সেরা দশ সুপারকম্পিউটারের কথা

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্টফোন থেকে ডেস্কটপ- সবধরনের পণ্য নিয়ে চলছে বছরজুড়ে নানান ধরণের গবেষণা। কে কতো উন্নত ও শক্তিশালী পণ্য তৈরি করছে  তা নিয়ে প্রতিযোগিতার শেষ নেই। প্রযুক্তি বোদ্ধারাও জরিপ করছেন এ দৌড়ে কে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে বর্তমানের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারগুলোর তালিকা।

কোনো কনজ্যুমার পণ্য না হলেও সুপারকম্পিউটারকে ঘিরে প্রযুক্তিপ্রেমীদের বাড়তি আগ্রহ রয়েছে। কারণ, এসব কম্পিউটার একদিকে যেমনও বলে দিচ্ছে গণনাযন্ত্রের সার্বিক অগ্রগতি, পাশাপাশি ইঙ্গিত দিচ্ছে আসছে বছরগুলোতে প্রযুক্তি আরও আকাশছোঁয়া উন্নতির পথে এগোচ্ছে। বদলে দিচ্ছে গণনার ধারণা। তথ্য সংরক্ষণে অভূতপূর্ব উন্নতি হচেছ।

এমনই দশ সেরা সুপারকম্পিউটারের টুকিটাকি নিয়ে এ প্রতিবেদন।

supercomputer tianhe 2_techshohor

তিয়ানহে-২
চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ডিফেন্স টেকনোলজির তৈরি সুপারকম্পিউটার তিয়ানহে-২ এবারও বিশ্বের এক নম্বর কম্পিউটার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩৮৬২.৭ টেরাফ্লপ ডাটা আদান-প্রদান করতে পারে।  ১০ লাখ ২৪ হাজার গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে এতে, চালিত হয় বিশেষ কাইলিন লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা। প্রসেসর ইন্টেল জিওন ফাই।

টাইটান
যুক্তরাষ্ট্রের ওক রিজ ন্যাশনাল ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জিতে রয়েছে টাইটান নামে দ্বিতীয় শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার।

supercomputer Titan_techshohor

এটি সেকেন্ডে ১৭৫৯০ টেরাফ্লপ ডাটা ট্রান্সফার করতে পারে। তবে এটি মাত্র ৮.২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে, যে বর্তমানের অন্যতম বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সুপারকম্পিউটার এটি। গাণিতিক ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এটি এনভিডিয়া জিপিইউ ব্যবহার করে।

সিকোয়া
মার্কিন শক্তি অধিদপ্তরের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে রয়েছে আরেক বাঘা সুপারকম্পিউটার সিকোয়া। একসময়ের শীর্ষ কম্পিউটার নির্মাতা আইবিএমের ব্লুজিন সিস্টেমের উপর ভিত্তি করে এটি তৈরি। ২০১১ সালে এটি শীর্ষ কম্পিউটারগুলোর তালিকায় আসে। এর ডাটা ট্রান্সফার রেট ১৭১৭৩.২ টেরাফল্প পার সেকেন্ড। এটি লিনাক্স চালিত সিস্টেম, গতি বজায় রাখার জন্য ১৫ লাখ গিগাবাইটের বেশি র‍্যাম ব্যবহার করে।

ফুজিৎসু কে কম্পিউটার
বিশ্বের চতুর্থ শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারটি তৈরি করেছে জাপানের ফুজিৎসু। এটি জাপানের কোবের রিকেন অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট ফর কম্পিউটেশনাল সায়েন্সে স্থাপিত।  এটি প্রতি সেকেন্ডে ১০৫১০ টেরাফ্লপ তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে লিনাক্স ব্যবহার করে।

supercomputer_mira_techshohor

মিরা
এটিও আইবিএমের ব্লুজিন/কিউ সিস্টেমে তৈরি। এটি ব্যবহার করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জির আর্গন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে। এটি বিশ্বের পঞ্চম শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার। এটি সেকেন্ডে ৮৫৮৬ টেরাফ্লপ তথ্য ট্রান্সফার করতে পারে। এটি লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে চালিত।

পিজ ডেইন্ট
এ বছর ছয় নম্বর সুপারকম্পিউটার হিসেবে নতুন একটি নাম এসেছে- পিজ ডেইন্ট। এটি ক্রেজি এক্সসি৩০ ডিজাইনে তৈরি। সুইজারল্যান্ডের সুইস ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে এটি রয়েছে। এটি ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সিস্টেম। এটি মাত্র ২.৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে, তাই তালিকার সবচেয়ে শক্তিসাশ্রয়ী কম্পিউটার। এটি সেকেন্ডে ৬.২৭১০ টেরাফ্লপ ডাটা আদান-প্রদান করতে পারে।

স্টাম্পিড
টেক্সাস ইউনিভার্সিটির টেক্সাস অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং সেন্টারে এটি অবস্থিত। এতে ইন্টেলের জিওন ফাই প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। লিনাক্স চালিত এই সিস্টেমটি সেকেন্ডে ৫১৬৮.২ টেরাফ্লপ ডাটা আদান-প্রদান করতে পারে।

জিউকিন
বিশ্বের অষ্টম শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার জুকিন। এটি আইবিএম ব্লুজিন/কিউ ডিজাইনে তৈরি। জার্মানির ফোরশ্যুংজেন্ট্রাম জুয়েলিখে এটি অবস্থিত। প্রতি সেকেন্ডে ডাটা ট্রান্সফার রেট ৫০০০৮.৯ টেরাফ্লপ। র‍্যাম ৪,৫৮,৭৫২ গিগাবাইট।

ভালকান
এটিও আইবিএম ব্লুজিন সিস্টেমভিত্তিক সুপারকম্পিউটার। লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে এটি অবস্থিত। এর তথ্য প্রবাহের ক্ষমতা সেকেন্ডে ৪২৯৩.৩ টেরাফ্লপ। র‍্যাম ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২১৬ গিগাবাইট।

সুপারএমইউসি
তালিকায় সবার শেষে রয়েছে ইউরোপের সুপারকম্পিউটার সুপারএমইউসি। এটি জার্মানির লিবনিজ রেচেনজেনট্রামে অবস্থিত। লিনাক্স ভিত্তিক এই কম্পিউটার সেকেন্ডে ২৮৯৭ টেরাফ্লপ গতিতে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রতিবেদন অবলম্বনে

Related posts

*

*

Top