গেইম তৈরিতে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে এখন বিশ্বমানের অ্যাপস তৈরি হচ্ছে। শিক্ষাসহ নানা কাজে ব্যবহারও হচ্ছে এগুলো। রপ্তানিও বাড়ছে আশানুরূপ হারে। এ অনুপ্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে এবার গেইম নির্মাণের দিকে নজর দিচ্ছে সরকার।

দেশে সম্ভাবনাময় গেইম তৈরি খাতের বিকাশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়ার মহাপরিকল্পনা করছে।

প্রকল্পের আওতায় স্বতন্ত্র গেইম ইন্সটিটিউট তৈরির পরিকল্পনাও চলছে বলে জানা গেছে।

game making_techshohor

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান টেকশহরডটকমকে জানান, গেইম তৈরির সম্ভাবনাময় খাতটির বিকাশে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রায় দুশ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩৫-৩৬টি কোম্পানিকে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন ডলারের গেইম বাজার থেকে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার উদ্দেশ্যে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সচিব বলেন, দেশে গেইম তৈরির প্লাটফর্ম ইতিমধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, অ্যাপস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। এ কর্মসূচিই গেইম তৈরির প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে। তাই নতুন এ চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নজরুল বলেন, গেইমের বিষয়টি একটু জটিল। এতে পাবলিশার ও ডিজাইনারের পাশাপাশি একটি সম্পূর্ণ টিম লাগে। আমরা অ্যাপস তৈরিতে সফল হতে চলেছি। এতে একটা গ্রাউন্ড তৈরি হচ্ছে। লুপস তৈরির মতো দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ছে।

তবে গেইম তৈরির মতো উচ্চ লেভেলের কাজ সরকার একা এগিয়ে নিতে পারবে না। তাই বিভিন্ন লেভেলের কোম্পানিকে ইতিমধ্যে প্রকল্পে অংশগ্রহণে আহবান জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অ্যাপস অ্যান্ড গেইম প্রকল্পটির আওতায় গেইম ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে জানিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব বলেন, এতে প্রডিউসার, পাবলিশার, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, কনন্টেট ডেভলপার, গেইম প্লানারের মতো দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

শুধু বিদেশে নয়, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের কল্যাণে দেশে বিভিন্ন ধরনের গেইমের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ক্যান্ড্রি ক্রাশ সাগা থেকে শুরু করে এক্স-কম : ইউএফও ডিফেনস, স্টার ওয়ারস, টাই ফাইটার বিশ্ব মাতাচ্ছে। সিভিলাইজেশন-৪ বিক্রি হয়েছে ছয় মিলিয়ন কপি।

‘গ্র্যান্ড থেফট অটো ভি’ গেইমটি মুক্তির মাত্র তিন দিনে আয় করেছে এক বিলিয়ন ডলার। হয়ত সেদিন বেশি দূরে নয় বাংলাদেশও ঢুকে পড়বে এসব রেকর্ডের তালিকায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জামার্নির কোলনে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় গেইম মেলা গেইমকম। এতে বিশ্বের সব নামকরা গেইম নির্মাতাদের সঙ্গে বাংলাদেশও গেইম নিয়ে হাজির হতে চায়। এখন অপেক্ষার পালা সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবে কতটা অবদান রাখতে পারে; নাকি অন্যসব প্রকল্পের মতো কাগজে কলমেই আটকে থাকে।

Related posts

*

*

Top