হ্যাকারদের টিকিটিরও খোঁজ মেলে না যে কারণে

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হ্যাকিং নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে দেশে বিদেশে। গত কয়েক দিনে হ্যাকারদের বেশ দাপট দেখেছে বিশ্ব। সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট, স্কাইপি থেকে শুরু করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ওয়েবসাইট সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্ধেকের বেশি নাগরিকের ক্রেডিট কার্ড তথ্য এবং জার্মানির দেড় কোটি ব্যক্তির তথ্যও হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। যুক্তরাষ্ট্রে টার্গেটের মতো শীর্ষ সুপার শপের ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্যও এখন হ্যাকারদের হাতে।

হ্যাকারদের একের পর এক হামলা ও অভিনব কর্মকাণ্ডের পরও তারা ধরাছোয়ার বাইরে থাকে কিভাবে? তাদের টিকিটিরও খোঁজ কেউ পায় না কেন। এমন প্রশ্নের উত্তর খুজেছেন ভারতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, ভার্চুয়াল কিছু কৌশল গ্রহণের কারণেই হ্যাকাররা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী হাজারও হ্যাকার গ্রুপ রয়েছে। এদের বেশিরভাগ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় তথ্য নিয়ে কাজ করে। অনেক হ্যাকার গ্রুপ সম্পর্কে আশংকা আছে তারা অর্থ পেলে অনলাইনে সংগৃহীত সব তথ্য ছেড়ে দিতে পারে। এসব তথ্যের মধ্যে বাংকের গোপনীয় তথ্য থেকে শুরু করে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের ইমেইল, পাসওয়ার্ড থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “হ্যাকাররা সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ড পাওয়ার জন্য অভ্যান্তরীন তথ্যের সাহায্যে ব্যাক-এন্ড সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরা ভার্চুয়ালি কাজ করে। আইপি লুকানোর বিভিন্ন টুলস ব্যবহারের কারণে এরা কোন জায়গা থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে সেটি জানা সম্ভব হয় না। এটা শুধু ভারত কিংবা পুনেতে নয়, বিশ্বব্যাপী ঘটছে।”

hacking-TechShohor

ভারতে সাইম্যানটেক কর্পোরেশনের কান্ট্রি ম্যানেজার রিতেশ চোপড়া বলেন, খ্যাতি লাভ কিংবা নিরাপত্তা নিশ্চিতের জায়গা থেকে এর অর্থ লাভ হ্যাকারদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে গেছে। আর এ কাজটি করার জন্য ম্যালওয়্যার প্রধান টুল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

সাইম্যানটেকের একটি তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বে স্প্যামে ভারত প্রথম ও ভাইরাস আক্রমনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এতে সহজেই অনুমান করা যায়, হ্যাকার ও সাইবার অপরাধীরা ভারতের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের উপর নজরদারি রাখছে ও আক্রমন চালাচ্ছে।

ক্যাসপারেস্কি ল্যাবের সাউথ এশিয়ার চ্যানেল সেলস ডিরেক্টর জগন্নাথ পাটনায়েক বলেন, প্রতি সপ্তাহেই নূন্যতম একবার সব ধরণের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এ ছাড়া মাসে অন্তত দু’বার সব মেইল মুছে ফেলা আবশ্যক। এর ফলে যদি আপনার মেইল হ্যাক হয় তাহলে সব মেইল বা তথ্যের নিয়ন্ত্রণে হ্যাকারদের হাতে যাবে না।

পাটনায়েক বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মেইল সংরক্ষণ করতে পিসি বা ল্যাপটপের একটি এনক্রিপশন ফোল্ডারে রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মেইলের নিরাপত্তায় টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

– টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

Related posts

*

*

Top