সেরা স্মার্টফোনের বছর

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্টফোনের যুগ চলছে এখন। নিত্যনতুন উদ্ভাবন এ প্রযুক্তিপণ্যকে নিয়ে গেছে নতুন উচ্চতায়। বিশ্বে গত কয়েক বছর ধরে এ ডিভাইসকে ঘিরে যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা চলছে, তা তুঙ্গে উঠেছিল ২০১৩ সালে। শীর্ষস্থানীয় প্রতিটি কোম্পানি নিজেদের সেরাটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাজার দখলে। এতে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে স্মার্টফোনপ্রেমীরা। বছর শেষে গ্রাহকরা সব দিক দিয়ে আকর্ষণীয় ফোনের সংগ্রহ পেয়েছেন।

বিদায়ী বছরের এমন দশটি স্মার্টফোনের কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে এ প্রতিবেদন।

আইফোন ফাইভএস
প্রতি বছর বাজারের সবচেয়ে কাঙ্খিত স্মার্টফোন থাকে অ্যাপলের আইফোন। ২০১৩ সালেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আইফোনের সর্বশেষ সংস্করণ ফাইভএস গত সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তি দেয় টেক জায়ান্টটি। ডিজাইন আগের মতো রাখলেও চমকপ্রদ কিছু প্রযুক্তি এতে যোগ করা হয়- যেমনও ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, ৬৪-বিট প্রসেসর ইত্যাদি। মুহূর্তে বিক্রির শীর্ষে চলে আসে ফোনটি।

i phone, techshohor

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোটথ্রি
নোট সিরিজের নিজস্ব একটি ক্রেতাগোষ্ঠী তৈরি করে নিয়েছে স্যামসাং। আর তাদের পরিধি বাড়ছে। বেশ বড় আকারের এ ফ্যাবলেটে এ বছর আনকোরা অনেক ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। চমৎকার ডিসপ্লে, অত্যন্ত শক্তিশালী হার্ডওয়্যারের সাথে রয়েছে বিশেষভাবে তৈরি স্টাইলাস এস-পেন। বিক্রির মাত্র তিন মাসের মাথায় ৩০ লাখ ইউনিট বিক্রি হয়েছে ডিভাইসটি।

এইচটিসি ওয়ান
বিগত কয়েক বছরের সব খরা ২০১৩ সালে অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে এইচটিসি, তাদের ওয়ান ফোনটি দিয়ে। বিক্রির দিক দিয়ে না হলেও মানের দিক থেকে একে বছরের সেরা ডিভাইসের অ্যাখ্যা দিয়েছে রিভিউ সাইট। ডিজাইন, কনফিগারেশন, ডিসপ্লে, পারফর্ম্যান্স—সবদিক দিয়েই যেন ফোনটি পরিপূর্ণ। ব্যতিক্রম সেন্সরের ক্যামেরা আর অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে এইচটিসির নিজস্ব অনেক সংযোজন একে দ্রুত জনপ্রিয় করেছে।

নোকিয়া লুমিয়া ১০২০
সামনের বছরগুলোতে নোকিয়া নামে নতনু স্মার্টফোন আর পাওয়া যাবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কেননা নোকিয়া এখন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফটের সম্পত্তি। সফলতম মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানির টালমাটাল বছরেও বছরের সেরা ক্যামেরা ফোন কোনটি- যদি প্রশ্ন করা হয়, নিঃসন্দেহে বলতে হবে লুমিয়া ১০২০ এর নাম। এর ৪১ মেগাপিক্সেল পিওরভিউ ক্যামেরার সাথে আদপে কোনোকিছুরই তুলনা চলে না। এমনকি পেশাদার ফোটোগ্রাফির কাজেও একে ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু ক্যামেরা নয়, স্পেসিফিকেশনের দিক দিয়েও এটির অবস্থান উপরের দিকে। এটিই বর্তমানে উইন্ডোজ ফোনের সবচেয়ে বড় ফ্ল্যাগশিপ।

samsung galaxy price reduce_TechShohor

স্যামসাং গ্যালাক্সি এসফোর
গ্যালাক্সি এস সিরিজ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। প্রতি বছর স্যামসাং নতুন কিছু না কিছু যুক্ত করে পরবর্তী সংস্করণ আনছে। আর বিক্রির দিক দিয়ে শীর্ষে চলে যাচ্ছে। বছরের শুরুর দিকে এটি বাজারে আসার পর এটি বছরজুড়ে অন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোর সাথে জোর লড়াই চালিয়ে গেছে। ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের এস ফোরে চোখ ও হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি রয়েছে। আরও আছে শক্তিশালী কনফিগারেশন।

সনি এক্সপেরিয়া জেডওয়ান
ধুলোবালি ও পানিরোধক হিসেবে বেশ সুনাম পেয়েছিল এক্সপেরিয়া জেড। তাতে প্রয়োজনীয় আপগ্রেড যুক্ত করে বছরের মাঝামাঝি সনি বাজারে আনে জেডওয়ান। দেখতে-শুনতে এটি উত্তরসূরীর মতোই, কিন্তু কনফিগারেশন ও পারফর্ম্যান্সে আরও তুখোড়। আকর্ষণীয় ডিজাইন আর ২০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার কারণে এটি অল্প সময়ে ক্রেতাদের নজর কেড়ে নেয়।

গুগল নেক্সাস ফাইভ
নেক্সাস সিরিজের বিশেষত্ব হচ্ছে এটি অ্যান্ড্রয়েডের জনক গুগলের নিজস্ব ফোন। তাদের তত্ত্বাবধানে নেক্সাসের নতুন ফোনটি তৈরি করেছে কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান এলজি। এই ফোনের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ভার্সন কিটক্যাট উমুক্ত হয়েছে। গুগলের নিজস্ব ফোন হওয়ায় অনেক ক্রেতা এর উপর ভরসা রাখছেন। তবে ফোনটির ক্যামেরার মান আশানুরূপ না হওয়ায় কিছুটা সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে।

Google_LG nexus 5_ Tech Shohor

এলজি জি ফ্লেক্স
স্যামসাং বাঁকানো ডিসপ্লের ফোন গ্যালাক্সি রাউন্ড ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যে এলজিও ঘোষণা দেয় তাদের বাঁকা ডিসপ্লের ফোন জি ফ্লেক্সের। অবশ্য স্ক্রিন ৬ ইঞ্চি হওয়ায় একে ফ্যাবলেট বলাই ভালো। অভিনব ডিজাইন ও উচ্চ কনফিগারেশনের সমন্বয়ে এটি সহজে নজর কেড়েছে।

মটো এক্স
একসময়ের তুখোড় কোম্পানি মটোরোলাও বাজার ধরে রাখার শেষ হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে অ্যান্ড্রয়েডকে। এর আগে কোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়ে তারা বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। তবে ব্যাপক হইচই করে অ্যানা মটো এক্স কিছুটা হলেও সে অভাব দূর করতে পেরেছে। কম দামে সেরা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অন্যতম উদাহরণ এটি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের বাইরে ফোনটিকে মুক্তি দেওয়া হয়নি এখনও। এটি তৈরিও হয়েছে সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রে।

ব্ল্যাকবেরি জেড৩০
আবারও সেই একসময়ের জাঁদরেল কোম্পানি! মটোরোলা বা নোকিয়ার চেয়েও অবস্থা খারাপ কানাডার এ ফোন নির্মাতার। ব্ল্যাকবেরি ওএস দিয়ে কিছুতেই পেরে উঠছে না আইফোন আর অ্যান্ড্রয়েডের সাথে। তারপরও ব্ল্যাকবেরি জেড১০ বেশও প্রশংসা পেয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় বছরের শেষদিকে এসেছে জেড৩০। খুবই আকর্ষণীয় ও জমকালো ডিজাইনের এই ফোনে ব্ল্যাকবেরি ওএস ১০.২ ব্যবহার করা হয়েছে। কনফিগারেশনের দিক দিয়েও উন্নত হওয়ায় সহজেই সেরার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

Related posts

*

*

Top