নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস : ডিজিটাল বাংলাদেশে সাড়াশব্দ নেই

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্ব নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস ১১ ফেব্রুয়ারি। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর দিবসটি সাড়ম্বরে পালিত হলেও বাংলাদেশে উদযাপিত হওয়ার তথ্য নেই। অথচ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ ইন্টারনেটের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার অপরাধ, অনলাইনে হয়রানি, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ে নিরাপত্তা, শিশুদের ক্ষতিকর ইন্টারনেট থেকে সুরক্ষা, কিশোর ও যুবসমাজকে দায়িত্বসম্পন্ন ইন্টারনেট ব্যবহারে উৎসাহিত করা, পরিচ্ছন্ন ইন্টারনেট প্লাটফর্ম তৈরি করতে বিশ্বজুড়ে এ দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।

safer internet day_techshohor

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান টেকশহরডটকমকে বলেন, এখনও নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস বা এ বিষয়ক কোনো কর্মসূচী আমাদের নেই।

সচিব বলেন, কিছুদিন হলো সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে আইন ও নীতিমালা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আমরাও ইন্টারনেট অপরাধের বিষয়ে সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচীতে যাব।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট তিন কোটি ৫৮ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছেন। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, সেখানে নিরাপদ ইন্টারনেটের জন্য এসব কার্যক্রম গুরুত্বের প্রথম সারিতেই থাকা উচিত ছিল বলে মনে করেন আইসিটি বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির সমানতালে বাড়ছে ইন্টারনেট অপরাধ। ইন্টারনেট ব্যবহার করে দেশে সাইবার অপরাধ বাড়ছে জানিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেছেন, এ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের বড় অংশ যুব সমাজ। অপরাধীরা তাদেরকে সাইবার অপরাধে যুক্ত করছে।

তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মোস্তফা জব্বার দেশে দিবসটি পালন না হওয়ার তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিবসটি পালন ইন্টারনেট নিরাপত্তায় সচেতনতা তৈরিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তিনি টেকশহরডটকমকে বলেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দিবসটি অবশ্যই পালন করা উচিত।

‘সেফ ইন্টারনেট ডে’ অনলাইন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন । ২০০৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেইফবর্ডার প্রজেক্টের অংশ হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। পরের বছর থেকে ইনসেইফ নেটওয়ার্ক দিবসটি উদযাপনের দায়িত্ব নেয়। এখন বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে দিবসটি পালিত হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এ দিবস ব্যাপক আয়োজনের মধ্যদিয়ে উদযাপিত হয়।

সাইবার অপরাধ, ইন্টারনেট হয়রানি থেকে শুরু করে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের নানা বিষয় নিয়ে ইনসেইফ কাজ করে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘তুলনামূলক ভাল ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা’। গত বছরের মূল ইস্যু ছিল ‘ইন্টারনেট অধিকার এবং দায়িত্ব’।

বর্তমানে বিশ্বের সকল দেশ ইন্টারনেট অপরাধে ভয়ংকরভাবে আক্রান্ত। এটি অপরাধের তালিকায় শীর্ষে স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ প্রত্যেকটি দেশেই এ অপরাধ ঠেকাতে নতুন নতুন সাইবার আইনও হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা কিছুতেই যেন কমানো যাচ্ছেনা এ অপরাধ বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

পুলিশের আর্ন্তজাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট অপরাধের কারণে শুধু ইউরোপে বছরে ক্ষতি হয় প্রায় এক হাজার বিলিয়ন ডলার। প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে এক মিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ইন্টারনেট অপরাধের শিকার হন।

বাংলাদেশও বিগত পাঁচ-ছয় বছরে ব্যাপকভাবে ইন্টারনেট অপরাধ বাড়ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হতে শুরু করে সরকারি ওয়েবসাইট, সাধারণ মানুষ, পর্ণোগ্রাফি, মাদক, ব্যাংকের আর্থিক লেনদেন হতে শুরু করে বিভিন্নভাবে এ অপরাধের বিস্তৃতি ঘটেছে। এখন ভয় সর্বত্র ছড়ানো। অনলাইনে কেনাকাটার ভয়, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে যোগ দিতে ভয় এবং ভয় দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট ব্যবহারেও।

বিশ্বে ভয়াবহ কয়েকটি ইন্টারনেট অপরাধের মধ্যে সাইবার পর্ণোগ্রাফি রয়েছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী, যুবক ও ছাত্র-ছাত্রীরা এ অপরাধের জালে আটকে যাচ্ছে। বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসায়ে যে সাইটগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি তারমধ্যে রয়েছে, পাইরেটেড বই, চলচ্চিত্র, বিভিন্ন ধরণের পর্ণোসাইট, স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন গবেষেণা সংস্থার হিসাবে বাংলাদেশে পর্ণো ছবির দর্শকদের ৭৭ শতাংশ শিশু। স্কুল শিক্ষার্থীরা মোবাইলে, সাইবার ক্যাফেতে, বাসায় ইন্টারনেটে পর্ণো ছবিতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশংকা ইন্টারনেট অপরাধ ভবিষ্যতে আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসবাদের দিকে যেতে থাকবে। এ জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রত্যেকটি দেশ। এক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে প্রথম। কিন্তু বাংলাদেশে এ সচেতনতা বাড়াতে কোনো পদক্ষেপ বা কর্মসূচী নেই। এ দিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related posts

*

*

Top