ভিন্নধর্মী উৎসবে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারসের জন্মদিন

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হ্যাকারদের কাজই হলো হ্যাক করা। আর সংগঠনের জন্মদিনে হ্যাকিং কার্যক্রম চলবে না এটা কি হয়! তাইতো শুভেচ্ছার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ওয়েবসাইট হ্যাক করে পালিত হচ্ছে দেশের অন্যতম হ্যাকার গোষ্ঠি ‘বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারস (বিবিএইচএইচ) এর জন্মদিন। ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি বাংলাদেশের সাইবার স্পেসকে সুরক্ষিত ও শত্রুমুক্ত রাখার লক্ষ্য নিয়ে বিবিএইচএইচ গড়ে তোলেন কিছু সংখ্যক তরুণ। দেশের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করাও ছিল সংগঠনটির আরেকটি লক্ষ্য।

এ বিষয়ে বিবিএইচএইচের মডারেটর ‘বাংলার ভূত’ বলেন, “বিবিএইচএইচের জন্মের পরই আমরা দেখি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ অত্যন্ত নির্মমভাবে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করছে। টিপাইমুখ, তিস্তা পানি চুক্তি স্বাক্ষর এবং সীমান্তে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে আমরা সর্বপ্রথম ভারতের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ ঘোষণা করি। ভারতীয় হ্যাকাররাও পাল্টা যুদ্ধ ঘোষণা করে। শুরু হয় তুমুল সাইবার যুদ্ধ। যুদ্ধে আমরা বহুসংখ্যক ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক করি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসে”।

Bangladesh Black Hat Hacker's Logo 2-TechShohor

শুরুর দিকের সেই সাইবার যুদ্ধের মাধ্যমে গোটা বিশ্ব বিবিএইচএইচের কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে পারে। সাইবার যুদ্ধে খুবই শোচনীয় ভাবে ভারত পরাজিত হয়।

বিবিএইচএইচের বর্তমান কর্মকান্ড সম্পর্কে ‘বাংলার ভূত’ জানান, “আমরা বাংলাদেশের সাইবার স্পেসকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেশের দুর্বল, ঝুঁকিপূ্র্ণ ওয়েবসাইটগুলোকে তাদের দুর্বলতা সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে। আমাদের কর্মকান্ডে সন্তুষ্ঠ হয়ে অনেকেই বিভিন্নভাবে বিবিএইচএইচের সাথে যুক্ত হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া”।

এদিকে বিবিএইচএইচের জন্মদিন উপলক্ষ্যে এর ফেইসবুক গ্রুপে আনন্দের জোয়ার বইছে। কেউবা জন্মদিনের উপহার হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওয়েবসাইট হ্যাক করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। কেউবা বিবিএইচএইচের সাথে তার সুদীর্ঘ পথচলার নানা ঘটনার কথা উল্লেখ ও সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারসের ট্রেনিং জোন খোলা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। হ্যাকিং শিখতে আগ্রহী যে কেউ এতে অংশ নিতে পারবে।

Related posts

টি মতামত

*

*

Top