ডিজিটাল টাক্সফোর্সের পাঁচ বছরে এক বৈঠক

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এক সরকারের মেয়াদ পেরিয়ে অন্য সরকারও যাত্রা শুরু করেছে। কিন্তু দেশের ডিজিটাল কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্যে গঠিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ টাক্সফোর্স’ পাঁচ বছরে একটি বৈঠক করতে পেরেছে।

প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান করে গঠিত টাক্সফোর্সে সংশ্লিষ্ট খাতের মন্ত্রী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কমিশনের সদস্য এবং বেসরকারি বেশ কয়েকটি সংগঠনের সদস্য রয়েছেন।

digital bangladesh_techshohor

বর্তমানে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যেন টাক্সফোর্সটির কথা অনেকে ভুলেই গেছেন। তবে ডিজিটাল টাক্সফোর্স সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কমিটি একটু এগিয়ে, চারটি বৈঠক করতে পেরেছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসার এক মাসের মাথায় ২০০৯ সালের ৩১ জানুয়ারি ডিজিটাল টাক্সফোর্স গঠিত হয়। সে সময়ের আইসিটি টাক্সফোর্সকেই ডিজিটাল বাংলাদেশ টাক্সফোর্স হিসেবে গ্রহন করে সরকার। সে সময় টাক্সফোর্সে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

আইসিটি টাক্সফোর্সের সর্বশেষ বৈঠক হয় ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। সে হিসাবে ২৩ মাস পরে ২০১০ সালের আগস্টে হয়েছে সবেধন নীলমনি ওই বৈঠক।

ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রতি তিন মাসে একবার বসবে টাক্সফোর্স। কিন্তু তারপর তিন বছরের বেশ সময় কোনো উদ্যোগ নেই, আলোচনা নেই। অথচ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ ফোরাম।

ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসা এ সরকারের জন্যে এটি একটি ব্যর্থতা বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

টাক্সফোর্সের সদস্য তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডিনেটের প্রধান ড. অনন্য রায়হান বলেন, ডিজিটাল টাক্সফোর্সের কাছে প্রত্যাশা বেশ ছিল। সর্বোচ্চ এ কমিটি আরও কয়েকবার বেশি বসলে তাতে এ সংক্রান্ত কার্যক্রমে গতি থাকত।

তিনি বলেন, টাক্সফোর্সের কাজ ছিল ডিজিটাল কার্যক্রম সমন্বয় করা। কিন্তু তা হয়নি। বরং এতদিন বৈঠক না হওয়ায় অনেকেই এটির কার্যক্রম ভুলেও গেছেন। তাছাড়া পদাধিকার বলে টাক্সফোর্সের যেসব সদস্য ছিলেন সেগুলোতে পরিবর্তন এসেছে। ফলে নতুন যারা এসেছেন তাদের কাছে কমিটির বিষয়টি অজানা রয়ে গেছে।

একমাত্র বৈঠকে অংশ নেওয়া সফটওয়ার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস অ্যাসোশিয়েসনের (বেসিস) সাবেক সভাপতি মাহবুব জামান বলেন, এ সরকারের কাছে এ বিষয়ে আরেকটু বেশি প্রত্যাশা ছিল। তিন মাসে একবার না হয়ে প্রতি ছয় মাসেও একবার বসা গেলে তথ্য প্রযুক্তিতে দেশ আরও এগিয়ে যেত।

ওই একমাত্র বৈঠকে অংশ নেন কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তফা জব্বারও। তিনি বলেন, যেটা হয়েছে অবশ্যই তা প্রত্যাশিত নয়।

অনুষ্ঠিত একমাত্র বৈঠকে আলাদা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রনালয় গঠনসহ ব্যান্ডউইথের দাম কমিয়ে আনা, কারওরান বাজারের জনতা টাওয়ারে সফটওয়্যার পার্ক স্থাপনসহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্লাসরুপে ল্যাপটপ এবং মাল্কিল্টমিডিয়া প্রজেক্টর দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হয়।

Related posts

*

*

Top