Maintance

পেপ্যাল লুকোচুরি, বছরজুড়ে আশার ফুলঝুঁড়ি

প্রকাশঃ ৫:৫৩ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৫:৫৫ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :  বিদায় হতে চলা ২০১৬ সালটি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি কমিউনিটি, বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সারদের কাছে অন্তত একটি বিষয়ে আশাভঙ্গের বছর হিসেবে তালিকায় যোগ হবে। আর তার নাম পেপ্যাল। বছরের মাঝামাঝি সময়ে ‘পেপ্যাল আসছে’, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি’, ‘নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ঘোষণা’ ইত্যাদি আলোড়নে আশার বিপরীতে বছরে শেষে বেশ হতাশাকে সঙ্গী করে যেতে হচ্ছে সবাইকে।

অবস্থা এমন যে, পেপ্যাল আসার কোনো ঘোষণা এখন আর কেউ বিশ্বাস করতে চান না। পেপ্যাল নিয়ে নীতিনির্ধারকদের কোনো আশ্বাস বা ঘোষণার বিপরীতে সবার একটাই উত্তর-আগে চালু হোক তারপর..।

frelaner-techshohor

২০১৬ সালের ‘পেপ্যাল’ ঘটনার শুরু ১৩ জুলাই। ওইদিন দুপুরে সরকারের যুগ্ম-সচিব মাহবুব কবির মিলন ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘এইমাত্র আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে বের হলাম। ছোট্ট কিন্তু বিশাল একটি আনন্দের সংবাদ দিচ্ছি। পেপ্যাল আসছে বাংলাদেশে। সোনালী ব্যাংকের সাথে এমওইউ চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে। আগামি দুই-তিন মাসের মধ্যেই কাজ শুরু করে দেবে তারা আমাদের দেশে’।

paypale-techshohor

ব্যস, শুরু হয়ে যায় স্যোশাল মিডিয়া ও টেক কমিউনিটিতে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা ও মতভেদ।

১৪ জুলাই দেশের বিভিন্ন শীর্ষ পর্যায়ের গণমাধ্যমগুলোতে সোনালী ব্যাংকের এমডি দিদার মো. আব্দুর রব জানান, ‘সব ধরণের পর্যবেক্ষণ শেষে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করে তাতে সই করে পেপ্যালের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি পেপ্যাল কর্তৃপক্ষ আমাদের নিশ্চিত করেছে তারাও চুক্তিতে সই করে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন। আশা করছি শিঘ্রই চুক্তিপত্রটি পেয়ে যাবো আমরা।’

‘সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ব্যাংকটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পর্যায়ের এক কর্মকর্তা। পেপালের প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলাপ-আলোচনাও করে গেছে।’

বাংলাদেশে দ্রুতই কার্যক্রম শুরু করার কথা জানায় পেপ্যালও। তারিখটা ২২ জুলাই।  দেশে কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়ায় সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির পর বিষয়টি নিয়ে পেপ্যালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিস্তারিত কিছু না বলে জানায়- ‘পেপ্যাল আশা করছে, ‘বাংলাদেশে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারবে তারা।’

এবার শুরু হয় উল্লাস, পেপ্যাল আসায় ফ্রিল্যান্সিং বিশ্বে কীভাবে বাংলাদেশে বড় জায়গা করবে, কী সুবিধা-অসুবিধা মিলবে এইসব নিয়ে আলোচনা।

paypal-techshohor (2)

এর মধ্যে ২৮ জুলাই একটি শীর্ষ দৈনিকে মতামত কলামে ‘পেপ্যাল আসছে’ শিরোণামে এক লেখায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবুল কাশেম মো. শিরিন জানান,দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ফ্রিল্যান্সাররা আশা করছেন যে পেপ্যাল ইন্ডিয়ায় ফ্রিল্যান্সারদের টাকা যেভাবে তাঁদের ভারতীয় ব্যাংক হিসাবে পাঠাচ্ছে, ঠিক এভাবে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের টাকাও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে পাঠাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পেপ্যাল সরাসরি এমন কোনো সার্ভিস নিয়ে আপাতত বাংলাদেশে আসছে না, আসছে অন্যভাবে। ইদানীং পেপ্যাল ঝুম (xoom.com) নামের আমেরিকাভিত্তিক একটি অনলাইন রেমিট্যান্স কোম্পানিকে কিনে নিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে শুধু রেমিট্যান্সের টাকা পাঠানোর সার্ভিস প্রদান করবে।’

তিনি বলেন, ‘পেপ্যাল ইদানীং তাদের ঝুম সার্ভিসের জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষর করেছে। অচিরেই ব্যাংক দুটি ঝুমের সেবা চালু করবে। কিন্তু তা হবে শুধু রেমিট্যান্স সংগ্রহের জন্য।’।

শুরু হয় আবার বিতর্ক।

২৯ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে দেশে যেসব সমস্যা রয়েছে তা তাড়াতাড়ি উঠে যাবে। পেপ্যাল ইতোমধ্যে এসেছিল, আবার পিছিয়ে গিয়েছিল। পেপ্যাল আবার দেশে এসেছে এবং আগ্রহ দেখিয়েছে।’

কিন্তু তাতে আর বিতর্ক থামে না। অন্যদিকে পেপ্যাল চালুর যে সময় বলা হয়েছিল তাও পেরিয়ে যায়। বিতর্ক, ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষোভ প্রকাশ চলতে থাকে। পেরিয়ে যায় বছর, আস্তে আস্তে তা পরিণত হয় একরাশ হতাশায়।

সবশেষে ১১ ডিসেম্বর পেপ্যাল নিয়ে আবারও আশাবাদের কথা শোনান তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। পেপ্যাল নিয়ে তিনি আশা ছাড়ছেন না।

তিনি বলেন, খুব দ্রুতই বাংলাদেশে পেপ্যাল নিয়ে আসতে পারব আমরা। ওই দিন এক অনুষ্ঠানে এক পলক বলেন, পেপ্যাল নিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সুখবর দেব।

পলক বলেন, সরকার পেপ্যাল চালুতে আন্তরিক চেষ্টা করছে। পেপ্যালের সহযোগী জুমের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। পেপ্যালের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও আমাদের সফল আলোচনা হয়েছে।

জুমের সঙ্গে লেনদেন চালুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের চার-পাঁচটি ব্যাংকে ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক লেনদেন চলছে।

সব মিলয়ে বছরজুড়ে এত প্রচেষ্টা, আশ্বাস ও পদক্ষেপের পরও ‘২০১৬’ সাল বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর বছর হলো না।

*

*

Related posts/