পুঁজিবাজারে আসছে ক্যান্ডি ক্রাশ সাগা

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্টফোনের বিখ্যাত গেইম ‘ক্যান্ডি ক্রাশ সাগা’র প্রস্তুতকারক কোম্পানি কিং ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

কোম্পানিটির বাজার মূল্য ৫৫০ কোটি ডলার ধরা হতে পারে। আর নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভূক্ত হতে আগ্রহী কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে ৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।

ফেইসবুক ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপসের জনপ্রিয় এ গেইমটি গত ডিসেম্বরে প্রতিদিন ১০০ কোটি বার খেলা হয়েছে। গত এক বছরে এটির আয় বেড়েছে ৭ হাজার গুণ।

candy crush saga_techshohor

গত নভেম্বরে টুইটারের সফলভাবে শেয়ারবাজারে প্রবেশ এবং সম্প্রতি ফেইসবুকের শেয়ারমূল্য বৃদ্ধির পর প্রযুক্তিবিদরা ধারনা করছেন, চলতি বছর আরও কিছু কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে পারে। কিং ছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পটিফাই, এয়ারবিএনবি, স্কয়ার ইত্যাদি।

তবে কিং গত দুই বছরের সাফল্য ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকে। আরও অনেক শীর্ষ অ্যাপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ফার্মভিলের নির্মাতা জিঙ্গা, অ্যাংগ্রি বার্ডসের নির্মাতা রোভিও এর মধ্যে অন্যতম।

বেঞ্চমার্ক নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ মাইক হিকি কিং এর আইপিওর ব্যাপারে বলেন, ‘এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। মোবাইল মার্কেটের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা সবসময় অ্যাপ সম্পর্কিত কিছুতে অংশ নিতে চান। তারা স্বাভাবিকভাবে সেরা অ্যাপের দিকেই যাবেন।’

২০১২ সালে বের হওয়া ক্যান্ডি ক্রাশ অ্যান্ড্রয়েড ও ফেইসবুকের অন্যতম জনপ্রিয় গেইম। এখানে গেইমারদের কাজ হচ্ছে ক্যান্ডিগুলো রঙ অনুসারে সাজানো।

২০১৩ সালের সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া এবং সবচেয়ে বেশি অর্থোপার্জন করা ফ্রি অ্যাপ ছিল এটি। ফ্রিতে ডাউনলোড করা গেলেও গেইমটির পুরো মজা নিতে হলে টাকা দিয়ে অনেক ফিচার কিনতে হয়।

আইপিও আবেদনে কিং এর আয় ও আর্থিক হিসাবের তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে কিং এর আয় প্রায় ১৯০ কোটি ডলার, দিনে ৫০ লাখ ডলার। গত বছর আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৬ কোটি ডলার।

তবে ক্যান্ডি ক্রাশের আয় এখন স্থিতিশীল থাকলেও সামনে কমতে পারে স্বীকার করেছে কোম্পানিটি। ক্রমাগত গেইমের সংখ্যা বাড়া এর কারণ।

কিং এর প্রধান নির্বাহী রিকার্ডো জ্যাকোনি আরও উল্লেখ করেন, মোবাইল ফোনের ব্যবহার দ্রুত আরও বাড়ছে। সেখানে বেশিরভাগ সময় ইউজাররা গেইম খেলছেন। ফলে এ খাত থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ বাড়ছে।

– রয়টার্স ও গার্ডিয়ান প্রতিবেদন থেকে

Related posts

*

*

Top