Maintance

৮ টেক জায়ান্টের শুরু যেখানে

প্রকাশঃ ৩:২৭ অপরাহ্ন, নভেম্বর ৫, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:২৪ অপরাহ্ন, নভেম্বর ৫, ২০১৭

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রযুক্তি বিশ্বের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর চমৎকার ডিজাইনের অফিসগুলো প্রায়ই আমাদেরকে অবাক করে দেয়।

কিন্তু তাদের শুরুটা এত সহজ ও জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না। অনেকেই বড় জায়গা ভাড়া নিতে না পেরে হোস্টেলের রুম, গ্যারেজ বা নিজের ঘরকেই অফিস বানিয়ে নিয়েছিলেন। কঠোর পরিশ্রম ও চেষ্টার ফলে এক সময় তাদের কাছে সাফল্য এসে ধরা দেয়।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার প্রযুক্তি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর চমৎকার সব অফিস রয়েছে। প্রায় শূন্য থেকে শুরু করা ৮ টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের শুরুর গল্পটি তুলে ধরা হল এই আয়োজনে।

অ্যাপল
অভিজাত প্রযুক্তি পণ্যের জগতে অ্যাপল শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড। বর্তমানে অ্যাপলের এত সুন্দর ও বিলাসবহুল অফিস বা বিক্রয়কেন্দ্র থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেছিলো একটি গাড়ির গ্যারেজ থেকে।

Steve-Jobs-Garage-Apple-first-HQ-techshohor

অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের পারিবারিক গ্যারেজে অ্যাপল কম্পিউটারের কার্যক্রম শুরু হয়। তখন স্টিফেন গ্রে ওজনিয়াকের বয়স ছিল ২৬ এবং জবসের বয়স ছিল ২১। অ্যাপলের জন্য জবস তার ভোক্সওয়াগন মিনিবাস এবং ওজনিয়াক তার প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর বিক্রি করে দেন।

গুগল:

গুগলের শুরুটা হয়েছিলো ১৯৯৬ সালে। সেই সময় গবেষণার কাজ শুরু করেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি কোর্সের দুই ছাত্র ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন।

তাদের তত্ত্ব ছিল নতুন কৌশলে কোনো একটা সার্চ ইঞ্জিন বানানো। যেটি ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যকার পারস্পারিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে আরও ভাল ফলাফল দেখাবে। ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন একে পেইজ র‍্যাঙ্ক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

google-office-techshohor

এরপর ১৯৯৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ডোমেইনের নাম গুগল নিবন্ধন করা হয়। কর্পোরেশন হিসেবে গুগল আত্মপ্রকাশ করে ১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। অ্যাপলের মতোই এটি চালানো হত তাদের এক বন্ধুর গ্যারেজ থেকে যার নাম ছিল সুজান ওজচিচকি।

মাইক্রোসফট:

যারা জীবনে অন্তত একবার কম্পিউটার ব্যবহার করেছেন তারা সবাই মাইক্রোসফটের নাম জানেন। কেননা প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যক্তিগত কম্পিউটার, অফিস, ল্যাপটপ এটিএম বুথসহ নানা ক্ষেত্রে। এটির সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের রেডমন্ড শহরে অবস্থিত। তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যারগুলো হল মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ও মাইক্রোসফট অফিস। ১৯৭৫ সালের ৪ এপ্রিল মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠিত হয়। বিল গেটস ও তার বাল্যকালের বন্ধু পল অ্যালেন মিলে ছোট একটি রুমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু করেন। যে বিল্ডিংটির একটি রুম তারা ভাড়া নিয়েছিলো পরবর্তীতে সে বিল্ডিংয়ের পুরোটাই কিনে নেয় মাইক্রোসফট।

ফেইসবুক:

ঘুম ছাড়া ফেইসবুক আমাদের সব সময়ের সঙ্গী। সারা বিশ্বে সক্রিয় ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ২০০ কোটি।

২০০৪ সালের জানুয়ারিতে মার্ক জাকারবার্গ নতুন সাইটের কোড লেখা শুরু করেন এবং ফেব্রুয়ারিতে হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে দিফেসবুক.কম এর উদ্বোধন করেন। মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে যোগ দেন ডাস্টিন মস্কোভিৎজ (প্রোগ্রামার), ক্রিস হুগেস ও এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন (ব্যবসায়িক মুখপাত্রও) ও অ্যান্ডরু ম্যাককলাম (গ্রাফিক্স আর্টিস্ট)। সে বছরেরই জুন মাসে প্যালো আল্টোতে অফিস নেওয়া হয়। ওয়েবসাইটটি প্রাথমিকভাবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু পরে সেটি বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লীগ ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। ডিসেম্বর নাগাদ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছে যায়।

২০১০ সালে ফেইসবুকের অফিস কেমন ছিল এই ভিডিওতে তা দেখে নিতে পারেন

হিউলেট-প্যাকার্ড:

হিউলেট-প্যাকার্ড নামটি হঠাৎ শুনলে হয়ত আপনি চমকে যাবেন বা অপরিচিত মনে হয়। তবে এইচপি বললে সবাই চিনতে পারবেন। এইচপি’র পূর্ণ নাম হলো হিউলেট-প্যাকার্ড। এটি প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, প্রিন্ট ও সার্ভার তৈরির প্রতিষ্ঠান।

hp-offoce-techsho hor

১৯৩৯ সালের ১ জানুয়ারি উইলিয়াম হিউলেট এবং ডেভিড প্যাকার্ড’র হাতে হিউলেট-প্যাকার্ড কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়। তারা দুজনই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন। প্রথমে এইচপির অফিস ছিলো গ্যারেজে। সেটার ঠিকানা ৩৬৭ এডিশন এভিনিউ পালো অল্টো ক্যালিফোনিয়া। বর্তমানে জায়গাটিকে এইচপির গ্যারেজ বলে ডাকা হয়।

অ্যামাজন:

ই-কমার্স খাতে সবচেয়ে চেনা নাম অ্যামাজন। বিশ্ব মাতানো এই সাইটের পেছনে কাজ করছেন জেফ বেজোস। নিউইয়র্কে বসের ওপর রাগ করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আমেরিকা ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। ১৯৯৪ সালে শুরু করেন ই-কমার্স সাইট অ্যামাজন। শুরুতে শুধু বই বিক্রি করতেন। সেসময় অ্যামাজনের ফুলফিলমেন্ট সেন্টার ছিল ৪০০ বর্গফুটের একটা গ্যারেজে। আর ২০১০ এ এসে তা দাঁড়ায় দুই কোটি ৬০ লাখ বর্গফুটে। বর্তমানে অ্যামাজনের ওয়ারহাউজের আকার দশটি ফুটবল মাঠের সমান বড়।

ডেল:

ব্যক্তিগত কম্পিউটার, নোটবুক), সার্ভার কম্পিউটার, ডাটা স্টোরেজ ডিভাইস (ইকুয়ালজিক), নেটওয়ার্ক সুইচসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্য তৈরিতে ডেলের সুনাম রয়েছে।

dell-office-techshohor

ডেল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালের ৪ নভেম্বর। এর প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল। তিনি ডেল ডেল ইনকর্পোরেটেডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী। ছোটবেলায় জমানো ১ হাজার ডলার মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি নিজের ডোম রুমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন।

ইবে:

ই-কমার্স খাতে আরেক সফল প্রতিষ্ঠানের নাম ইবে। প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভোক্তা থেকে ভোক্তা এবং ব্যবসায়ী থেকে ভোক্তাকে বিক্রয় সেবা প্রদান করে থাকে। এর প্রধান কার্যালয় স্যান হোসেতে অবস্থিত। ইবে ১৯৯৫ সালে পিয়ের ওমিদিয়ারের বাড়ির একটি রুমে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ৩০টিরও বেশি দেশে মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করছে ইবে ইনকর্পোরেটেড।

আরো পড়ুন: 

অ্যাপলের বিরুদ্ধে নাম চুরির অভিযোগ

নিজে থেকেই হাতে লাগবে অ্যাপল ওয়াচ

*

*

Related posts/