Maintance

গেইম খেলে জীবনধারণ

প্রকাশঃ ৩:০০ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ২৬, ২০১৬ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:০০ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ২৬, ২০১৬

শামীম রাহমান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অন্যান্য কিশোরের মতো দুষ্টুদের মেরেই সময় কাটত তার। রক্তারক্তি কাণ্ডও বাধাত ১৩ বছরের এ কিশোর। আঁতকে ওঠার দরকার নেই। কেননা সেই মারামারি হতো ভার্চুয়াল জগতে। কম্পিউটার বা ভিডিও গেইমেই শক্রুদের সঙ্গে লড়তেন আলেক্স ক্রপনক নামের ওই টিনএজার।

কিশোরকালের ভিডিও গেইম খেলার সেই নেশা তার বজায় ছিল পরের ১০ বছরও। এমনকি ২০০৩ সালে প্রথম বড় একটি ইন্টারনেট স্পোর্টস প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেন ক্রপনক। জিতেও যান দামি এক পুরস্কার।

পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলেন প্রায় দেড় হাজার ডলারের ল্যাপটপ, যা বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা পান। সেই অনুভূতি জানাতে গিয়ে ক্রুপনক বলেন, তখন ওই টাকার অনেক দাম। যা দিয়ে একটি গাড়ি পর্যন্ত কেনা যেত।

এভাবেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন ইউক্রেনের এ যুবক। এক পর্যায়ে তিনি অর্থ আয় করতেই ভিডিও গেইম খেলে বেড়াতেন। এটা তার রুটি রুজির অবলম্বন হয়ে ওঠে। তখনও অবশ্য এ ধরনের প্রতিযোগিতা কেবল শিশুকাল পার করছিল। তবে বেশ চলে যাচ্ছিল তার।

p03ftqgt

২০১১ সালে সেরা ফর্মের সময় শুধু গেইম খেলে ক্রপনক সাড়ে ৩৩ হাজার মার্কিন ডলার আয় করেছেন। পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে পেয়েছেন প্রতিমাসে দুই হাজার ডলারের চুক্তি করেছেন।

বর্তমান সবাই হয়ত ক্রপনকের মতো গেইম খেলে জীবিকা নির্বাহ করেন না, তবে কম্পিউটার বা ভিডিও গেমস খেলেননি এমন তরুণ-তরুণী খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের বড় অংশ একটা সময় গেমস খেলে সময় কাটিয়েছেন।

কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে বা সময় কাটানোর জন্য খেলা এসব গেমসই হয়ে উঠেছে কারও কারও পেশা। গেমিং করে মোটা অংকের টাকা আয়ের পাশাপাশি আকর্ষণীয় চাকরির সুযোগও পেয়েছেন সহজেই। ই-স্পোর্টস এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ খেলা দেখতে স্টেডিয়ামেও ঢল নামে দর্শকের। গত বছর সিউল অলিম্পিক স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন ৪০ হাজার দর্শক।

ই-স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, আকর্ষণীয় পুরস্কার ও চাকরির সুযোগের কারণে দিন দিন ই-স্পোর্টস জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ২০১৫ সালেই চার জন গেমার ১৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছেন। আরও অনেকের আয়ের পরিমাণ লাখ ডলারেরও বেশি।

p03ftqhf

নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সুপার ডাটার গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে ইন্টারনেট গেমিংয়ের বাজার প্রায় ৭৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের। ২০১৮ সালের মধ্যে যা ১৯০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, ২০১৫ সালে ১৮ কোটি ৮০ লাখ ব্যক্তি টিভি ও ইন্টারনেটে বিভিন্ন গেমিং প্রতিযোগিতা দেখেছেন, যা ২০১৩ সালের তুলনায় ৭ কোটি ১৫ লাখ বেশি।

সুপারডাটার প্রধান নির্বাহী ভ্যান ড্রিউনেন বলেন, ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী গেইম বিক্রি ১১৪ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে।

ড্রিউনেন বলেন, লিগ অব লিজেন্ডস, স্টারক্র্যাফট-২, ডেটা ২- এর মতো একাধিক খেলোয়াড় সম্পন্ন গেইমগুলোর প্রতিযোগিতা হয়। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, দক্ষতা ও দ্রুত গতির আঙ্গুল থাকলে এ টুর্নামেন্টগুলো সহজেই জেতা সম্ভব। একজন সাধারণ গেইমার প্রতি মিনিটে ১০০ বার বিভিন্ন অ্যাকশন করতে পারেন। যা পেশাদার গেইমাররা প্রতি মিনিটে ৩৫০ থেকে ৫০০ বার পর্যন্ত করতে পারেন।

gamer

বিশ্বের যে কোনো জায়গা থেকে যে কেউ এ ধরনের গেইমিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ায় গেইমিংয়ের বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান ড্রিউনেন।

গেইমিং প্রতিযোগিতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তি পেশাদার গেইমার হয়ে উঠেছেন। সংখ্যাটি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক খেলার মতো ভিডিও গেইমিংয়েও শুরুর দিকে খুব বেশি আয় করা যায় না। তবে এখানে ভালো করতে পারলে প্রচুর টাকা আয় করা সম্ভব।

তবে পেশাদার আলেক্স ক্রপনক সতর্কও করেছেন এ বিষয়ে। তিনি জানান, গেইমিং দীর্ঘদিন করা খুব কঠিন। যে কোনো সময় একটি গেইমের জনপ্রিয়তা কমে গিয়ে গেইমারদের আয় কমিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি গেইমিংয়ে দীর্ঘ সময় দেয়ার কারণে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে অনেক ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে একজন পেশাদার গেইমার চাইলেই সারাজীবন এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পাররেন।

বিবিসি অবলম্বনে

*

*

Related posts/