Maintance

কুলিয়ার চরে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ক্লাসে হবে বিশ্ব রেকর্ড

প্রকাশঃ ৫:১১ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ১০, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৭:০৯ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ১০, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যার দিক থেকে একটি রেকর্ড করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তিন হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে ক্লাস নিয়ে গিনেজ বুকে নাম লেখাতে চায় বাংলাদেশ।

ইতোমধ্যে ক্লাস আয়োজনের সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। চলছে আয়োজনের একেবারে শেষ মুহূর্তের কাজ। রাত পোহালেই এমন একটি আয়োজন থেকে বিশ্ব রেকর্ড গড়বে বাংলাদেশ।

২৯০০ শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে ব্যবহারিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ক্লাস নিয়ে রেকর্ডটি এখন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের শিক্ষার্থীদের দখলে। গিনেজ বুকস অব রেকর্ড এটিকে বলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারিক ক্লাস।

kuliarchar-Techshohor

আয়োজনের উদ্যোক্তা কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. উর্মি বিন সালাম। তিনি টেকশহরকে জানান, অস্ট্রেলিয়ার এমন উদ্যোগ থেকেই তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। তার তারপরেই  দেশে এমন আয়োজন করবেন বলে মনস্থির করেন।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ যদি পারে তবে জনবহুল দেশ হয়েও কেনো পারবে না আমরা।

আগামীকাল বুধবার কিশোরগঞ্জের কুলিয়ার চরে মোট ৩২০০ শিক্ষার্থীর ক্লাস নেবেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল তড়িৎ-চৌম্বকত্ব নিয়ে প্রথমে শিক্ষার্থীদের জানাবেন। তারপর শিক্ষার্থীরা ব্যাটারি দিয়ে একটি তড়িৎ চুম্বক বানাবে। সেটি দিয়ে কয়েকটি বস্তুকে চৌম্বকত্বের ভিত্তিতে গ্রুপে ভাগ করবে।

সবশেষে তারা তাদের চৌম্বক দিয়ে একটা কম্পাস বানাবে। আর এর আইসিটি অংশের জন্য তারা সবাই ভাববে তারা নিজেরা একটি বড় ল্যানের অংশ যা কিনা সুইচের মাধ্যমে সংযুক্ত। ই-মেইল যেভাবে চালাচালি হয় সেভাবে তারা তাদের পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষণ পরিচালকের কাছে পাঠিয়ে দেবে।

বুধবারের ওই রেকর্ড প্রত্যাশী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি সভাপতি ও সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন।

এর আগে গত বছরের ১২ আগস্ট এই রেকর্ডটি করেছে অস্ট্রেলিয়া। সেখানে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা মিলিয়ে মোট দুই হাজার ৮৯৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।

অস্ট্রেলিয়ায় পরীক্ষাটি পরিচালনা করেন শিক্ষক এন ব্র্যান্ট। তিনি পেপারক্লিপের সাহায্য শিক্ষার্থীদের সামনে চৌম্বক ক্ষেত্র কেমন করে কাজ করে তা তুলে ধরেন। এর আগের রেকর্ডটি করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে দুই হাজার ১০২ জন শিক্ষার্থী মিলে।

বুধবার কুলিয়ার চরে তিন হাজার ২০০ শিক্ষার্থী গ্রুপ করে তাদের এক্সপেরিমেন্ট করবে দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে।

শামিয়ানা টাঙ্গিয়ে ২৪৬ ফুট বাই ১৭২ ফুট প্যান্ডেলের চার পাশে সাদা কাপড় দিয়ে ঘিরে ১০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ক্লাস রুম তৈরি করা হয়েছে। ২০টির বেশি এলইডি টিভিও থাকবে যাতে শিক্ষার্থীরা ইনস্ট্রাকশনগুলো দেখতে পায়।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

Related posts/