গেইমারদের রোমাঞ্চের বছর

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গেইম বিশ্বের জন্য ২০১৩ ছিল নিঃসন্দেহে উত্তেজনাপূর্ণ একটি বছর। গেইমারদের জন্য যেমন এটি প্রযোজ্য, তেমনি গেইম কোম্পানিগুলোর জন্য। গ্র্যান্ড থেফট অটো ফাইভ, দ্য লাস্ট অফ আস-এর মতো গেইম একদিকে গেইমারদের চাহিদা মিটিয়েছে, আরেকদিকে নির্মাতারাদের মোটা অঙ্কের লাভ দিয়েছে।

একইভাবে বছরের শেষ দিকে শীর্ষ গেইম কনসোল নির্মাতা মাইক্রোসফটের এক্সবক্স ওয়ান ও সনির প্লে স্টেশনের মধ্যে লড়াইটাও একদিকে গেইমারদের চাহিদা মিটিয়েছে, অন্যদিকে আনন্দ জুগিয়েছে।

অসংখ্য গেইমের মধ্যে থেকে শীর্ষ গেইম ম্যাগাজিন গেইমরাডার বাছাই করেছে টপ টেন গেইম। সব প্ল্যাটফর্মের মিলিত এ গেইমগুলোর সম্পর্কে টেক শহরের পাঠকদের জানাতে এ প্রতিবেদন।

the last of us_techshohor

দ্য লাস্ট অফ আস

কেবল প্লে স্টেশন থ্রির জন্য বের হওয়া গেইম তালিকার শীর্ষে থাকবে, এ আশ্চর্য বৈকি! কিন্তু এ বছর তা-ই করেছে দ্য লাস্ট অফ আস। মুক্তির তিন সপ্তাহ না পেরোতেই এটি ভেঙেছে ফিফা ও কল অফ ডিউটির মতো গেইমের রেকর্ড। সারভাইভাল গোত্রের এ গেইমের দুই প্রধান চরিত্র জোয়েল এবং এলিকে নিয়ে আপনাকে পালিয়ে বেড়াতে হবে শহরভর্তি জোম্বিদের মাঝে।

নিপুণভাবে গড়া পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাত্রায় নানা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হবেন। কাহিনীর হতাশা, খুশি আপনাকে স্পর্শ করবেই। তাই শ্রেষ্ঠ কাহিনীর খেতাবসহ এটি অর্জন করেছে আরও অসংখ্য পুরস্কার।

টুম্ব রাইডার

এটিও সারভাইভাল গেইম। তবে সাথে যুক্ত হয়েছে ফার্স্ট পারসন শুটিং। শুধু জোম্বির বদলে এখানে শত্রু হল মানুষ। আর পটভূমি শহরের বদলে পাহাড় ও  গহীন জঙ্গল। লক্ষ একটাই—জীবন বাঁচানো। সেটা করতে গিয়ে কখনো বাইতে হবে পাহাড়, কখনো সমুদ্র। জঙ্গল ও পাহাড়ি পরিবেশের সাথে মানানসই ছোট ছোট ইনটার‍্যাকটিভ দিয়ে এটি ভরপুর। তাই একেবারে বুনো অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ পাওয়া যাবে।

গেইমটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো লারা ক্রফট হিসেবে নতুন নায়িকার আবির্ভাব। বছর শেষে বেশকিছু পুরস্কারসহ গেইমারদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে গেইমটি।

বায়োশক ইনফিনিটি

অনেকটা ফ্যান্টাসি ধাঁচের বায়োশক ইনফিনিটি এ বছরের আরেকটি বড় আলোড়ন। ফার্স্ট পারসন ক্যামেরায় আপনি খেলবেন বুকার ডিউইট হয়ে। সার্বক্ষণিক সঙ্গী থাকবে বান্ধবী এলিজাবেথ, যে লড়াই থেকে শুরু করে প্রতি পদে সাহায্য করবে । শত্রুদের ধ্বংসের জন্য রয়েছে নানা রকম বিশেষ ক্ষমতা।

গেইমার ও সমালোচকরা পরিবেশের পাশাপাশি গেইমটির কাহিনীর বেশি প্রশংসা করেছেন। কাহিনীতে উনিশ শতকের শুরুর দিকের রাজনীতির ছোঁয়া রয়েছে। আর তার ডাল-পালা ছড়িয়েছে মেঘের ওপর রঙিন ও প্রাণবন্ত এক স্বপ্নের জগতে, যেখানে হারিয়ে যেতে বেশি সময় লাগবে না!

গ্র্যান্ড থেফট অটো ফাইভ

যে গেইম দু’দিনেই দ্রুততম বিক্রি হওয়া বিনোদনমূলক পণ্য হিসেবে খেতাব পায়, তার খ্যাতি সহজেই আন্দাজ করা যায়। প্রায় বছরখানেকের ফিসফিসানির পর অবশেষে রকস্টার গেমস বাজারে আনে গ্র্যান্ড থেফট অটো ফোরের উত্তরসূরিকে। এ গেইমের ওপেন ওয়ার্ল্ডে প্রধানত তুলে ধরা হয়েছে আজকের আধুনিক আমেরিকান লাইফস্টাইল।

সিরিজের প্রতিটি গেইমের মতো এতেও ঠিক বাস্তবের মতো ঘুরে বেড়াতে পারবেন। মোবাইলে ই-মেইল চেক করা থেকে শুরু করে প্লেন নিয়ে আকাশে উড়াল দিতে পারবেন যখন-তখন। মূল মিশনের পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি এতে রয়েছে, যার ফলে গেইমটি একেবারেই অন্য মাত্রা পেয়েছে।

সুপার মারিও থ্রিডি ওয়ার্ল্ড

বিশ্বখ্যাত এ ফ্রাঞ্চাইজকে যখন থ্রিডিতে রূপান্তর করা হলো, অনেক গেইমারই আশঙ্কা করেছিলেন সিরিজটির নিজস্বতা হারাতে পারে। কিন্তু ঘটেছে তার উল্টো। অন্য যে কোনো মারিও গেইমের চেয়ে এবারেরটি বেশি রঙিন, মজার ও নতুন নতুন বিষয়ে ভরপুর। তবে এটি কেবল উই প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে।

এতে মারিও লুইগি ও প্রিন্সেস পিচকে নিয়ে আবারও ফিরে যাবে মাশরুম কিংডমে। সেখানে স্প্রিক্সি নামে এক অদ্ভুত জন্তুর সাথে তাদের দেখা হবে। এরপর বাহারি গেইমপ্লের মধ্য দিয়ে কাহিনী এগিয়ে যাবে, মারিওকে চষে বেড়াতে হবে মাশরুমের দেশ। থ্রিডি পরিবেশ গেইমটির আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে গেইমাররা জানিয়েছে।

ব্যাটলফিল্ড ফোর

গত কয়েক বছরে ফার্স্ট পারসন শুটিং গেইমে প্রথমবারের মতো পিছিয়ে পড়েছে কল অফ ডিউটি সিরিজ। সেই সুযোগে এবার জায়গা দখল করে নিয়েছে ব্যাটলফিল্ড ফোর। ইলেকট্রনিক্স আর্টসের তৈরি এ গেইমটিকে চোখ বুজে বছরের সেরা শুটিং গেইম বলছেন সমালোচকরা।

battlefield game_techshohor

দারুণ গেইমপ্লে ও গ্রাফিক্সের সমন্বয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ২০২০ সালের এক যুদ্ধের কাহিনী। হেলিকপ্টার ধ্বংস করা থেকে শুরু করে আস্ত বহুতল ভবন ধসিয়ে দেওয়া- কিছুই বাদ দেওয়া হয়নি। এর মাল্টিপ্লেয়ারটি আলাদাভাবে প্রশংসা পেয়েছে। এ ছাড়া এর মাল্টিপ্লেয়ার মোডটি বিশেষ প্রশংসা পেয়েছে। প্রতিটি ম্যাচেই নতুনত্ব ও ভিন্ন ভিন্ন থ্রিল আছে। একসঙ্গে ৬৪ জন খেলতে পারেন মাল্টিপ্লেয়ার।

অ্যাসাসিনস ক্রিড ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ

এ যাবৎ কালের সেরা জলদস্যুর গেইম অ্যাসাসিনস ক্রিড ফোর ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ। ১৮ শতকের ক্যারিবিয়ান সাগরে গেইমের পটভূমি, আর নায়ক খাঁটি জলদস্যু এডওয়ার্ড কেনওয়ে। তুমুল জনপ্রিয় এ গেইম ফ্রাঞ্চাইজ একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ।

ac game for wp_techshohor

সমুদ্রকে কেন্দ্র করে এমন এক অ্যাডভেঞ্চার কাহিনীর স্বাদ এতে পাওয়া যাবে, যা এর আগে কোনো গেইমে ছিল না। স্পাইক ভিডিও গেইম অ্যাওয়ার্ডে এটি সেরা অ্যাকশন-অ্যডভেঞ্চার গেইমের পুরস্কার পেয়েছে।

ফায়ার এমব্লেম : অ্যাওয়েকেনিং

জাপানের প্রতিষ্ঠান নিনটেনডোর তৈরি রোল প্লেয়িং গেইম ফায়ার এমব্লেম অ্যাওয়েকেনিং। এর গেইম প্লে সাধারণ হলেও অদ্ভুত আকর্ষণীয়। তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেইমটি খেলে অনায়াসে কাটিয়ে দেওয়া যাবে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে শুধু জাপানে এটি প্রায় আড়াই লাখ কপি বিক্রি হয়। তবে এটি শুধু নিনটেনডো থ্রিডিএসের জন্য পাওয়া যাবে।

দ্য লিজেন্ড অফ জেল্ডা : আ লিংক বিটুইন ওয়ার্ল্ডস

তালিকার নবম স্থানে রয়েছে নিনটেনডো থ্রিডিএসের বিখ্যাত গেইম লিজেন্ড অফ জেল্ডার ২০১৩ সালের ভার্সন। নতুন নতুন ধাঁধাঁ, ঢেলে সাজানো গ্রাফিক্স, নতুন আইটেম কালেকশন সিস্টেম আর ওপেন-ওয়ার্ল্ড গেইমপ্লে—সব মিলিয়ে একে সিরিজের সেরা গেইম মনে হচ্ছে।

বরাবরের মতো এতেও আপনাকে লিংক হয়ে খেলতে হবে। আপনার কাজ হবে অশুভ শক্তির হাত থেকে হাইরুল রাজ্যকে রক্ষা করা। গেইমস্পট ম্যাগাজিন একে বছরের সেরা গেইমের খেতাব দিয়েছে।

গন হোম

অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার গেইমগুলোর ভিড়ে কখনোই তেমন জায়গা নিতে পারেনি স্টোরিকেন্দ্রিক গেইমগুলো। কিন্তু ২০১৩ ছিল এদিক থেকে টার্নিং পয়েন্ট। গন হোম হচ্ছে এমনই একটি স্টোরিভিত্তিক গেইম, যেটি সব সমালোচকদের প্রিয় তালিকায় স্থান পেয়েছে।

ক্লিশে মারামারি বা গোলাগুলির বদলে এ গেইমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আছে কেবল অনুসন্ধান। এর পটভূমি ১৯৯৫ সালের জুন মাস, যেখানে এক তরুণী বিদেশ থেকে ফিরে দেখে বাড়ি থেকে তার পরিবারের সবাই উধাও হয়ে গেছে। একে চলতি বছরের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী গেইম বলা হচ্ছে।

ট্যাগ

Related posts

*

*

Top