Maintance

বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড-২০১৫ বিজয়ীরা

প্রকাশঃ ৬:০৬ অপরাহ্ন, নভেম্বর ১, ২০১৫ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:৩৮ অপরাহ্ন, নভেম্বর ৪, ২০১৫

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আউটসোর্সিং খাতে অবদান রাখায় ৯৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

সোমবার রাজধানীর কাকরাইলের ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড নামের এ পুরস্কার দেওয়া হবে।

এবার ৫ টি ক্যাটাগরির মোট ১০০ টি পুরস্কারের মধ্যে ৯৪ টি দেয়া হচ্ছে।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন শাখায় অনলাইন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং এ কাজে দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসাবে প্রতি বছর বেসিস এ পুরস্কার দিয়ে থাকে। আর তারই ধারাবাহিকতায় পঞ্চমবারের মতো দেয়া হচ্ছে এই বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড।

২০১৫ সালের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি থাকছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও থাকবেন শিক্ষা সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান ও তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার।

বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড-২০১৫ এর আহবায়ক শাহ ইমরাউল কায়ীশ টেকশহরডটকমকে জানান, পঞ্চমবারের এই অ্যাওয়ার্ডে স্টার্টআপ ক্যাটাগরি যুক্ত হয়েছে। এবার যারা পুরস্কার পাচ্ছেন তাদের সব দিক থেকে নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে হয়েছে।

কায়ীশ জানান, বেসিসের এই অ্যাওয়ার্ড ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় স্বীকৃতি। ভবিষ্যত আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা তাদের ব্যবসা ও উদ্যোগ পরিচালনায় বেসিস থেকে বিভিন্নভাবে সহায়তা পেয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, ২০১১ সাল থেকে বেসিস এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। এবারে প্রায় দুই হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন করেছিল।

 

basis outsourcing award

২০১৫ সালে নারী আউটসোর্সিং প্রফেশনাল ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ৩ জন। সন্ধ্যা রয়, অজান্তা রেজওয়ান মির্জা ও মৌমিতা মেশকাত।

একক আউটসোর্সিং প্রফেশনালে পেয়েছেন ৮ জন। খালেদ মো. শাহরিয়ার, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মো. মেহেরুল ইসলাম, মো. শাহজাহান রাসেল, মো. আরিফুর রহমান, শরীফুল ইসলাম, আরাফাত জাহান, মোহাম্মদ মনির হোসাইন।

আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে ১৫ টি প্রতিষ্ঠান অ্যাওয়ার্ড জিতেছে । ভিজার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড, এফ এম এশিয়া লিমিটেড, স্টাকচার্ড ডাটা সিস্টেমস লিমেটেড, বোর্ডি ভিসতা লিমিটেড, টপ অব স্টাক সফটওয়্যার, গ্রাফিক পিপল লিমিটেড, সিমপ্লেক্স হাব লিমেটেড, সার্ভিস ইঞ্জিন লিমিটেড, নাসেইনিয়া লিমিটেড, বিজেআইটি লিমিটেড, বিভি ক্রিয়েটিভস লিমিটেড, ব্রেইন স্টেশন-২৩, সেফালো-আমরাভি লিমিটেড, এম অ্যান্ড এইচ ইনফরমেটিকস লিমিটেড।

স্টার্টআপ কোম্পানি ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ১০ টি কোম্পানি। মোবিওঅ্যাপ লিমিটেড যার প্রতিনিধিত্ব করছেন মুহাম্মাদ জে. এইচ. লস্কর, উইডেভস এর নিজামউদ্দীন, জরা সল্যুউশন লিমিটেডের গোলাম জিলানী, ইনক্র্যাপ্টো মোবাইল অ্যাপসের জি এম তাসনিম আলম, সিলিকন অর্চাড লিমিটেডের এস এম শোয়েব আমিন, অ্যাডভান্সড অ্যাপস বাংলাদেশের শফিউল আলম বিপ্লব, ইমপ্লিভিসতা বিডির রবিউল ইসলাম, ইকরাসেইস সল্যুশন লিমিটেডের লিটন আলী খান, সিকিউপেন্টের সাদমান তানজিম রহমান এবং আউটসোর্সিং এক্সপার্ট লিমিটেডের আতাউর রহমান মোল্লা সুজন।

জেলাভিত্তিক সেরা আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৫৮ জন। যোগ্য আবেদনকারী না থাকায় বান্দরবন, ভোলা, ঝালকাঠি, খাগড়াছড়ি, মাগুরা ও রাঙ্গামাটিতে এই পুরস্কার পায়নি কেউ।

বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড-২০১৫ এর বিচারক ছিলেন ২০১১ এ সেরা ফ্রিল্যান্সার পুরস্কারপ্রাপ্ত এনায়েত হোসেন রাজীব। দ্যা ওয়েব ল্যাবের এই স্বত্ত্বাধিকারি টেকশহরডটকমকে জানান, ২০১৫ সালের অ্যাওয়ার্ড বাছাইয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। আমরা যোগ্যতার দিক থেকে কোনো আপোষ করিনি। কিছু কিছু জেলায় মানসম্মত প্রতিযোগী না পাওয়ায় সেখানে কাউকে মনোনীত করা হয়নি।

৫৮ জেলার বিজয়ীরা হলেন, মৌলভীবাজারের নন্দ্বীপ সিনহা, মুন্সিগঞ্জের সবুর খান, ময়মনসিংহের রফিক রহমান, নওগার আবু ফিরোজ মাহমুদ, নড়াইলের সৈয়দ মুহাম্মাদ হাসান, নারায়ণগঞ্জের বাদশাহ ফাহাদ, নরসিংদির মামুন মিয়া, নাটোরের আতিক-বিন জহুর, নেত্রকোনার জাহিদুল ইসলাম,নীলফামারির সঞ্জয় কুমার রায়, নোয়াখালির কাজী জিয়াউল হক, পাবনার তৌহিদুজ্জামান, পঞ্চগড়ের আব্দুল্লাহ আল মামুন, পটুয়াখালির আইয়ুব হাওলাদার রিপন, পিরোজপুরের শহিদুল ইসলাম, রাজবাড়ীর এ. রহমান পাটওয়ারী, রাজশাহীর নাসিরুল হক, রংপুরের মওদুদ ইসলাম, সাতক্ষীরার ফিরোজ আহমেদ, শরিয়তপুরের সাদিয়া আফরোজ, শেরপুরের আব্দুল্লাহ, সিরাজগঞ্জের রাশেদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জের রাহসালাহ সালাক, সিলেটের মহিউদ্দীন আহমেদ মহসিন, টাঙ্গাইলের জুবায়ের রহমান, ঠাকুরগাওয়ের সানোয়ার হায়দার।জামালপুরের  মো. নুরুল্লাহ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাজিউর রহমান।

রয়েছেন বাগেরহাট শেখ বাসাহারুল আলম সানি, বরগুনা পুনেন্দ্র বিশ্বাস, বরিশাল শংকর দাশ, বগুরা শাহানুর এ আলম, চাঁদপুর মো: ইসমাইল করিম জনি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম হিরো বড়ুয়া, চুয়াডাঙ্গা মো: আসলাম হাসিব, কুমিল্লা মো: আতাউর রহমান,
কক্সবাজার আরিফ ইসলাম, ঢাকা মো: মুশিউর রহমান তালুকদার, দিনাজপুর মো: শাকিল হোসাইন, ফরিদপুর মো: শাহাদাত হোসাইন, ফেনী মোহাম্মদ হাসান মেহেদী, গাইবান্ধা মো: মোস্তাফিজুর রহমান, গাজিপুর সাইফুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ উত্তম বড়াই, হবিগঞ্জ মোহাম্মদ আনোয়ার উল কবির চৌধুরী, যশোর এস এম সাইফুল আলম, জিনাইদা মো: মাহবুব হাসান রুমান, জয়পুরহাট মো: রাকিবুল ইসলাম, খুলনা শাহারিয়াল কবির, কিশোরগঞ্জ মো: আশরাফুল মবিন, কুড়িগ্রাম মো. জেনসিন আবেদিন, কুষ্টিয়া রবিউল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর মিয়া রায়হান মাহমুদ আরমান, লালমনিরহাট আহসান উদ্দিন নোমান, মাদারীপুর কাজী নেয়ামুল বাসির, মানিকগঞ্জ প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল, মেহেরপুর এনামুল হক।

অ্যাওয়ার্ডের আরেক বিচারক খোরশেদ আলম টেকশহর ডটকমকে জানান, এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তদের তুমুল প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়তে হয়েছে। যারা অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন তারা যোগ্য হিসেবেই জিতেছেন।

দুইবার বেসিস আউটসোর্সিং বিজয়ী খোরশেদ আলম আর এস সফটওয়্যার নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারি। তিনি বলেন, এখন মানুষের ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। আগে আউটসোর্সিং মানেই ওয়েব ডেভলপিং, এসইও এইসব বোঝাত। এখন ফটোগ্রাফি, রেসিপির লেখকরাও আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন করেছে। তাই এবার পুরস্কারে বৈচিত্র রয়েছে।

আরও পড়ুন: 

*

*

Related posts/