Maintance

বিক্রিতে এগিয়ে স্মার্টফোনের মেমোরি কার্ড

প্রকাশঃ ২:৫৭ অপরাহ্ন, অক্টোবর ২৭, ২০১৬ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:১৩ অপরাহ্ন, অক্টোবর ২৭, ২০১৬

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্টফোন, ক্যামেরা বা ট্যাবে বাড়তি স্টোরেজ সুবিধার জন্য মেমোরি কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। শুধু এ ধরনের কার্ডই নয়, স্টোরেজ সুবিধা দিচ্ছে এমন সব ডিভাইস হার্ডড্রাইভ, এসএসডি কার্ডের চাহিদা সব সময়ই বেশ ভালো। এ কারণে প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে এসব ডিভাইসের বিক্রিও ভালো।

গেটওয়ে কম্পিউটারের বিক্রেতা আব্দুল সাত্তার টেকশহর ডটকমে জানান, ট্রান্সসেন্ড, স্যানডিস্ক, অ্যাপাচার, কিংস্টন ব্র্যান্ডের কার্ডগুলো বাজারে চলছে বেশি। ক্রেতারা স্মার্র্টফোনের জন্যই বেশিরভাগ সময় মেমোরি কার্ড কিনছে।

এ বিক্রেতা জানান, কোনো কার্ড কেনার আগে সেটির গতি (স্পিড) ও ক্যাটাগরি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। স্পিডের দিক থেকে বর্তমান বাজারে মেমোরি কার্ডগুলোর মধ্যে ক্লাস ৪, ক্লাস ৬, ক্লাস ১০ বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, কার্ডের স্পিড রেটিং যত বেশি থাকে, সেটি তত দ্রুতগতিতে ফাইল রিড ও রাইট করতে পারে।

gadgets-wearables-pepcom-mwc-techshohor

আইডিবিতে মেমোরি কার্ড কিনতে আসা দশমশ্রেণীতে পড়ুয়া হাসান টেকশহরডটকমকে জানান, তার ট্যাবের জন্য ১৬ গিগাবাইট মেমোরি কার্ড কিনেছে। সে মূলত মুভি, গান রাখতে ব্যবহার করবে মেমোরি কার্ডটি।

বাজারের আসল মেমোরি কার্ডের ভিড়ে রয়েছে নকল কার্ড। ব্র্যান্ডের নামগুলো ও প্যাকেটিং এমনভাবে করা যেন দেখতে আসল মনে হয়।

হাসান জানান, স্যামসাংয়ের নকল মেমোরি কার্ডও বিক্রি হচ্ছে। নকল হলেও দোকানদাররা বলছেন এটিই নাকি সামস্যাংয়ের আসল কার্ড।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, এটি মূলত স্যামসাংয়ের নামে নকল মেমোরি কার্ড। যদিও অনেক বিক্রেতা বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিক্রেতা বলেন, আসলে স্যামসাং বাংলাদেশে আদালাভাবে বিক্রি জন্য মেমোরি কার্ড বাজারে আনেনি। তবে চীন থেকে আনা স্যামসাংয়ের লগো ও নাম ব্যবহার করে নকল মেমোরি কার্ড বিক্রি হচ্ছে দেশের বাজারে।

digital-desire-techshohor

আসল মেমোরি কার্ড চেনার সব থেকে সহজ উপায় হলো এতে ব্র্যান্ডের নামটি খোদাই করে লেখা থাকে। মেমোরি কার্ডে এক বছর থেকে শুরু করে লাইফ টাইম ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এডাটা ব্র্যান্ডের ৮ গিগাবাইট মাইক্রো এসডি মেমোরি কার্ডের দাম ৩৮০ টাকা। এই ব্র্যান্ডের ক্লাস ১০ মাইক্রো এসডি ১৬ এবং ৩২ গিগাবাইট কার্ডের দাম যথাক্রমে ৬০০ এবং ৮০০ টাকা।

অ্যাপাচার মাইক্রো এসডিএইচসি ক্লাস ১০ এর ১৬ গিগাবাইট কার্ডের মূল্য ৫০০ টাকা। অ্যাপাচার ক্লাস ফোরের ৮ গিগাবাইট এসডি কার্ডের মূল্য ৪০০ টাকা। এই ব্র্যান্ডের ক্লাস ৪ এর ৩২ গিগাবাইট মেমোরির মূল্য ৭০০ টাকা। ৩২ গিগাবাইট মাইক্রো এসডি কার্ডের মূল্য ৭০০ টাকা।

ট্র্যান্সসেন্ড ব্র্যান্ডের ক্লাস ১০ এর ১৬ এবং ৩২, ৬৪ জিবি মাইক্রো এসডি কার্ডের মূল্য ৪৫০ টাকা এবং ৬৫০ টাকা এবং ১৮০০ টাকা। এই ব্র্যান্ডের ৩২ জিবি এসডি ক্লাস ৪’য়ের মূল্য ৭০০ টাকা।

স্যানডিস্ক ব্র্যান্ডের মেমোরি কার্ড মডেল, গতি ও স্টোরেজের উপর নির্ভর করে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকার মধ্যে।

মেমোরি কার্ড ছাড়াও অন্য প্রযুক্তি পণ্যের র‍্যাম, মনিটর, সিপিইউ, কিবোর্ড, গ্রাফিক্স কার্ড ইত্যাদি ডিভাইস ভালো বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ল্যাপটপের বিক্রি ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই বিক্রেতা।

এক নজরে সপ্তাহের দরদাম
এলইডি মনিটর : এসার পি১৬৬ এইচকিউএল ১৫.৬ ইঞ্চি পাঁচ হাজার ৯০০ টাকা, এসার ই১৯০০এইচকিউ ১৮.৫ ইঞ্চি ছয় হাজার ৫০০ টাকা, এসার জি২২৭এইচকিউএল ২১.৫ ইঞ্চি ১১ হাজার ৪০০ টাকা।

আসুস ভিএইচ৬৮ডি ১৬ ইঞ্চি ছয় হাজার ১০০ টাকা, আসুস ভিএক্স২২৯৯এ ২১.৫ ইঞ্চি ১৪ হাজার টাকা।

ডেল  ই১৭১৫এস ১৭ ইঞ্চি আট হাজার টাকা, ডেল ইউজেড২২১৫এইচ ২১ ইঞ্চি ২০ হাজার টাকা।

স্যামসাং এস১৯ডি৩০০এনওয়াই ১৮ ইঞ্চি ছয় হাজার ৪০০ টাকা। স্যামসাং এলটি২৪ই৩১০এআর ২৩.৬ ইঞ্চি ১৮ হাজার টাকা।

মাদারবোর্ড : অ্যাসরক ইন্টেল এইচ৮১এম চার হাজার ১০০ টাকা, অ্যাসরক ইন্টেল জেড৯৭ ১৯ হাজার টাকা।

আসুস এইচ৬১এমকেএলজিএ১১৫৫ চার হাজার টাকা, আসুস সেলেরন ডিসি পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা,  আসুস বি১৫০প্লাস নয় হাজার ৪০০ টাকা, আসুস জেড১৭০ ১৪ হাজার ৩০০ টাকা।

গিগাবাইট এএমডি-এএম১ তিন হাজার ৪০০, গিগাবাইট জিএ-৭৮এলএমটি-ইউএসবিথ্রি এএমডি৭৬০ চার হাজার ৮০০, গিগাবাইট জি১স্নিপার এম৭ আট হাজার ৬০০ টাকা  এবং এমএসআই জেড১৭০এম মরটার ১১ হাজার ৬০০ টাকা।

র‍্যাম : এডাটা ২ গিগাবাইট ডিডিআরথ্রি এক হাজার ২০০ টাকা, এডাটা ডিডিআরথ্রি ৪ গিগাবাইট এক হাজার ৬০০ টাকা, এডাটা ৮ গিগাবাইট ডিডিআরথ্রি চার হাজার ৮০০ টাকা।

ট্রানসেন্ড ৪ গিগাবাইট ডিডিআরথ্রি দুই হাজার ৫০০। টুইনমস ২ গিগাবাইট ডিডিআরথ্রি এক হাজার ৫০০ ও ৪ গিগাবাইট ডিডিআরথ্রি দুই হাজার ২০০ টাকা, ৪ গিগাবাইট ডিডিআরথ্রি ১১ হাজার ৬০০ টাকা।

প্রসেসর : ইন্টেল কোর আইথ্রি ছয় হাজার টাকা, ইন্টেল কোরআইফাইভ ১৪ হাজার টাকা, ইন্টেল কোরআইসেভেন ২৩ হাজার ৫০০ টাকা।

এএমডি সেম্পন ২৬৫০ তিন হাজার ১০০ টাকা, এএমডি এপিইউ এ৬ তিন হাজার ৫০০, বুলডোজার এফএক্স৪৩৫০ ৪.২ গিগাহার্টজ নয় হাজার ৩০০ টাকা।

গ্রাফিক্স কার্ড : আসুস এইচডি৫৪৫০ এসএল ২ গিগাবাইট ডিডিআরথ্রি চার হাজার ৩০০ টাকা, আসুস আর৭ ২৪০ ২ গিগাবাইট ছয় হাজার ২০০ টাকা, আসুস জিটিএক্স৭৫০ডিএফ ২ গিগাবাইট ১১ হাজার ৫০০ টাকা।

গিগাবাইট আর৫২৩০১ গিগাবাইট  চার হাজার টাকা,  গিগাবাইট জিটি৭৩০২ জিআই ছয় হাজার টাকা, গিগাবাইট জিভিআর৭৩৬০সি ২ গিগাবাইট রেডন ডিডিআরফাইভ ১০ হাজার ৩০০ টাকা।

*

*

Related posts/