Maintance

সাইবার সিকিউরিটিতে সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশঃ ৩:৫৯ অপরাহ্ন, অক্টোবর ১৯, ২০১৬ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:৫৯ অপরাহ্ন, অক্টোবর ১৯, ২০১৬

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাইবার সিকিউটিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি উৎসব ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশনের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’

সাইবার নিরপত্তায় জনসম্পদ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশেষ করে আর্থিক খাত এবং গোপনীয় বিষয়ের নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে । ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করে যাতে কেউ অপরাধ কার্যক্রম চালাতে না পারে সে ব্যবস্থাও আমাদের নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আমাদের সরকার বিগত সাড়ে সাত বছরে আইসিটি খাতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের আওতায় এসেছে। যে ব্যান্ডউথের দাম ২০০৭ সালে ছিল ৭৬ হাজার টাকা তা কমিয়ে বর্তমানে ৬২৫টাকায় নামিয়ে এনেছি’

‘ইতোমধ্যে প্রায় সব উপজেলাই থ্রিজি পৌঁছে গেছে। আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে ফোরজি চালু হয়ে যাবে। দেশে আজ প্রায় ১৩ কোটির বেশি মোবাইল সিম ব্যবহার হচ্ছে। ৬ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ৫হাজার ২৫০টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন।’

‘তিন হাজার ডাকঘরেও ডিজিটাল সেবা দেয়া হয়েছে। কয়েকটি উন্নত দেশসহ প্রায় ৪০টি দেশে আমরা সফটওয়্যার ও আইসিটি সেবা রপ্তানি ‍শুরু করেছি।’

‘কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিসহ সারাদেশে আরও ২০টির মতো হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ও আইটি ভিলেজ আমরা গড়ে তুলছি ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি সেবা পেতে এখন আর মানুষকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হয় না। লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দেয়া লাগে না। এক সময় এদেশে হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে ঘুষ বাণিজ্যকে যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছিল, আমরা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তা বন্ধ করে দিয়েছি । টেন্ডার বাণিজ্য বন্ধ হয়েছে। সরকারি টেন্ডারগুলো এখন ই-জিপিতে চলে এসেছে।’

DWOPEN.techshohor                                                                                                                   ছবি : কাব্য আহমেদ

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জাতির পিতা যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে বিশেষ অগ্রাধিখার দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে আর্ন্তজাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা আইটিইউ এর সদস্যপদ লাভ করে। তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বিসিএসআইআর প্রতিষ্ঠা করেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন ড. কুদরত-ই-খুদা’র মতো বিজ্ঞানীর হাতে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে তিনি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ও গবেষকদের দেশে ফিরিয়ে আনারও উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।’

‘বঙ্গবন্ধু দেশে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি বিকাশের জন্য বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ‍ভূ উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেন। আমাদের দুর্ভাগ্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা শুরু হয়। আমাদের অগ্রযাত্রা স্তম্ভিত হয়ে যায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে পুনারায় জনগনের সুযোগ পায়। আমরা সরকার গঠন করে মানুষকে উন্নত জীবন দানের প্রতিজ্ঞা করি। তারই অংশ হিসেবে আমরা টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে ঢেলে সাজাই।’

ফোন করলেও ১০টাকা ধরলেও ১০টাকা, মোবাইল কলের সেই মনোপলি ভেঙ্গে দেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়। ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পেশ করি। জনগনের বিপুল ম্যান্ডেড নিয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর বিএনপি-জামাতের রেখে যাওয়া সবত্র লুটপাটের চিহ্ন মুছে ফেলে উন্নয়নের এক মহাপরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করি।’

‘তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য আমার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে একত্রিত করে একক মন্ত্রণালয় গঠন করি।’

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়নে আমাদের প্রচেষ্টা বিশ্ববাসীর সুনাম অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে অবদানের জন্য আইসিটি ফর ডেভলমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অন্যতম কারিগর। আসলে ওর কাছ হতেই আমার কম্পিউটার শিক্ষা। সবসময়ই শিখছি।

‘মা হিসেবে এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি মনেকরি সজীব ওয়াজেদ জয় যে পুরস্কার পেয়েছে তাতে আমি অবশ্যই মা হিসেবে গর্বিত। এ অর্জন শুধু সরকারের নয়, এর কৃতিত্ব দেশবাসীর, দেশের জনগণের।’

‘বাংলাদেশ আজ বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল। বর্তমানে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক শূন্য পাঁচ। প্রকৃতপক্ষে ৭ দশমিক ১ আমরা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। মাথাপিছু আয় এক হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলার। পাঁচ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের স্তর হতে মধ্য আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে । দারিদ্রের হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশে আমরা নামিয়ে এনেছি । ৭৮ভাগ মানুষ আজকে বিদ্যুৎ সুবিধা পায় । ২০২১ এর আগেই ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারের বিভিন্ন অর্জন ও লক্ষ্যসমূহ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সকালে সাড়ে ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন(এটুআই) এর প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার।

বক্তব্য রাখেন তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/