবহার বলে বোধহয় শেষ করা যাবে না। তাও একনজর দেখে নেওয়া যাক-

গন্তব্যে পৌঁছানো
একসময় নতুন জায়গায় গেলে সঙ্গে করে ম্যাপ নিয়ে যেতে হতো। কিন্তু গাড়িতে জিপিএস প্রযুক্তি থাকার সুবাদে এ দৃশ্য পালটে গেছে। যান্ত্রিক নারীকণ্ঠে ‘বামে যান’, ‘আপনার গন্তব্য আর ২০০ গজ দূরে’ ইত্যাদি কথা প্রায়ই গাড়ি থেকে শোনা যায়। রাস্তাঘাটে জিপিএসের ব্যবহার তো আরও কমন। ঘাড় গুঁজে পথচারীদের দেখা যায় স্মার্টফোনের ম্যাপ ঘাঁটতে।

gps_techshohor

অবশ্য নির্ভুলতার দিক দিয়ে জিপিএস এখনও পরিপূর্ণ নয়। ২০০৯ সালে এক ব্যক্তি ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের রাস্তা দিয়ে ম্যাপ ধরে যেতে যেতে পাহাড়ের খাদে এসে পৌঁছান!

পশুপাখির জিপিএস!
পোষা প্রাণীর দেখাশোনা করতে ও প্রাণীদের ওপর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও জিপিএস ব্যবহার করা হচ্ছে।

যেমন, ব্রিটেনের নর্দাম্বারল্যান্ডে গরুর গলায় জিপিএস কলার পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে গরুর পাল কোথায় আছে রাখার তা জানতে পারে। ভেড়ার পালে কোনো শিকারী জন্তু হামলা ভেড়া কেমন আচরণ করে, তা জিপিএস ট্র্যাকিং করে জেনেছেন বিজ্ঞানীরা।

এ ছাড়া পোষা বিড়ালের গলায় জিপিএস ট্র্যাকার ঝুলিয়ে মজার তথ্য জানা গেছে। মালিকেরা যখন ভাবেন তার বিড়াল আশেপাশের এলাকায় পায়চারি করতে গেছে, তখন আসলে তারা অন্য বিড়ালের কাছ থেকে খাবার চুরি করতে যায়!

এ মুহূর্তে কোথায়
সন্তান কোথায় যাচ্ছে না-যাচ্ছে, তা নিয়ে সব অভিভাবকই দুশ্চিন্তায় থাকেন। জিপিএস ডিভাইস ব্যবহার করে কিছুটা হলেও এ চিন্তা দূর করতে পারেন। সন্তানের ব্যাগে জিপিএস ট্যাগ রেখে দিতে পারেন, হাতে জিপিএস ব্যান্ড লাগাতে পারেন। তারপর স্মার্টফোনের অ্যাপ দিয়েই জানতে পারবেন তারা কখন কোথায় আছে।

তবে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বামী-স্ত্রীও একে অন্যের উপর গোপন নজরদারি করতে পারেন! এ নজরদারি করে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ানো স্ত্রীকে ধরে ফেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যক্তি!

বলা বাহুল্য, জিপিএসের এ ধরনের ব্যবহারে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ার প্রচুর সম্ভাবনা আছে।

ছবি তোলা
গলফ খেলতে দিয়ে ঝোপেঝাড়ে বল হারিয়ে ফেলা খুবই বিরক্তিকর বিষয়। কিন্তু এখনকার গলফ বলে ছোট জিপিএস চিপ পুরে দেওয়া হচ্ছে। তাই বল হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই; সহজেই ট্র্যাক করে বের করতে পারবেন।

ফুটবল-ক্রিকেটের মতো সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোতেও বাড়ছে জিপিএসের ব্যবহার। ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল তাদের প্লেয়ারদের দৌড়ের গতি, দূরত্ব, হৃদস্পন্দন ইত্যাদি মাপার জন্য জিপিএস ব্যবহার শুরু করেছে।

gps_techshohor

অপরাধী ধরতে
২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে জিপিএস ব্যবহার শুরু করেছে। এতে বেড়ে গেছে অপরাধী ধরা পড়ার হার।

জিপিএস সংবলিত বুলেট অপরাধীর খবর সহজেই এনে দিচ্ছে। তার শরীরের কোথাও বা গাড়িতে একটি বুলেট লাগলেও সেখান থেকে ট্র্যাক করে লোকেশন বের করা সময়ের ব্যবহার মাত্র। এছাড়া শিগগিরই আরও নানা রকম অস্ত্রশস্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে জিপিএস আপগ্রেড আসছে।

ট্যাগ

Related posts

*

*

Top