ফেইসবুক ক্লিক বাণিজ্যের হেডকোয়ার্টার ঢাকা

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : লাইক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আবারও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঢাকার নাম উঠে এসেছে। ফেইসবুকের অনেক পেইজ এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ঢাকা শহরে৷ ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ফেইসবুক পাতায় ভক্তের সংখ্যা প্রায় ৫১ মিলিয়ন৷ এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ঢাকায়৷ একইভাবে মাধ্যমটির নিজস্ব সিকিউরিটি পেইজ এবং গুগলের ফেইসবুক পেইজেও লাইকের মানদণ্ডে সবচেয়ে জনপ্রিয় ঢাকায়৷

জনপ্রিয় এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাম্প্রতিক এক হিসেবে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) ৫ জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির ভাষায়, ‘বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা হচ্ছে লাইক বা ‘ক্লিক বাণিজ্যের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র৷’

facebook_like_techshohor

এর আগে ২০১৩ সালের জুলাইতে ইংল্যান্ডের গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানীমূলক প্রতিবেদনে ফেইসবুকে লাইক বাণিজ্যে বাংলাদেশের নাম উঠে আসে। এ দেশের স্বল্প আয়ের কর্মী ও ফ্রিল্যান্সাররা একেবারে কম খরচে ভুয়া লাইক বাণিজ্যের কাজ করছেন বলে জানায় তারা।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে ফেইসবুক সোর্সকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, লাইক জোগানোর দিক থেকে বিশ্বের প্রথম স্থানটি মিসরের রাজধানী কায়রোর। তৃতীয় অবস্থানে ঢাকা। ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা অজস্র ক্লিক ফার্ম প্রতি এক হাজার লাইক জোগান দিতে মাত্র ১৫ মার্কিন ডলার দাবি করে। অথচ, এসব ক্লিক ফার্মে কাজ করা সাধারণ কর্মীর আয় অনেক কম। দিনরাত বসে মাত্র এক ডলারের জন্য অমানুষিক পরিশ্রম করেন এসব কর্মীরা।

এদিকে এপির প্রতিবেদনের শুরুটা ছিল এমন, ‘‌পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, ফেইসবুক ‘লাইক’ অথবা টুইটারে ‘ফলোয়ার’ দিয়ে কে কত বড় সেলিব্রেটি বা কোন পণ্য কত বেশি জনপ্রিয় তার বিচার করা হচ্ছে৷ কিন্তু এসব লাইক বা ফলোয়ারের এখন অনেক ভুয়া লাইক। আর বিশ্বে এ ভূয়া লাইক বেচাকেনার সস্তা বাজার ও আন্তজার্তিক কেন্দ্র হিসেবে ঢাকার নাম উঠে এসেছে।’

twitter_techshohor

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মজার বিষয় হলো টাকা দিয়ে লাইক কেনার তালিকায় রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও৷ তাদের ফেইসবুক পাতায় লাইকের সংখ্যা চার লাখের বেশি৷ লাইক বাড়াতে এ মন্ত্রণালয় কয়েক লাখ মার্কিন ডলার খরচ করেছে৷ ২০১৩ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেইসবুক পাতা সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল কায়রোতে৷

ইউনিক আইটি ওয়ার্ল্ড নামের ঢাকার একটি সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি তার কায়েন্টের সামাজিক যোগাযোগ পাতা ‘লাইক’ করার জন্য অন্যদের টাকা দেন৷ এভাবে ফেইসবুক, টুইটার বা গুগল প্লাসে তারা লাইক বাড়িয়ে থাকেন। তবে এসব লাইক ভুয়া হিসেবে গণ্য করা বেশ কঠিন।

সাইফুল জানান, ‘‘যেসব একাউন্ট থেকে লাইক বা ক্লিক করা হয় – সেগুলো ভুয়া নয়, আসল৷”

ইটালির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং ব্লগার আন্দ্রেয়া স্ট্রোপা এবং কার্লা ডি মিশায়েলি তার অনুসন্ধানে দেখেন, ২০১৩ সালে ভুয়া টুইটার ‘ফলোয়ার’ বিক্রি করে ৪০ থেকে ২৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো আয় করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান৷ ফেইসবুকের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ২০০ মিলিয়নের মতো৷ শুধু লাইকই নয়, টাকার বিনিময়ে ওয়েবসাইট কিংবা ভিডিও-র জন্যও ক্লিক কিনছে অনেক প্রতিষ্ঠান৷

google, techshohor

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেইসবুক প্রায় ১০ বছর পেরিয়েছে। আর একে ঘিরে বাণিজ্যেরও শেষ নেই৷ শুধু জাকারবার্গ নয়, বিশ্বের প্রায় সব বড় প্রতিষ্ঠান, হলিউড, বলিউড তারকারাও ফেইসবুকের সুবিধা নিতে এগিয়ে আছে৷

সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে নিজেদের বেশি জনপ্রিয় তুলে ধরতে ‘ভুয়া লাইক’ কিনছেন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিশেষ৷ তারা তা পাচ্ছেন  খুব সস্তাতেও। কিন্তু সততা এবং নৈতিকতার প্রশ্নে ‘ভুয়া লাইক’ কেনা প্রতিষ্ঠান বা তারকার জন্য মোট কথা সবার ক্ষেত্রেই তা ক্ষতিকর৷ কোনো না কোনো সময় সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য কেনা এ ভূয়া লাইক তাদের বিপদে ফেলবে বলে অনেকের মন্তব্য।

এরপরও ফেইসবুক বা টুইটারের ব্যাপক জনপ্রিয় অধিকাংশ পাতা ‘ভুয়া লাইকে’ ভরা – এমনটা ভাবারও যৌক্তিকতা নেই৷ অনেক ক্ষেত্রে লাইক বাড়ার পেছনে উপযুক্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য কারণও থাকে৷

– এপি প্রতিবেদন থেকে

Related posts

*

*

Top