Maintance

আসল সিরি'র দেখা মিললো!

প্রকাশঃ ৭:১৫ পূর্বাহ্ন, অক্টোবর ৫, ২০১৩ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৭:১৫ পূর্বাহ্ন, অক্টোবর ৫, ২০১৩

টেক শহর : আইফোনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এখন সিরি। ২০১১ সালে আগমনের পর গত দু’বছরে আইফোন ব্যবহারকারীদের নিত্যদিনের সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে এই বুদ্ধিমান ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট। দরকারের সময় দিয়েছে আবহাওয়ার খবর থেকে শুরু করে খাবার দোকানের খোঁজ,উত্তর দিয়েছে প্রশ্ন কর্তার নানা উদ্ভট প্রশ্নের। আর সিরির এতোসব কর্মকাণ্ডের পেছনে যে নারী কণ্ঠ, সে কণ্ঠের মালিকের খোঁজ মিলেছে এবার। যন্ত্রের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের কাছে পরিচিত এ কণ্ঠ সুসান বেনেট নামে এক মার্কিন কণ্ঠ শিল্পীর। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় থাকেন তিনি।

যদিও অ্যাপল এ ব্যাপারে অফিসিয়াল কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি,কিন্তু বার্তা সংস্থা সিএনএনের অনুসন্ধান বলছে, মধ্য বয়সী এই নারী-ই হলেন সিরি। তিনি নিজেও তা স্বীকার করেছেন। আট বছর আগে তার একটি কোম্পানিকে দেওয়া ভয়েস রেকর্ডিংই পরে সিরিতে ব্যবহার করা হয়েছে।

সুসান জানিয়েছেন, সত্তরের দশকে অনেকটা আকস্মিক ভাবেই ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। শুরুর দিকে প্রচুর বিজ্ঞাপন ও ফোন সিস্টেমে কণ্ঠ দিয়েছেন। পরবর্তীতে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) চালু হওয়ার পর তাতেও কণ্ঠ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিমানবন্দর ও এটিএম মেশিনে তার কণ্ঠ শোনা যায়। আর সবশেষে, সিরির মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের বন্ধু কিংবা সহকারীতে পরিণত হয়েছেন তিনি।

Siri_Susan

কণ্ঠশিল্পীরা সাধারণত পর্দার আড়ালে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। এটি তাদের পেশাদারিত্বেরও অংশ। তাহলে কেন হঠাৎ নিজের পরিচয় ফাঁস করলেন সুসান? এর উত্তরে তিনি জানান, সিরির কণ্ঠ কার, নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্কের কথা শুনেছেন তিনি। বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক নারী নিজেকে সিরির কণ্ঠদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, যদিও ধোপে টেকেনি কারও দাবি।

এমনকি কিছু দিন আগে জোর গুজব ছড়িয়ে ছিল যে বিখ্যাত কণ্ঠাভিনেত্রী অ্যালিসন ডাফটি-ই হলেন সিরি। ডাফটি যদিও সেটা সরাসরি অস্বীকার করেছেন, তারপরও অনেকে জোর করেই সিরির আসনে বসিয়ে দিয়েছেন।

এসব কাণ্ড বেশ মজা পেয়েছেন সুসান। তবে শেষে ভাবলেন, ব্যাপারটা এতো গোপন রেখে লাভ কি? মানুষের এই অদম্য কৌতূহলতো তিনি মেটাতে পারেন!

আইনের দিক থেকে বাধা নেই জানার পরই অবশেষে সিএনএনের মাধ্যমে তিনি সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিলেন কে সিরির কণ্ঠের প্রকৃত মালিক। সিএনএনের পক্ষ থেকেও আধুনিক ভয়েস টেস্টের মাধ্যমে তিনি-ই যে সিরি, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে মজার ব্যাপার হলো, তার কণ্ঠই যে সিরিতে ব্যবহার করা হয়েছে তা কিন্তু সুসান জানতেন না। ২০০৫ সালে তিনি স্ক্যানসফট নামে একটি কোম্পানির প্রজেক্টে কণ্ঠ দিয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে তার কণ্ঠে উচ্চারিত বিভিন্ন শব্দ, বাক্য প্যারাগ্রাফ কে কনক্যাটেনেশন নামে একটি পদ্ধতিতে সিনথেসাইজ করা হয়। সিরির পরিকল্পনা করার সময় সুসানের এ রেকর্ডিংকেই উপযুক্ত কণ্ঠ হিসেবে বেছে নেন অ্যাপলের তৎকালীন সিইও স্টিভ জবস।

কিভাবে সিরির মুখে নিজের কণ্ঠ প্রথম শুনলেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে সুসান বলেন, “আইফোন ফোরএস বের হওয়ার পর এক সহকর্মী আমাকে মেইল করে বলল, নতুন আইফোনে যে কণ্ঠটা শোনা যাচ্ছে সেটা আমারই কিনা? আমি দ্রুত অ্যাপলের সাইটে গিয়ে সিরির ভিডিও ক্লিপ শুনলাম। সাথে সাথে বুঝতে পারলাম, আমি-ই কথা বলছি।”

সুসানের কণ্ঠের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নারীকণ্ঠ বেশিরভাগ সময়ই সরু হয়। কিন্তু সুসানের কণ্ঠ ভরাট ও পূর্ণ। সেকারণেই তার কণ্ঠ অসংখ্য যন্ত্রের জন্য উপযুক্ত।

তবে সুসান মনে করেন, যতই দিন যাবে সিরির মতো প্রোগ্রামগুলোর ভয়েস থেকে যান্ত্রিকতা কমে আসবে। কণ্ঠে মানবীয় ভাব প্রবল হবে।

অবশ্য সদ্য মুক্তি পাওয়া আইওএস সেভেনে সিরির কণ্ঠ পরিবর্তন করেছে অ্যাপল। ফলে গত দু’বছরে যারা সুসানের কণ্ঠে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন, তাদের এবার নতুন সিরির সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে। আর এই সিরির পেছনে কার কণ্ঠ আছে, তা জানার জন্য হয়তো অপেক্ষা করতে হবে আবার নতুন সিরি আসার আগ পর্যন্ত!

*

*

Related posts/